ইতিহাসের গতিপথই পাল্টে দিয়েছেন শেখ হাসিনা

  • 102
    Shares

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা নিজের মেধা, যোগ্যতা, প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একসময় যারা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলতো, তারাই এখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে আখ্যায়িত করেন। এখন বাংলাদেশ মানেই শেখ হাসিনা। কারণ তিনি বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এসব কথা বলেন আলোচকরা। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন।

মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, বঙ্গভঙ্গ করাই হয়েছিল জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার জন্য। বাঙালির মননে দ্বিজাতিতত্ব ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় যে যখন শাসন করেছে তাদের প্রায় সবাই এদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাম্প্রদায়িকতা পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয়েছে। এখনো বাংলাদেশে অনেকেই আছে যারা মনে প্রাণে পাকিস্তানকে ধারণ করে। অনেকেই হয়তো বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এরকম একটা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী একটা দেশে পরিণত করতে এককভাবে নেতৃত্বে দিয়ে যাচ্ছেন। তাকে বারবার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রৗ শেখ হাসিনার অবদানের কথা এত অল্প সময়ে বলে শেষ করা যাবে না। যখন তাকে নিয়ে ইতিহাস মূল্যায়ন করবে, তখন দেখতে পাবেন তিনি ইতিহাসের গতিপথই পাল্টে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২০ বছরের শাসনামল বাদ দিলে দেখতে পাবেন, সব সরকারই সাম্প্রদায়িকতাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র ছিল। এই ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা করেছে জিয়াউর রহমান। ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ২ কোটি লোক ভোট দেয়নি। এখন তারা সংখ্যায় বেড়েছে। তাদের নিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। তবে এই ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে হবে। এই করোনাকালে যারা রিপোর্ট নিয়ে নয়ছয়, মাস্ক এবং পিপিই দুর্নীতি করেছে, তাদের বাপ দাদারা ছিল শান্তি কমিটির সদস্য। একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসর এমনকি হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠরা আমাদের দলে অনুপ্রবেশ করে সরকারের সফলতাকে ম্লান করার অপচেষ্টা করছে। বাংলাদেশ করোনায় অনেক সফল দেশ। এখানে মৃত্যুর হার ১.২০ শতাংশ। আমাদের সফলতাগুলোকে ম্লান করে দিয়ে তারা সমাজে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করেছে। এমনকি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের পরিমাণ কমে আসলেও একটি গোষ্ঠী এদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আগে আমরা বুঝতে পারতাম পাকিস্তান আমাদের শত্রু। কিন্তু অনেক পাশ্চাত্য দেশে বড় হয়ে জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হয়ে তামিমের মতো জঙ্গিরা এদেশে এসেছিল। এসব বিষয়ে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। আমাদের শেষ আস্থার স্থল প্রধানমন্ত্রী। তাকে দেখলেই আমার কবিগুরুর কথা মনে পড়ে, ‘উত্তম নিশ্চিতে চলেন অধমের সঙ্গে।’ তিনি জানেন কে অধম। আমি তার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। তিনি না থাকলে আমার সন্তান নিশ্চিত থাকবে কিনা সেটা নিয়েও আমার সংশয় রয়েছে। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণ করেছি। সেখানে আনন্দ কুমার সাহা স্যার একটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছেন। শেখ হাসিনা বেঁচে না থাকলে তিনিও এই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন না। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসে একটি দেশকে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে দূরহ কাজটি একাই করতে পেরেছেন শেখ হাসিনা। আমরা তার সহযাত্রী মাত্র। আজকের এই দিনে শুধু তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

লেখক: অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)

চেয়ারম্যান, লিভার বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
সদস্য সচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ
অর্থ সম্পাদক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

শর্টলিংকঃ