ড. মোজাম্মেল হক খান কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় দুদকের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কমিশনার, জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। মাদারীপুর জেলার কৃতি সন্তান ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সাউথ এশিয়ান এ্যাসোসিয়েশন অব ন্যাশনাল স্কাউট অরগানাইজেশন (সানসো) এর চেয়ারম্যানও তিনি। এছাড়া জাইকা এলামনাই এসোসিয়েশন অব বাংলদেশ এরও তিনি সভাপতি।

ইতোপূর্বে তিনি এই এসোসিয়েশনের সার্কভুক্ত দেশের ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ফোরামের উপদেষ্টা। সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন এর সভাপতিসহ ডজনখানেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ন্যায়, নিষ্ঠ, সৎ ও আদর্শবান একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মোজাম্মেল হক খানের সুনাম ও খ্যাতি দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছে। তার মতো নির্লোভ, দুর্নীতি বিমুখ, ন্যায় নিষ্ঠাবান, সৎ আদর্শবান ও কর্তব্য পরায়ণ মানুষ দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় দুদকের ভাবমূর্তি বহুলাংশে উজ্জল হয়েছে।মোজাম্মেল হক খান ১৯৫৯ সালে মাদারীপুর জেলার পাঁচখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে এসএসসি, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে বিএসএস (অনার্স) এবং এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি মিশরের কায়রো ডেমোগ্রাফিক সেন্টার থেকে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ে এসডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পিএইচডি সম্পন্ন করেন জনপ্রশাসনে। তিনি ১৯৮২ সালে নিয়মিত ব্যাচে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্য হিসাবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন।ড. মোজাম্মেল হক খান তার বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে সহকারী কমিশনার, ম্যাজিস্ট্রেট, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্মসচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মহমান্য রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তিনি সরকারের সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং দায়িত্ব পালন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, আইএমইডি, পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় ও জ্বালানি বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগে সচিব পদে নিয়োজিত ছিলেন। ২০০১৪ সালে তিনি সিনিয়র সচিব হিসাবে পদোন্নতি পান। সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও বিশ্বাস তার। ড. মোজাম্মেল হক খানের ব্যক্তিত্ব, সদাচারণ ও সরকারি নির্দেশ পালনে পূর্ণ আনুগত্য সম্পর্কে প্রশংসা করছেন রাষ্ট্রের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ নাগরিকরাও। একজন ন্যায়-নিষ্ঠাবান ও বিনয়ী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতি প্রিয়জন হয়ে উঠেছেন। তার অধিনে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী তার সদাচারণের ভক্ত। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধেও তিনি বিনয়ের সঙ্গেই শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে থাকেন। এবং সে অবস্থানে তিনি থাকেন অটল ও অবিচল।

মা কথাটি ছোট্ট অতি/ কিন্তু যেন ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর/ত্রি ভুবনে নাই। মায়ের প্রতি ড. মো. মোজাম্মেল হক খানের ভালোবাসা অকৃত্রিম। মাকে তিনি নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। জীবনে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের মতামতকে গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন তার আজকের অবস্থানে আসার পেছনে মায়ের দোয়া ও পরিশ্রম সবচেয়ে বেশি।

স্বার্থপর পৃথিবীতে নিজস্বার্থ ছেড়ে নিস্বার্থ হওয়া সাদা মনের মানুষ পাওয়া ভার। কিন্তু এই কঠিন ব্যস্তবতায়ও কিছু মানুষ থাকেন যাদের জন্যই আমরা এগিয়ে যাবার আলো দেখতে পাই। তেমনি একজন আলোকিত মানুষ ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। তরুণ প্রজন্মকে উচ্চ শিক্ষায় অধিষ্টিত করতে মাদারীপুর সদরের পাঁচখোলায় ড. মো. মোজাম্মেল হক খান কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজটিকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পাবলিক পরীক্ষায় শুরু থেকেই এ কলেজটি ভাল ফলাফল করে আসছে। প্রায় প্রতি বছরই ফলাফলের দিক থেকে এ কলেজটি মাদারীপুরে ভালো অবস্থান করছে।

ড. মো. মোজাম্মেল হক খান মাদারীপুর সদর উপজেলায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন এতিমখানা, প্রবীণ নিবাস, স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র, অবহেলিত কিশোর- কিশোরদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এইসব প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি তার পৈত্রিক সম্পত্তির প্রায় সমস্তটাই দান করেছেন। অবহেলিত শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিতকরণসহ প্রবীণদের জীবনের শেষ দিনগুলো স্বস্তিদায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ করার জন্য তিনি এসব প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ড. মো. মোজাম্মেল হক খান জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অসীম ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দৃঢ় মনোবল নিয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের সংবিধান এবং গণতন্ত্রের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও অবিচল আস্থা রেখে দেশপ্রেমিক একজন কর্মকর্তা হিসেবে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া স্বপ্নাদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে বহুমাত্রিক উদ্ভাবনী কর্মকৌশলের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশকে সাফল্যের স্বপ্ন-শিখরে পৌঁছে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।

ড. মো. মোজাম্মেল হক খান মনে করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম হয়েছিল বলেই আমরা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র পেয়েছি। আজকে আমি-আপনি বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে গর্বের সঙ্গে পরিচয় দিতে পারছি। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন বলেই আমরা বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছি। কারণ দেশে যতসব বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে, তার সবগুলোই দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাত ধরে। সারাবিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন নন্দিত নেতা। আর শেখ হাসিনার আশীর্বাদের হাত আমার উপর আছে বলেই আমি মোজাম্মেল হক খান আজ এ পর্যন্ত এসেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে কাজ করতে পারার দুর্লভ সুযোগের জন্য আমি গর্বিত।

বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করাতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ড. মো. মোজাম্মেল হক খানের তৎপরতায় দুদক এখন দুর্নীতিবাজদের কাছে ভীতিকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। দুদক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে সব ধরনের হস্তক্ষেপের ঊর্ধ্বে থেকে নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মোজাম্মেল হক খানে মনে করেন, দায়িত্ব পালনে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার এবং দুর্নীতি মুক্ত থেকে সরকারি পরিষেবা প্রদান করা সরকারি কর্মকর্তাদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। দেশের উন্নয়ন এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধির বিকাশমান ধারা অব্যাহত রাখার জন্য দুর্নীতি দমনের বিকল্প নেই। সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ নিশ্চিত করতেই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান করোনাক্রান্ত সময়েও অব্যাহত রাখা হয়েছে। বর্তমানে দুদকের কর্মপরিধির কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কার্যক্রম সব স্তরে বিকশিত হচ্ছে। দুদক দুর্নীতি প্রতিরোধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অবলম্বন করেছে।

#বাংলা প্রবাহ/এএল

শর্টলিংকঃ