ক্ষমতাসীন দলেও পাকিস্তানের বিশ্বস্ত খেদমতগারদের তৎপরতা দৃশ্যমান: শাহরিয়ার কবির

আজ ১৮ জুলাই (২০২১) বিকাল ৩.০০টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সিলেট জেলা শাখা আয়োজিত ‘জঙ্গী মৌলবাদের বিস্তার: বিপন্ন বাঙালি সংস্কৃতি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির এ কথা বলেন।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আবহমান বাঙলার সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতা। এই গাঙ্গেয় অবহিকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্নধর্ম এবং ভিন্ন জাতির ধর্মপ্রচারক, পর্যটক ও বণিকরা এসেছেন, যারা বাংলার আঞ্চলিক সংস্কৃতি, মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এক সমন্বয়ের ধর্ম ও সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন। এর প্রতিফলন আমরা দেখি প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মের নামে রাজনীতি বা জবরদস্তি বাংলার মানুষ সব সময়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তানের পাঞ্জাবকেন্দ্রিক শাসক গোষ্ঠী বাঙালিদের উপর বিজাতীয় ভাষা ও সংস্কৃতি শক্তিপ্রয়োগ করে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। বাঙালি সংস্কৃতির যাবতীয় অভিব্যক্তিকে ইসলামবিরোধ ও ‘হিন্দুয়ানি’ বলে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা তা পারেনি। বাঙালিত্বের চেতনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমরা ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়েছি। অন্যদিকে ইসলামের ধ্বজাধারীরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছিল। তবে তাদের বিশ্বস্ত খেদমতগারদের তারা বাংলাদেশে রেখে গিয়েছিল, যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে ১৯৭৫-এর পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানাতে চাইছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘকাল তারাই ক্ষমতায় ছিল। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি ক্ষমতায় থাকলেও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, এমনকি ক্ষমতাসীন দলেও তাদের তৎপরতা দৃশ্যমান। সুযোগ পেলেই তারা বাঙালি সংস্কৃতির উপর, সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর আঘাত করছে। জামায়াত-হেফাজতের মোল্লারা ওয়াজের নামে ভিন্নধর্ম, ভিন্নমত ও ভিন্ন জীবনধারার অনুসারীদের প্রতি অহরহ বিষোদগার করছে। অন্যদিকে সরকারি উদ্যোগে বাঙালি সংস্কৃতি প্রসারের ক্ষেত্র সংকুচিত করে ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো হচ্ছে, যা বঙ্গবন্ধুর দর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। বাঙালিত্বের যে সংগ্রামী চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়েছিলাম তরুণ প্রজন্মকে সেই চেতনায় আলোকিত করে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার সংগ্রামে আমাদের জয়ী হতে হবে।’

ওয়েবিনারে নির্মূল কমিটি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্তীর সভাপতিত্ব ও সঞ্চলনায় উপস্থিত ছিলেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সর্বইউরোপীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আনসার আহমেদ উল্লাহ, নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ডা. একরাম চৌধুরী, নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা রুবি হক, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক তাপস দাস, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়ার সহসভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমেদ ও সিলেট জেলা ওয়ার্কস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সিকান্দার আলীসহ সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, , ,
শর্টলিংকঃ