চীনা নিরাপত্তা সামগ্রীর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করছে কানাডা

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী ফ্রাংকোস ফিলিপ শ্যাম্পেইন $ ৬.৮ মিলিয়ন মূল্যের ক্রয়কৃত চিনা নিরাপত্তা সামগ্রী পুনর্বিবেচনা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সামগ্রী গুলো বেইজিং ভিত্তিক হাইটেক কোম্পানি থেকে ক্রয় করা হয়েছিল, কোম্পানিটির সাথে চিনা সমাজতান্ত্রিক দলের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

গ্লোবাল নিউজ কানাডার প্রতিবেতনে বলা হয় এ সপ্তাহে বেইজিং ভিত্তিক কোম্পানি নিউটেক একটি গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডা বিশ্বব্যাপি ১৭০ টি কানাডিয়ান দূতাবাস কনস্যুল ও হাই কমিশনের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য এক্স রে স্ক্যানিং সামগ্রী ও সফটওয়্যার সিস্টেম স্হাপন করার জন্য একটি চুক্তি অনুমোদন করে।কোম্পানি টি চিন সরকারের মালিকানাধীন এবং চিন কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হু জিনতাও এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা।

শুক্রবার গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে অঙ্গীকার করেন ” নিরাপত্তা সম্পর্কিত সম্ভাব্য যেকোন বিষয় খতিয়ে দেখাব হবে, বিশ্বব্যাপি আমাদের মিশনগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমরা বর্তমানে নিউটেকের সাথে নিরাপত্তা সামগ্রী ক্রয়ের বিষয়টি পর্যালোচনা করছি” শ্য্ম্পেইন এক বিবৃতিতে বলেন। “গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স নিউটেক থেকে কোন সমাগ্রী এবার কিনছেনা”।

বিবৃতিতে আরো বলা হয় ” আমি আজকে জিএসি কে নিরাপত্তা সামগ্রী ক্রয়সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছি এবং বিশ্বব্যাপি আমাদের মিশনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি”।

বিশ্বের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিউটেকের প্রবেশাধিকার বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ থাকা সত্তেও চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়।

এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে সহজ ঋণ ও অবৈধ ডাম্পিং সহ বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে নিউটেকর উপর।

নিউইয়র্ক টাইমস বার বার নামিবিয়ায একটি দূর্নীতির মামলায় নিউটেকের জড়িত থাকার খবর প্রকাশ করেছে। নামিবিয়ার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মতে – ২০০৮ এর মে মাসে তিনজন সন্দেহভাজন $১২.৮ মিলিয়ন উপঢৌকন নিয়েছিল নিউটেক কে $৫৫ মিলিয়ন এর এক্ম-রে স্ক্যানার চুক্তি পাইয়ে দিতে, টাইমসের প্রতিবেদন।
রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সমালোচকদের অভিযোগ চিন সরকার তাদের কোম্পানি গুলোকে পশ্চিমা প্রতিযোগীদের চেয়ে কম মূল্যে নিলাম করার জন্য ভর্তুকি দিয়ে থাকে।

একই সময়ে ইউরোপের কিছু বিশ্লেষকের মতে নিউটেক সীমান্ত নিরাপত্তা স্থাপনায় সেবা দেয়ার নামে প্রতিনিয়ত হানা দিচ্ছে। চিন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, অনৈতিক রীতি এবং কিছু ইউরোপিয়ান রাজনৈতকের উপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ এর জন্য দায়ি।

কার্লেটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, সাবেক কানাডিয়ান নিরাপত্তা গোয়েন্দা কর্মকর্তা, স্টিফানি কারভিন বলেন যে নিউটেক চুক্তি কানাডার দূতাবাসগুলোর জন্য নিরাপত্তা শঙ্কার জন্ম দিয়েছে কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন চিনের ভূ-অর্থনৈতিক কৌশল আরো বড় আশঙ্কা।

কারভিন বলেছেন ” এটি হুয়াওয়ে নয়। আমি এতটা শঙ্কিত নই যতটা হতাম টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে”। কারভিন আরো বলেন ” নিউটেকের মত কোম্পানিগুলো প্রতিযোগী মনোভাবাপন্ন নয়, তারা কিছু ক্ষেতে চুরি করা প্রযুক্তি দিয়ে লাভবান হয় এবং তারা মূলত পশ্চিমা প্রযুক্তিগুলোকে ধ্বংস করতে চায়।”

, ,
শর্টলিংকঃ