কী দারুণ শৈশব

ছবি তুলেছেন : সাকিবুল আল ফারাবি

‘শৈশব’ শব্দটা শুনলেই কেমন যেনো একটা ধূসর জগৎ সামনে চলে আসে। ভারহীন,উৎকন্ঠাহীন কিংবা চিন্তাহীন একটা সময়। মানুষের সবচেয়ে আনন্দঘন সময় কাটে তার শৈশবে। কিন্তু শৈশবকাল যখন অতীত হয়ে যায় ঠিক তখনই তা উপলব্ধিতে আসে।রচিত হয় গল্প,কবিতা,গান। শৈশবের সৃতির পাতা যখন চোখের সামনে মেলে ধরে, ছায়াছবির মতো একের পর এক ভেসে ওঠে কত ঘটনা, কত ছবি। কিছু কিছু বেদনার আর কিছু কিছু আনন্দের। সব কথা হয়তো মনে পড়েনা,কিছু কথা আলো আধারের খেলায় ঢাকা পড়ে যায়। তবুও শৈশবকে যখন মনে পড়ে, তখন বর্তমানকে তুচ্ছ লাগে।

মানুষের জীবনে শৈশব একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সময়ের ব্যবধানে এসে মানুষ তার শৈশবকে খুজে ফেরে।

শৈশব মানুষের সঙ্গে ছায়ার মতো হাটে। সারাজীবন শৈশবের স্মৃতিকে মনে রেখে পথ চলে। মনের এক কোণে সবসময় ঘাপটি মেরে বসে থাকে প্রিয় সেই সমটা। শৈশবের বন্ধনটা সত্যিই এমন। এই বন্ধনের মাঝেই মনে ভাসে সেই সময়ের কিছু রঙিন স্মৃতি যেখানে ছিল খেলার মাঠ,একঝাক দুরন্ত বালক কিংবা বালিকা। এগাছ সেগাছ থেকে ফল চুরি। স্কুল পালানো আর মায়ের বকুনির সঙ্গে ভালবাসা। কত আনন্দ কত স্মৃতি। আহা! সোনালি শৈশব। এগুলো ঠিক যেনো দাদু নানুর মুখে শোনা রূপকথার গল্পের মতোই।

শৈশবের সেই মুহূর্তগুলি লাস্যময়ী লাবণ্যময়ী নারীর ভুবন জয় করা হাসির মতো, ফুরিয়ে গেলেও হৃদয়ে থেকে যায়। রমনী হারিয়ে গেলেও যেমন হাসির রেশটা থেকে যায়,মনের গভীরে ঠিক তেমনি ছোট বেলার দিনগুলি ফেলে এলেও দখল করে নেয় হৃদয়ের সমস্ত জমিনটা।

শৈশবের সবকিছুই ফিরে পেতে ইচ্ছা করে। কিন্ত তা তো হওয়ার নয়। কারণ সময়ের স্রোত চলে তার আপন গতিতে। যে স্রোত অতীত ফিরিয়ে দেয় না। তাই স্মৃতি হাতড়ে বেঁচে থাকতে হয় জীবনভর। মনের রঙিন ক্যানভাসে জীবন্ত চিত্রের মতো চির আম্লান হয়ে থাকবে

সেই হারানো দিনগুলি।

লেখক: শাহরিয়ার বেলাল

শিক্ষার্থী : ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।

ইমেইল: Sahrierbelal23@gmail.com

 

বাংলা প্রবাহ ২৪ / এএ ডি

 

শর্টলিংকঃ