পুরনো নিয়মে হচ্ছে না শিক্ষক নিয়োগ

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে পরবর্তী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। ই-রিকুইজিশন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে শিগগিরই। গত নিয়োগে হওয়া জাটিলতা এড়াতে ই-রিকুইজিশন বা শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনছে এনটিআরসিএ।

পরবর্তী শিক্ষক নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়ায়ও পরিবর্তন আসছে জানিয়ে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন বলেন, নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়াটা গত বছরের মত আর থাকছে না।

এস এম আশফাক হুসেন বলেন, আগামী আবেদনের সময় যারা দরখাস্ত করবেন তারা দরখাস্ত করার সময় সব ক্লিন পাবেন। ওনাদের আর সন্দেহের মধ্যে থাকা লাগবে না। আগে যেটা ছিল সেটা হলো সিলেকশন করা লাগত। আসলে বেশি যে সমস্যা হয়ে গিয়েছিল কম্ববক্স থেকে ড্রপডাউন মেনু দিয়ে সিলেক্ট করতে হতো পদের নাম।

‘সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ ও ফিজিক্যাল সাইন্স এই দুইটা পাশাপাশি থাকার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ই-রিকুইজিশনের জন্য যখন সিলেক্ট করতে গেছেন তখন ভুলে ফিজিক্যাল সাইন্সে না করে ফিজিক্যাল এক্সারসাইজে ক্লিক করে ফেলছেন। এখন যে শূন্য পদ পেয়েছে ফিজিক্যাল এক্সারসাইজে অথচ নিয়োগ দিয়েছে ফিজিক্যাল সাইন্স কিন্তু গিয়ে দেখা যায় সেখানে এই পদই নেই।’

এ সমস্যার পর এখন প্রধান শিক্ষক বলছেন আমিতো এটা দেই নাই। অসলে ওনি মনে করেছেন আমি সিলেক্ট করেছি ফিজিক্যাল সাইন্স কিন্তু এটা যে সিলেকশনের সময় ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ সিলেক্ট হয়ে গেছে যেটা ওনি বুঝতেই পারেন নাই। আর তাই আমরা সফটওয়্যারকে অনেকগুলো কন্ডিশনাল মাসকিং করব, যাতে করে কেউ ভুল তথ্য না দিতে পারে।

উদাহরন হিসেবে এস এম আশফাক হুসেন বলেন- ধরুন সব পদ আমি দেখাব না, এই স্কুল যে কয়টা পদ আছে ক্লিক করলে শুধু ওই কয়টাই দেখাবে। আবার ধরুন- ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ নাই যেই স্কুলে এখানে এটা দেখাবেই না। কিন্তু এখন কম্ববক্সটাতে দেশের যত পদ আছে সব আছে।

তিনি বলেন, আমরা এগুলোকে আরো ফিল্টারিং করব। ফিল্টারিং করলে ওই স্কুলে যে কয়টা আছে শুধু ওই কয়টাই যদি আমি দেখাই তাহলে ভুল করার সম্ভাবনা কম থাকবে।

এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান বলেন, এবারের দরখাস্ত ও ই-রিকুইজিশন করার প্রক্তিয়াটা ইউজার ফ্রেন্ডলি হবে। দরখাস্ত করার ক্ষেত্রেও আমরা সব দিক-নির্দেশন দিয়ে দিব কিভাবে ফিলাপ করতে হয়।

তিনি বলেন, আমরা ই-অ্যাপ্লিকেশন ও ই-রিকুইজিশন দুটাই পর্যালোচনা করে ফেলেছি, এবং ফাইনাল পর্যালোচনা ই-রিকুইজিশন এই মাসের আগামী সপ্তাহে হবে। সেখানে যেসব জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বুঝতে সমস্যা হতে পারে সেগুলোকে আরো পরিক্ষার করে দিব। ইতোমধ্যে আমাদের টিম করে ফেলছে, ফাইনালটা আমি দেখব।

এস এম আশফাক হুসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাতেহাতে দেখিয়ে দেওয়ার পরেও যদি কেউ ভুল করেন তারপর আর কালেকশন করা হবে না। এবং প্রত্যেকেই যে যার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন তা সঠিকভাবে করতে হবে।

‘এখন আমি যদি হেড অব ইনস্টিটিউট হই, আমার দায়িত্ব সঠিক ই-রিকুইজিশন দেওয়া। যদি সঠিক ই-রিকুইজিশন না দিতে পারি তাহলে নিজের আয় থেকে বেতন দিব। ওনাকে এটা দিতে বাধ্য না করতে ওনি ঠিক হবে না। একইভাবে জেলা শিক্ষা অফিসার ক্ষেত্রেও। ওনি যদি ভুল করে শূন্য পদ নয় অথচ দেখিয়ে দিলেন শূন্য তারপর আমি লোক নিয়োগ দিলাম, এবার যদি এমপিও না হয় ওনাকে সেই সমস্যা একা সমাধান করতে হবে আমি আর দায়িত্ব নিব না।’

বাংলা প্রবাহ/এনএ

শর্টলিংকঃ