করোনাকালীন সময়েও রাবিতে ভিসি বিরোধী ষড়যন্ত্র থেমে নেই

  • 278
    Shares

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন বিরোধী ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র করোনাকালীন সময়েও থেমে নেই। প্রশাসন বিরোধী নানা চক্রান্তের গোপন পরিকল্পনা বৈঠকে ষড়যন্ত্রকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শহরের বিভিন্ন স্থানে মিলিত হচ্ছে বলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাধিক শিক্ষক জানান, রাবির বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় আজ (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের শিক্ষক লাউঞ্জে সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মিজান উদ্দিনসহ তার অনুসারীরা এক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। সূত্রের তথ্য মতে, এই গোপন বৈঠকে বর্তমান প্রশাসন বিরোধী নানা ষড়যন্ত্রের নীলনকশার রুপরেখা তৈরি করা হয়। আরও জানা যায়, গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়া অধিকাংশ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র শিক্ষক জানান, মিজান-সজলের প্রশাসনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া নানা রকম অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাটের বিচার বন্ধ রাখার জন্যই এই রকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সাবেক প্রশাসনের হর্তা-কর্তাদের অপকর্মের বিচার বন্ধ করার জন্য কি কি কৌশল অবলম্বন করা যায় সে বিষয়েই মূলত এসব বৈঠকে আলোচনা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে ইউজিসিতে যে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তার তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে সাবেক ভিসি মিজান উদ্দিনের অনুসারীরা। বিশ্ববিদ্যালয় খুলার পর পরিকল্পিত বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করে তারা নিজেদের অপকর্ম লুকানোর ষড়যন্ত্র করছে। তাদের এসব ষড়যন্ত্র ও গোপন বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য নিজেদের লুটপাট ও অপকর্মের বিচার বন্ধ করা।

ভিসি বিরোধীদের গোপন বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এই ধরনের গোপন বৈঠক করা শৃঙ্খলার পরিপন্থি।‘

বৈঠক শেষে ডীনস কমপ্লেক্স থেকে সাবেক ভিসির অনুসারীরা বের হয়ে যাওয়ার সময় ডীনসের সামনে প্রগতিশীল ছাত্রনেতাদের দেখতে পান। ছাত্রনেতাদের দেখে ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়ার ভয়ে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে যেন বৈঠকের বিষয়ে কেউ জানতে না পারে, এমন অভিযোগ করেন এসব ছাত্রনেতারা।

সেখানে উপস্থিত বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, ‘সেখানে কিছু দরকারি বিষয়ে কয়েকজনের সাথে কথা বলছিলাম। এমন সময় ডীনস কমপ্লেক্স থেকে সাবেক ভিসির অনুসারীদের বের হতে দেখি। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ,অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন, সফিকুন্নবী সামাদী, অধ্যাপক একরামুল্লাহ, তারিকুল হাসান, মিজানুর রহমান(২), আজগর আলী, জাহাঙ্গীর আলম সাঊদ, সোলাইমান হোসেন, সুলতান উল ইসলাম টিপু, মোস্তাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, আসাবুল ইসলাম, মোস্তফা তরিকুল আহসান, খলিলুর রহমানসহ আরো অনেকেই। এছাড়া সাবেক উপাচার্য মিজান উদ্দিন বৈঠক থেকে আগেই বেড়িয়ে যান। তারা বের হয়ে আমরা কেন সেখানে আছি জানতে চেয়ে আমাদের নানা রকম হুমকি দিয়ে দেখে নিতে চান। আমরা এই জাতীয় ঘটানার তীব্র নিন্দা জানাই।‘ উপস্থিত অন্যান্য ছাত্রনেতারাও একই তথ্য জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতির সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির  বলেন, “রাবির সাবেক প্রশাসন এই মিজান-সজলের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও  কর্মচারীদের উপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল তার স্মৃতি চিহ্ন অনেকেই এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের এই ষড়যন্ত্র ১/১১ এর সময়েও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। সাবেক প্রশাসনের সময়ের স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা অপকর্ম ও দুর্নীতির বিচার ত্বরান্বিত যেন না হয়, সেই পরিকল্পনাতেই তারা সব সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের সময় যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা,গবেষণা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে, তখন এই উন্নতিকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য তারা ষড়যন্ত্র করবে এটাইত স্বভাবিক।”

বাংলা প্রবাহ/এম এম

শর্টলিংকঃ