জামায়াত-বিএনপি কে প্রতিষ্ঠিত এবং দূর্নীতি করাই কি ছিল সাবেক প্রশাসনের মূলমন্ত্র?

  • 171
    Shares

২০১৩ সালের ২০ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য  হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজান উদ্দিন ও উপ–উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল।

উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং স্বাধীনতার পক্ষের অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে অশোভন আচরণ করার এবং ছাত্রদল ও শিবির কে ক্যাম্পাস এ আবার রাজনীতির সুযোগ করে দেওয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরিতে জামাত বিএনপি ঘরানার লোকদের সুযোগ করে দেওয়ার ব্যাপারেও ব্যাপক অভিযোগ করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন নিয়োগে আত্মীয়করন, স্থাপনা নির্মান ও উন্নয়ন কাজেও দূর্নীতি প্রমাণ পাওয়া যায় বলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে যানা যায়।

এপ্রিল ১৯, ২০১৫  তারিখে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি ছিল নিম্নরুপঃ

‘বিএনপি-জামায়াত তোষণ করছেন রাবি ভিসি’

 আ’লীগের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মিজানউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির তোষণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন খোদ রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টাকার বিনিময়ে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের লোকজনকে বিভিন্ন দফতরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ করা হয়। শনিবার দুপুরে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাহফুজুল আলম লোটন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।

আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর রাবিতে ১০ জন বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকের স্বজনদের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। যার মধ্যে চারজন ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলেও অভিযোগ করা হয়। এরা হলেন পরিসংখ্যান বিভাগের জামায়াতপন্থী শিক্ষক রেজাউল করিমের শ্যালক ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের জামায়াতপন্থী শিক্ষক সালাম ভূইয়ার ভাতিজা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ফয়সাল জামান, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, ইংরেজী বিভাগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপাচার্যের নিজ গ্রামের সাবেক শিবির নেতা আসিউজ্জামান এবং উপাচার্যে ভাগ্নে সাবেক শিবির নেতা হাবিবুল্লাহকে ফোকলোল বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

এছাড়া বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাবেক উপাচার্য ফাইসুল ইসলাম ফারুকীর ছেলে নাঈম ফারুকী ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগে, বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাবেক উপাচার্য আলতাফ হোসেনের মেয়েকে ভূগোল বিভাগে, বিএনপিপন্থী শিক্ষক সাফিউজ্জামানের (সাদা প্যানেলের সদস্য) স্ত্রী চৈতি অর্থনীতি বিভাগে, বিএনপিপন্থী শিক্ষক আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে তামজীদ হোসেন ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগে, বিএনপিপন্থী শিক্ষক শহিদুর রহমানের মেয়ে রিদা খাতুনকে দর্শন বিভাগে এবং বিএনপিপন্থী অপর এক শিক্ষকের স্ত্রীকে রাবেয়া বসরীকে অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছেন।  এছাড়াও উপাচার্য আঞ্চলিকতার কারণে জামায়াতপন্থী শিক্ষককে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শহীদ ফারুক হোসেনের বোনের চাকরি স্থায়ী করার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।   সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ১৬ এপ্রিল বিএনপি ও জামায়াত-শিবির তোষণ, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম-দুর্নীতি সম্পর্কে প্রতিবাদ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফারুকের বোনের চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানাতে উপাচার্যে দফতরে গেলে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এ সময় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক হাবিবুর রহমান মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেনকে লাঞ্ছিত করেন। কিন্তু উপাচার্য তার অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করার জন্য গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন।   সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী সাত দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেন নগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।“

‘বিএনপি-জামায়াত তোষণ করছেন রাবি ভিসি’ শিরোণামে ১৯ এপ্রিল , ২০১৫  তারিখে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের স্কিনশর্ট

দৈনিক সংগ্রাম প্রত্রিকায় ১৩ জুলাই ২০১৩ তারিখে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দেখে মনে হয়েছিল জামাত-শিবিরকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছেন। সংবাদটি  ছিল নিম্নরুপ –

‘রমযানের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাবি ভিসিকে শিবিরের ক্যালেন্ডার উপহার’

প্রকাশিত: শনিবার ১৩ জুলাই ২০১৩

“রাবি রিপোর্টার : পবিত্র মাহে রমযানের শুভেচ্ছা জানিয়ে গত বুধবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মিজান উদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করে রমযানের তোহফা ও ক্যালেন্ডার উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাবি শাখার একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রশিবির রাবি শাখার সভাপতি মো: আশরাফুল আলম ইমনের পক্ষ থেকে ভিসির হাতে এ উপহার তুলে দেয়া হয়। রাবি শিবিরের তথ্য সম্পাদক হাসিবুল আলমের নেতৃত্বে সংগঠনটির বিভিন্ন আবাসিক হলের সভাপতিবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। পরে ভিসি প্রতিনিধি দলের কাছে সংগঠনটির সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। এসময় তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শিবির নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন। রাবি শিবিরের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকেও ভিসিকে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। এছাড়া প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ প্রশাসনিক ভবনের সকল কর্মকর্তাকে রমযানের শুভেচ্ছা ও ক্যালেন্ডার প্রদান করা হয়।”

‘রমযানের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাবি ভিসিকে শিবিরের ক্যালেন্ডার উপহার’ শিরোণামে ১৩ জুলাই ২০১৩ তারিখে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের স্কিনশর্ট

এছাড়া বিভিন্ন পত্রিকায় সাবেক প্রশাসনের নানা দূর্নীতি অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেস্ট হাউজের জমি কেনা নিয়ে ব্যাপক দূর্নীতির কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান ও উন্নয়ন কাজেও দূর্নীতি প্রমাণ পাওয়া যায় বলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে যানা যায়।

আমরা চাই সাবেক প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠা এসব অভিযোগের দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

লেখকঃ মোঃ আব্দুল্লা আল মামুন

সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা

সাবেক সাধারণ, সম্পাদক মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

, ,
শর্টলিংকঃ