চীন থেকে ফ্যাক্টরি স্থানান্তর করতে জাপানের অর্থ সহায়তা

  • 14
    Shares

চীন থেকে জাপানি কোম্পানিগুলোর ফ্যাক্টরি নিজ দেশে অথবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলোতে সরিয়ে আনতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে অর্থ সহায়তা প্রদান করবে জাপান সরকার। সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে এই নতুন কর্মসূচি নিয়েছে জাপান।

বেসরকারি মাস্ক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান “আইরিশ ওহিয়ামা ইনকরপোরেশন” ও “শার্প করপোরেশন” সহ মোট ৫৭ কোম্পানিকে ৫৭.৪ বিলিয়ন ইয়েন ( $৫৩৬ মিলিয়ন) অর্থ সহায়তা দিতে যাচ্ছে জাপান সরকার। শুক্রুবার জাপানের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রনালয় এই তথ্য নিশ্চিত করে। অপর এক ঘোষণায় বলা হয় যে আরো ৩০ টি কোম্পানিকে মায়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও দক্ষিন-পূ্র্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ফ্যাক্টরি স্থানান্তরে অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

নিক্কেই সংবাদপত্রের তথ্য মতে এ দফায় জাপান সরকার ৭০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তা দেবে। গত এপ্রিল মাসে চাইনিজ সরবারহ লাইনের উপর নির্ভরতা কমাতে ও জাপানি কোম্পানিগুলো চিন থেকে সরিয়ে নিজদেশে বা অন্য কোন দেশে সরিয়েনিতে জাপান সরকার ২৪৩ বিলিয়ন এর যে তহবিল গঠন করছিল সেখান থেকেই এই অর্থ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি, বাণিজ্য সম্পর্কের ক্রমশ চরম দুরবস্থা চিন থেকে ব্যবসা সরিয়ে আনার আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশে বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে জাপানের এই পদক্ষেপে তাইওয়ানের অনুরূপ। তাইওয়ান ২০১৯ সালে চিন থেকে তাদের কোম্পানি নিজ দেশে সরিয়ে আনতে কোম্পানি গুলোকে অর্থ সহায়তা দিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত অন্য কোন দেশ এ বিষয়ে শক্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

স্বাভাবিক সময়ে চীন জাপানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং জাপানের কোম্পানিগুলোর চিনে বৃহৎ আকারের বিনিয়োগ রয়েছে। করোনা ভাইরাসের বিশ্বব্যাপি সংক্রমন চিন-জাপানের বাণিজ্যিক সম্পর্কে চির ধরিয়েছে পাশাপাশি জাপানে চিনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। ২০১২ সালে জাপানে চিনবিরোধী দাঙ্গার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শিন জো এ্যাবে চিনের সাথে সস্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বর্তমানে মহামারী থেকে সৃষ্ট বিপর্যয় এবং দক্ষিণ চীন সাগরে দ্বিপ ও গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে দুদেশের আঞ্চলিক বিবাদ সেই প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

, , , ,
শর্টলিংকঃ