এদেশের “শিক্ষিতদের” দ্বারা বানানো ছকে সার্টিফিকেটহীনরা আজ অসচেতন আর “মূর্খ”

লেখক : সাজ্জাদ হোসেন

ভেবে ছিলাম করোনা নিয়ে কিছু বলবো না। না বলে পারলাম কই!

সমস্যা কোথায় জানেন, করোনার পরিনতি কি, মৃত্যু। এইটাই তো আপনাদের ভয়!!কিন্তু পেটের দায়ে তো অনেকের মৃত্যু হয় ওই সব “রাস্তার” লোকেদের তাহলে করোনা আলাদা হলো কিভাবে এই রাস্তার লোকদের কাছে?

 

একটু পিছনে ফিরে যায় বর্তমানকে ধরে, যারা এই মহামারী করোনা কেন্দ্রিক সরকারি/ বেসরকারি উপহার প্রাপ্তির প্রথম সারির দাবিদার তারা আমার ঘুম থেকে ওঠার আগেই চায়ের টং-এ ২০/৩০ টাকা বিল করে ফেলতেছে। আর চায়ের টং-টা হয়ে যাচ্ছে মডারেটরহীন রাজনৈতিক টকশো। তারা কি গরু ছাগল নাকি তাই মাস্ক পরবে? সব ব্যাপারে তারা অসচেতন !

এই অসচেতনতা বলতে কি বোঝায় সচেতনরা, এইটাই এই টং এর মানুষ গুলোকে কেউ বোঝায়নি। এদের সাথে কাদাধূলো মেখে যারা সার্টিফিকেট অর্জন করেছে তারাও পেটি-বুর্জ্যোয়া হয়ে গ্রাম ছেড়েছে। দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতায় তারা সার্টিফিকেটওয়ালাদের চুলকাটানো- মেকাপকে নিজেদের মত শঙ্কুনির বেশ বলে আখ্যা দিয়ে “গরীবদের সংস্কৃতি” গড়ে তুলেছে নিজেদের মত। “গ্রাম্য মূর্খরা” তোমাদের তো সচেতন করতে যায়নি কখনো, হয়তো অস্তিত্বের সংকটে চায়তে পারে অর্থনৈতিক সাহায্য। কিন্তু কখনো কি পাশে থেকেছেন?

এলিটিজম এর নামে গড়ে তুলেছেন ক্লাস, পার্টি এবং স্টাটাস। কাদা মাখা আপনাদের স্টাটাসে যায়না কাদা মাখেননি ভাল কথা তাহলে আজ কেন এই “গ্রামীন চাষাদের” পায়ে ধরতেছেন করোনা থেকে দুরে থাকতে?
লাঠি পেটা কেন আজ? সংক্রমিত ভাইরাস তাই ওদের হাতের চা খেলে ওদের রিক্সায় উঠলে মরবেন তাই!! ভেবে দেখেন ইতিহাসের কোন এক পাতায় তারাও “জাতে” উঠতে চেয়েছিল আপনাদের কিন্তু মানিব্যাহীন বলে উঠতে পারিনি। যদি করোনা শেষে দুই জাতের দেখা হয় শান্তিপূর্ণ একটা বৈঠক দিও তোমরা।
কাছে এসে তাদের গল্প শুনো তাহলে করোনার চাইতে বড় মহামারী আসলেও মানুষের পৃথিবীতে মোকাবেলা করতে পারবে।

এবার আসা যাক “গ্রাম্যভূতেরা” কেন অসচেতন এবং করোনাকেন্দ্রিক দায়মুক্তি!

ফেসবুক ব্যাবহারকারীদের মাধ্যমে জানলাম বাঙালিরা সব শেষ, কেউ বাচাতে পারবে নাহ,বিলুপ্ত হয়ে যাবে, মূর্খদের কে বাচাবে ইত্যাদি ইত্যাদি!
(যদিও কথায় কথায় বাঙালি টেনে এনে দোষ দেওয়া আমার অপছন্দ) এসবের দোষ হিসাবে এদেশের মানুষের অজ্ঞতা আর অসচেতনতাকে দায়ি করে প্রকৃতমূর্খ বুদ্ধিজীবিরা নিজেদের দায় মুক্তি করেন।

ওদের যে অজ্ঞ বা মূর্খ বলেন এই অধিকার কই পাইলেন? জীবনে কি তাদের জ্ঞানদান বা সচেতনতার দায়িত্ব নিয়েছেন?নেননি তো। তাহলে নিজেদের কৃত এই বিচ্ছিন্ন ছকে করোনা আপনাদের জীবন নিয়ে যখন সাপলুডু খেলছে তখন এই “গ্রাম্যদের” সচেতনতার দায়িত্ব নিলেন। পেটের খবর বা কয় জন নিলেন?

করোনা এবং প্রশাসনের আদেশ অমান্যের নেপথ্যে কারণ :

এলিটরা মুখ ঘুরিয়ে নিলে নিজেদের আর্থসামাজিক অভিযোজনের মাধ্যমে হাজার বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্য গড়ে তুলেছেন এদেশের সার্টিফিকেটহীনরা।
ঝাল,পেজ, তেল নুন ধার করতে হয় রান্নার আগে সেই প্রতিবেশি “বু” এর কাছে না গেলে কি চলবে অথবা “বু” আসলে কিভাবে বাড়ি যেতে বলবে?
বাজারে গিয়ে সুখ-দুঃখ না বললে প্রীতি রক্ষা না হলে লাঙল জোয়াল ধার পাওয়া যাবে কি?
অস্তিত্বের কাছে করোনা কতই আর ভীতির দীপ্তি ছড়াবে।

নিজেদের নাগরিক দায়িত্ব আর মানবিক গুনাবলি নিয়ে আসেন দেখবেন সব মানুষের রক্ত লাল।

লেখক : সাজ্জাদ হোসেন, শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। 

 

(বাংলা প্রবাহ ২৪ ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, বাংলা প্রবাহ ২৪ ডটকম’র কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার বাংলা প্রবাহ ২৪ ডটকম নিবে না।)

 

বাংলা প্রবাহ ২৪ / এএ ডি 

শর্টলিংকঃ