ফুটবল যুদ্ধে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল; কি ভাবছে ভক্তরা?

রবিবার (১১ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে অনুষ্ঠিত হবে কোপা আমেরিকা-২১ এর সেরাদের লড়াই। টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশ থেকে ১৫ হাজার ৯শো ১৫ কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।তবে এ আসর নিয়ে বিন্দুমাত্র কম উত্তেজনা বিরাজ করছে না দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে। দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই ফুটবল ম্যাচ। ঐতিহাসিক মারাকানায় অনুষ্ঠিত হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। এই ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের ন্যায় বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের লড়াই বাংলাদেশের মানুষের মাঝে বাড়তি উন্মাদনা দেয়। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন বাংলা প্রবাহের প্রতিবেদক রিয়াদুল ইসলাম।

আর্জেন্টিনা সমর্থকগোষ্ঠী

ফখরুল ইসলাম

আমি বরাবরই সেই ছোটবেলা থেকে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক। তাদের নান্দনিক-সুশ্রী -সৌন্দর্যমন্ডিত-শোভাময় খেলাই আমাকে তাদের প্রেমে পড়তে বাধ্য করে।।
ইতোমধ্যে কোপা আমেরিকা

র ফাইনালে উঠে গেছে ল্যাটিন আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
আরজেন্টিনা ফ্যান হিসেবে আমি অবশ্যই চাই যাতে আগামীকালের ফাইনালে আর্জেন্টিনা জয়ী হয়। ব্রাজিল বরাবরই শক্তিশালী দল কিন্তু এবারের কোপাতে আর্জেন্টিনা দল হিসেবেই খেলছে যার প্রতিফলন আমরা গ্রুপ পর্বের প্রতিটি খেলা ও নক আউট স্টেজের খেলায় দেখেছি। উপরন্তু আমাদের মূল শক্তি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় “মেসি” রয়েছেন দারুন ছন্দে যার ফলে আমরা অনেকটাই স্বস্তিতেই আছি এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে খুবই আশাবাদী।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনোরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ব্রাজিল কোনো ম্যাচে হারেনি। সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে সকল রেকর্ড ভেংগে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে হবে। ব্যাপারটা অনেকটা কঠিন হলেও যে দলে G.O.A.T ‘মেসি’ আছে সেখানে স্বপ্ন দেখাই যায় এবং ইনশাআল্লাহ বাস্তবে ফলাফল আমাদের পক্ষেই থাকবে।আর গোলবারে অতন্দ্রী প্রহরী হিসেবে”ইমিলিয়ানো মার্টিনেজ” এর উপস্থিতি আমাদের আশাকে বাড়িয়ে দেয়।প্রেডিকশন যদি দিতে যাই তাহলে বলবো আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয়ী হবে।। আগামীকালের সকালটা হতে যাচ্ছে ফুটবল প্রেমীদের জন্য স্মরণীয় একটি সকাল। তাই ফুটবল প্রেমীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা যে ই জয়ী হউক না কেনো খেলা নিয়ে কোনো প্রকার সংঘর্ষে যেন না জড়ায় কেউ।

মোজাম্মেল জয়

২০০৬ সাল থেকেই আমি আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করি। গত কয়েক বছরের তুলানায় আর্জেন্টিনা টিম এখন ব্যালেন্স, সব পজিশনে ভালো খেলোয়াড় আছে।ডিফেন্সে রোমেরো, একুনা আশা দেখাচ্ছে, মিড ফিল্ডে  পল,সেলসো,প্যারাদেস। লাউতারো মার্টিনেন্জ,আগুয়ারো, মারিয়া, মেসি ফিনিশিংয়ে অসাধারণ খেলছে। আর গোলবারে বাজপাখি ইমি মার্টিনেজ ভরসার আরেক নাম। ডি পল বলেই দিয়েছে মেসি সাথে তারা যুদ্ধে যেতে রাজি, মেসি একজন ম্যাজিশিয়ান তার নতুন করে নিজেকে প্রমাণ কিছু নাই, তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ সাড়াবিশ্বের ফুটবল প্রেমিরা।তার অর্জনের ঝুলিতে একটা ইন্টারন্যাশনাল ট্রফি ছাড়া সব কিছুই আছে,আশা করছি এই অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দিয়ে সাড়াবিশ্বকে খুশির জোয়ারে ভাসাবে। শক্তির বিচারে দুই টিম ফিফটি-ফিফটি, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা চিরপ্রতিদ্ধি,আলাদা উত্তেজনা সবার মাঝেই কাজ করে। যেই টিম তাদের দিনে সেরা খেলাটা খেলবে শেষ হাসিটা তারাই হাসবে, আশা করি ভালো একটা ম্যাচ হবে উপভোগ করবে সবাই। আমি অবশ্যই আমার প্রিয় টিম আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখবো, আর্জেন্টিনাকে জিততে হলে অবশ্যই অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গেই জিততে হবে। আমি আশা করছি আর্জেন্টিনা ব্রাজিলকে ২-১ কে পরাজিত করবে,শুভ কামনা উভয় দলের জন্য।

এইচ এম মোবাশ্বার

আসন্ন ফাইনাল নিয়ে ভাবনা বলতে অবশ্যই একটি জমজমাট ফাইনাল ম্যাচ দেখার অপেক্ষায়, দুইটি দলেই দারুণ দারুণ বিশ্বমানের খেলোয়াড়ে ঠাসা।
ফুটবল যদি একটি শিল্প হয় দুই দল তার শিল্পী। অনেক দিন পর দুই পরাশক্তির একসাথে হবে ভাবতেই আনন্দ লাগছে। নি:সন্দেহে বলা যায় দারুণ এক ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করার অপেক্ষায় আছি। এবং আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে আর্জেন্টিনার জয়ের আশা ই করছি।

আসলে সত্যি কথা বলতে আর্জেন্টিনা ভালো লাগা বলতে গেলে এক প্রকার বংশগত ই, বড় ভাইদের দেখতাম আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা বলে গলা ফাটাতে, তাদের সাথে আমিও তাল মিলাতে মিলাতে প্রেমে পড়ি, এবং ২০১০ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে আরো ভালো লাগা শুরু এবং মেসির খেলা দেখেই আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছি। বলতে পারেন ২০১০ থেকেই জেনে বুঝে আর্জেন্টিনার সমর্থক।

যাইহোক প্রিয় খেলোয়াড় মেসির জন্য শুভকামনা, অন্যান্য ফাইনাল গুলার মত এবার ও যাতে স্বপ্ন ভঙ্গ না হয় সেই কামনা করছি।

ফারহানা মনসুর প্রিয়া

২০১০ সাল থেকেই আমার ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। ফুটবল রাজপুত্র মেসির খেলা দেখার মাধ্যমে এই ভালবাসা জন্মে। যার বাম পায়ে রয়েছে সৃষ্টিকর্তার অলৌকিক আশীর্বাদ। রেকর্ড ভাংগা থেকে শুরু করে রেকর্ড গড়া সব কিছু তিনি দেখিয়েছেন। কিন্তু ভাগ্য তো মাঝেমধ্যে কিছু অপূর্ণতা রেখে দে। এবার সেটা পূর্ণতা দেয়ার পালা। কোপা আমেরিকার দীর্ঘ তিন দশকের আক্ষেপ মুছবে। এবার মারাকানার ১৩০ গজে কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে এক নতুন রেকর্ডের সৃষ্টি হবে।আশা রাখছি আর্জেন্টিনা পুরো দল তাদের খেলার নৈপুন্যতা ফাইনালে বজায় রাখবে।

ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠী

মো.সহিদুল ইসলাম রাজন

কোপা আমেরিকা ফাইনাল ২০২১ এর শিরোপা ব্রাজিলের হাতেই উঠবে আমি আশাবাদী। আমি ছোট থেকেই ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক। ফুটবলে ব্রাজিল অন্যরকম আধিপত্য বিস্তার করেছে তাদের অসাধারণ খেলার মাধ্যমে।এই টুর্নামেন্টেও তারা এই ধারা বজায় রেখেছে। সব মিলিয়ে ব্যালেন্স একটি দল ব্রাজিল। আর যেহেতু আমার প্রিয় দল ফাইনালে তাই অবশ্যই পক্ষপাতী হয়ে চাইব খুব সহজে সেলেসাওরা জিতুক, অন্য দুদল ফাইনালে হলে চাইতাম অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক ফাইনাল হোক। কিন্তু এখন চাইব ব্রাজিল সহজেই জিতুক।
২০০২ সালের বিশ্বকাপ দিয়ে ব্রাজিল সাপোর্ট করা, তখন অত বুঝতাম না তাও ভালো লাগতো।তারপর আস্তে আস্তে ভালোলাগা বেড়ে যায় । যেহেতু ২০০২ এর পর খেলা আস্তে আস্তে বুঝি তাই এরপর ব্রাজিলের প্রিয় খেলোয়াড় হল রোনালদিনহো কাকা মার্সেলো, ডেভিড লুইজ, সিলভা, নেইমার কোতিনহো।

মোস্তাকিম বিল্লাহ হৃদয়

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা মানেই তো সুপার ক্লাসিকো। যুগে যুগে স্মরণীয় হয়ে থাকবে খেলাটা তাই জমজমাট ফাইনাল ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার আশা করছি।আমি চাই কোপা ফাইনালে ব্রাজিল জিতুক। ব্রাজিল দল এখন দুর্দান্ত ফর্মে আছে। আশা করি তারা চ্যাম্পিয়ন হবে। তবে মেসি যেহেতু এখনো আর্জেন্টিনার হয়ে ট্রফি পাননি তাই উনার হাতে ট্রফি গেলেও খুব বেশি খারাপ লাগবেনা।ব্রাজিলকে ভালো লাগে ২০০২ সাল থেকে। তখন আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। ব্রাজিল বিশ্বকাপ নেয়ায় অনেক আনন্দ পেয়েছিলাম।ব্রাজিলকে টিম হিসেবে অনেক ভালো লাগে আর ওদের ডেডিকেশন সবচেয়ে বেশি মনে হয়েছে আমার কাছে। দলের জন্য সবাই মরিয়া হয়ে খেলার চেষ্টা করে।

ইরিনা আজাদ

২০১০ বিশ্বকাপে শাকিরার ‘Waka Waka’ থেকেই মূলত আমার ফুটবল খেলা দেখার আগ্রহ শুরু।আব্বুর সাথে খেলা দেখতাম, উনি তখন ব্রাজিল সমর্থন করতেন সেই সূত্রে আমারো ব্রাজিল সমর্থন করা।
আসন্ন লাতিন আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ টুর্নামেন্ট কোপা ফাইনাল নিয়ে বরাবরই সবার মতো আমিও দীর্ঘ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।আমার প্রিয় দল ব্রাজিল।সমর্থন অবশ্যই হলদে সবুজ জার্সিধারীদের দিকেই থাকবে,তবে চাইবো সুন্দর একটা ফুটবল খেলা যেন আমরা উপভোগ করতে পারি। এ নিয়ে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটতে পারে।
এই টুর্নামেন্টের পুরোটা সময় জুড়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দুই দলই ভালো খেলে এসেছে, সে ক্ষেত্রে বলা যায় ফাইনাল টা হাড্ডাহাড্ডি হবে।
যখন থেকে ফুটবল বুঝি তখন থেকে ব্রাজিলের প্রিয় খেলোয়াড়দের তালিকায় কাকা,অস্কার,অগাস্তো,কৌতিনহো,মারসেলো,সিলভা,নেইমার এরাই আছেন।

হাসিবুল ইসলাম হাসিব

প্রায় ১৪ বছর পর বড় কোনো টুর্নামেন্টে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে।আমার পূর্ণ সমর্থন সেলেসাওদের দিকেই থাকবে।কোপা-২১ এর শিরোপা ব্রাজিলের হাতে উঠুক এটা মনে প্রাণে চাই।অসাধারণ নৈপুন্যের মাধ্যমে তারা ফাইনালে উঠেছে।
আশা করছি ব্রাজিল তাদের দুর্দান্ত খেলার ধারা অব্যাহত রেখে ট্রফি নিজেদের করে নিবে। ব্রাজিলের স্কোয়াড দেখলেয় বোঝা যায় যে কোনো দলের জন্য ব্রাজিল কতটা বিপদজনক। ফাইনাল ম্যাচের আগে আমি ব্রাজিলকে অনেক বেশি এগিয়ে রাখবো কারণ ব্রাজিল স্কোয়াডয়ের প্রত্যেক প্লেয়ার তাদের পারফর্মেন্সর প্রামান করেছেন তারা চ্যাম্পিয়ন হবার যোগ্য দাবিদার।
ব্রাজিল সাপোর্ট করি ক্লাস ৫ থেকে। লিজেন্ড কাকার খেলা দেখার মধ্যে দিয়ে ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা জন্মে। আমার প্রিয় খেলোয়াড় নেইমার, ক্যাসিমেরো, সিলভা, ফ্রেড, মিলিতাও, এলিসন।

শর্টলিংকঃ