ঘাম আর অতিরিক্ত আর্দ্রতায় চুলের দফারফা? জেনে নিন পরিচর্যার উপায়

  • 4
    Shares

গরম হোক কিংবা স্যাঁতস্যাতে বর্ষা, স্ক্যাল্প ঘেমে যাওয়ায় অতিরিক্ত চুলকুনি কিংবা মুঠো মুঠো চুল পড়ার সমস্যা অনেকেরই নিত্যসঙ্গী! চেহারা পরিচর্যা করছেন, পোশাক-আশাকেও ফিটফাট, এদিকে ঘেমে-নেয়ে চুলের সমস্যার জেরবার! শরীর যত না ঘামে, তার চেয়ে অনেক বেশি ঘামে স্ক্যাল্প। চুলের গোড়া ভিজে জবজবে। প্রবল ঘাম, ঘাম বসে চুলে দুর্গন্ধ হওয়া। নেতিয়ে নিষ্প্রভ হয়ে যাওয়া। চুল না খুলে শান্তি পাওয়া যায়, না বেঁধে! অতিরিক্ত গরমে স্ক্যাল্প ঘেমে গিয়ে কারও বা প্রচণ্ড চুলকুনির সমস্যা হয়, আবার কেউ বা বর্ষায় চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন। তা এহেন পরিস্থিতিতে উপায় কী?

ঘাম আর অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে বাঁচতে চুলের প্রয়োজন একটু যত্ন-আত্তির। এখন এই করোনা আবহে অবশ্য সিংহভাগের কাজই অবশ্য বাড়ি বসে। অতঃপর বাইরে বেড়নোর ঝঞ্ঝাট নেই। তাই ঠিক এই সময়টাকেই কাজে লাগান চুলের যত্নের জন্য। চুলকে প্যাম্পার করতে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন বেশ কিছু হেয়ার প্যাক। যা লাগিয়ে দিব্যি অফিসের কাজে মন দিতে পারেন। রান্না করতে পারেন কিংবা সন্তানের পিছনে ছোটাছুটি করতে পারেন।

প্রথমেই বলি, কীভাবে স্ক্যাল্পের চিটচিটেভাব থেকে চুল বাঁচাবেন। হাওয়ায় ওড়ানো ফুরফুরে চুল পাওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় হল টকদই। এর সঙ্গে মিশিয়ে নিন আমন্ড অয়েল। টকদই খুশকি কমানোর কাজে লাগে আর, চুলকেও নরম করে তোলে। আধকাপ টকদইয়ের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল এবং ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে লাগিয়ে নিন। এরপর ১-২ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। দেখবেন কেশবতী কন্যার চাইতে কিছু মনে হচ্ছে না নিজেকে।

এবার বলা যাক, চুলকে নারিশ করার উপায়। পরিমাণমতো মধু এবং তার সঙ্গে অলিভ অয়েল মেশান। এটাকে হালকা গরম করে নিন। হট অয়েল মাসাজের মতো প্যাকটা ঘষে ঘষে মাথায় লাগিয়ে নিন। এবার উষ্ণ গরম জলে একটা তোয়ালে ভিজিয়ে জল ঝড়িয়ে নিয়ে মাথায় জড়িয়ে রাখুন। দেখবেন বেশি গরম যেন না হয়! কারণ, অতিরিক্ত গরম আবার স্ক্যাল্প ও চুল- এই দুইয়ের জন্যই খারাপ। আধঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। কিংবা নারকেল তেল হালকা গরম করেও স্ক্যাল্পে লাগিয়ে নিতে পারেন। পদ্ধতি এক্ষেত্রে একই থাকবে।

চুলের জেল্লা ফেরাতে পাতিলেবু, টকদই, চায়ের লিকার কিংবা বিয়ারের জুড়ি মেলা ভার। টকদইয়ে লেবুর রস, মধু মিশিয়েও লাগাতে পারেন। চুলের ভলিউম বাড়াতে হলে ডিম ফাটিয়ে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে লাগান। বেশ কাজে দেয়।

তবে প্যাক লাগানোর পাশাপাশি, খাদ্যাভ্যাসেও নজর দেওয়া জরুরী। বেশি ভাজাভুজি খাবার একেবারে নৈব নৈব চ! চুলের স্বাস্থ্যের জন্য রোজ সকালে ৬টা করে আমন্ড খেতে পারেন।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

,
শর্টলিংকঃ