দুঃসময়ের অতন্দ্র প্রহরী আব্দুস সোবহান স্যার আজ ষড়যন্ত্রের শিকার

  • 379
    Shares

বলছি ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাবির বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহসভাপতির কথা, ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহবায়কের কথা, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে কারাবন্দী (১০৪ দিন) শিক্ষক নেতা আজকের রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান স্যারের কথা। যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যে বিশ্ববিদ্যালয়টি একসময় শিবিরের ক্যান্টনমেন্ট বলে পরিচিত ছিল সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছিল উপেক্ষিত। দায়িত্ব পালনের আগের থেকেই সেসব বাস্তবায়নে রাবি ক্যাম্পাসে সোচ্চার উপাচার্য আব্দুস সোবহান। তাইতো দায়িত্ব পাওয়ার সাথে সাথেই বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ইতিহাস বাস্তবায়নের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে গেছেন। যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে কখনও হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রজন্মদের মেধার ভিত্তিতে সংযুক্ত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতির সামনে মডেল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন প্রতিনিয়ত।

এই সময়ের মধ্যেই করেছেন অসংখ্য কাজ। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, নির্মিত হচ্ছে যাচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নামে ‘শেখ হাসিনা’ হল, জাতীয় চার নেতাদের অন্যতম এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামানের নামে হল, নির্মাণ সমাপ্তির পথে শেখ রাসেল মডেল স্কুল, বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু কর্ণার স্থাপন, প্রশাসন ভবনের নিচতলায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও ৭ ই মার্চের ভাষণ,প্রশাসন ভবনের নিচতলায় বিশ্ববিদ্যালয় আর্কাইভ। বঙ্গবন্ধু হলে জাতির পিতার ম্যুরাল, বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রশাসন ভবনসহ সকল ভবন জাতীয় চার নেতাদের নাম সহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের নামে নামকরণ, নবাব আব্দুল লতিফ হলের ২য় তলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও বঙ্গবন্ধু পাঠাগার স্থাপন, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ম্যুরাল, শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনে শামসুজ্জোহার ম্যুরাল স্ফুলিঙ্গ, শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে হবিবুর রহমানের ম্যুরাল(কলাম) ৪র্থ বিজ্ঞান ভবনের নাম বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড.এম ওয়াজেদ আলীর নামে নামকরণ, শেখ কামালের নামে স্টেডিয়াম। ২০ তলা একাডেমিক ভবন ও শিক্ষকদের জন্য ১০ তলা টাওয়ার নির্মাণ কাজ অচিরেই শুরু হতে যাচ্ছে।

তার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে আজ শিবির বিশ্ববিদ্যালয়ে অপতৎপরতা চালাতে পারেনা। এদিকে থেমে নেই ওয়ান-ইলেভেনে ফ্রিডম পার্টির নেতা সহ বিএনপি-জামাতের পৃষ্ঠপোষকতা করা ষড়যন্ত্রকারীরা। জামাত-শিবিরের পৃষ্ঠপোষক এই শিক্ষকরাই একসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময়ে শিবির-জামাতকে করেছে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাদের সমস্ত অপকর্মের নথি জাতির সামনে আবারও উম্মোচন হোক।

মিজান উদ্দিন -সরোয়ার জাহান সজল প্রশাসন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অতিথি ভবনের জমি কেনার নামে ১৩কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। শুধু তাই নয়! বঙ্গবন্ধু ও শহীদ বুদ্ধিজীবি ভাস্কর্য নির্মাণে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৮২ লাখ টাকা হরিলুট। এই স্মৃতিফলকে জাতির পিতাকে চরমভাবে অবমাননা করা হয়। এমন কোন দুর্নীতি ও সেচ্চাচারীতা নাই যা সাবেক উপাচার্য মিজান উদ্দিন করেননি। টেন্ডার ছাড়া ২০ কোটি টাকার সার্টিফিকেটের বিদেশি কাগজ কিনেছে। মিজানের কুকর্মের অন্যতম হোতা সাড়ে কোটি টাকা হেকেপ প্রজেক্টের হরিলুট করেছে। লিফটের জন্য বরাদ্দকৃত ৮৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে কিন্তু লিফট নেই। ভাউচারে ১০ টাকার কলম ১১০০০ টাকায় কিনেছে। এরকম হাজারো অপকর্ম করে গেছে সাবেক প্রশাসন। দুর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ অবৈধ টাকা ইনকাম করে বিলাসী জীবন যাপন করা এই দুর্নীতিবাজরাই এখন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ব্যস্ত। মনে হয় দুর্নীতির টাকা শেষ হয়ে গেছে, তাই একটু ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটফট করছে।

সাবেক উপাচার্য মিজান, উপ উপাচার্য সজলের বিএনপি জামাতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার আমলনামাঃ

১) পরিসংখ্যান বিভাগের জামায়াতপন্থী শিক্ষক রেজাউল করিমের শ্যালক ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের জামায়াতপন্থী শিক্ষক সালাম ভূঁইয়ার ভাতিজা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ফয়সাল জামানকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছে মিজান উদ্দিন।

২) সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মোস্তাফিজুর রহমানকে পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছে মিজান উদ্দিন।

৩)ইংরেজী বিভাগে প্রভাষক পদে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপাচার্যের নিজ গ্রামের সাবেক শিবির নেতা আসিউজ্জামানকে নিয়োগ দিয়েছে মিজান উদ্দিন।

৪) উপাচার্যের শ্যালকের কন্যা জামাতা শিবির নেতা হাবিবুরকে ফোকলোর বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছে।

৫) বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাবেক উপাচার্য ফাইসুল ইসলাম ফারুকীর ছেলে নাঈম ফারুকীকে ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছে মিজান উদ্দিন।

৬) জিহাদ শিবিরের সক্রিয় কর্মী যাকে ভূগোল বিভাগে প্রভাষক হিসেবে চাকুরী দিয়েছে মিজান উদ্দিন।

৭) বিএনপিপন্থী শিক্ষক সাফিউজ্জামানের স্ত্রী চৈতিকে অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছে মিজান উদ্দিন।

8) বিএনপিপন্থী শিক্ষক আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে তামজীদ হোসেনকে ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছে মিজান উদ্দিন।

৯) বিএনপিপন্থী শিক্ষক শহিদুর রহমানের মেয়ে রিদা খাতুনকে দর্শন বিভাগে প্রভাষক পদে এবং

১০) বিএনপিপন্থী অপর এক শিক্ষককের স্ত্রী রাবেয়া বসরীকে অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছে।

১১) এছাড়াও উপাচার্য আঞ্চলিকতার কারণে জামায়াতপন্থী শিক্ষককে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন।

১২। সাবেক উপাচার্য মিজান উদ্দিন তার নিজ কন্যাকে ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদানের জন্য শুধুমাত্র ইংরেজি বিভাগের নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন করেন। কিন্তু মেয়ের নিয়োগের ছয় মাসের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অস্বাভাবিক শর্ত দিয়ে পরিবর্তন করেন।

এরকম হাজারো অপকর্ম করেছে মিজান-সজল ।আজকে যারা অভিযোগের নামে ষড়যন্ত্র করছে, মিজান-সজলের সকল অপকর্মের হোতা এরাই। অথচ, এরা কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে নুন্যতম ভূমিকা রাখেনাই। বরং জামাত-শিবির কে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে প্রতিনিয়ত তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, এদের ই একজন সুলতানুল টিপু । যার পিতা ৭১ এর কুখ্যাত রাজাকার, যার আপন বড় ভাই অধ্যাপক সোলেমান আলী সরকার-দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা। জামায়াতের সর্বোচ্চ রোকন পদে আছে। পুরো পরিবার জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং এভাবেই চক্রান্তকারীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিতর্কিত-হেয়-প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

লেখকঃ আখেরুজ্জামান তাকিম

সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, ,
শর্টলিংকঃ