বারুদের গন্ধ খুইজেন না, ফুল ছিটাচ্ছি: মাহাফুজ আল আমিন

বিগত ৫ মে ২০২১ তারিখে আমাদের নিয়োগের পর‌ ৬ মে যোগদান করি। আমরা সর্বমোট ১৩৮ জন তার মধ্যে শুধু মাত্র রাবি ছাত্রলীগেরই আছে ৪২ জন, এর পর থেকে আমাদের গুটিকয়েক প্রিয়জন, বন্ধু বান্ধব, অগ্রজ নিয়োগ বঞ্চিত হওয়ায় লাগাতার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিরোধীতা করে যাচ্ছেন, কখনো রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, কখনো পরিবার নিয়ে, কখনো আত্মীয় স্বজননিয়ে। দীর্ঘ দিন একসঙ্গে রাজনীতি, আন্দোলন সংগ্রাম, মামলা, হামলার স্বীকার হয়েছি আমরা তখন কোনো প্রশ্ন আসেনি, কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্ত হবার পর থেকে ব্যক্তি কেন্দ্রিক বিরোধীতার সূত্রপাত হয়েছে। বিরোধীতা ফেসবুকের গন্ডী পেরিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও গড়ায় যা কখনোই আমরা কল্পনা করিনি বা কাম্য ছিল না।

আমি আমার নিজের কথা বলি, যদি আমি নিয়োগ বঞ্চিত হতাম আমার আল্লাহর শপথ করে বলছি ঠিক তার পরবর্তী মিনিট থেকে চেষ্টা করতাম জীবিকার জন্য বিকল্প কোনো কিছু ব্যবস্থা করার, নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখে বেশ অগ্রসর ও হয়েছিলাম আমার কাছের মানুষ গুলো তার সাক্ষী। কারন সময় অনেক নষ্ট হয়ে গেছে, রাবি নিয়ে একটা মিনিট ভাবার বা বলার সময় নিজেকে দিতাম না সত্যি বলতে পেতাম না।

আসলে এই বিরোধীতা করে লাভটা কি? সর্বচ্চ ক্ষতি হলে নিয়োগটা বাতিল হয়ে যাবে এইতো? আল্লাহর দুনিয়ায় কেউ না খেয়ে থাকেনা। আবারো ১৩৮ জন বেকার হয়ে যাবে,আপনারা হয়তো মানুষিক প্রশান্তি পাবেন কিছুটা, বিজয়ের আনন্দ সত্যি রোমাঞ্চকর। আদতে ব্যক্তিগতভাবে কোনো লাভবান কি হতে পারবেন? জীবন কেড়ে নিলে কতটা শত্রুতা তৈরি হয় আমার জানা নেই, কিন্তু জীবিকা কেরে নেয়ার জন্য সম্পর্কের ক্ষতি এবং শত্রুতা কোন পর্যায়ে যায় তা আমি আমার নিজেকে দিয়েই মনে হয় মূল্যায়ন করতে পারি, এবং তা সবার জন্যই প্রযোজ্য। তাই বলছি, বিরোধীতা ভুলে যান, বিভেদ ভালো কিছু বয়ে আনে না। আমরা যারা নিয়োগে জায়গা করে নিতে পেরেছি তা আল্লাহর রহমত,আমরা নিজেরাও আপনাদের মত চাকরি প্রত্যাশি একি পথের পথিক ছিলাম,কারো চাকরি হওয়া বা না হওয়া আমাদের ‌উপর নির্ভর করেনা,কার অপরাধে কে বঞ্চিত হয়েছেন তা নিশ্চয় আমাদের উপর বর্তায় না? যারা চাকরি পেয়েছে তাদের মধ্যে আপনাদেরই ভাই, সহযোদ্ধারা রয়েছে, এটিকে রক্ষা করা আপনাদেরও কর্তব্য। এই নিয়োগটি সঠিক ভাবে পরিচর্যা করলে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে যা আগামীতে সম্ভাবনার পথ তৈরি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

লেখকঃ মাহাফুজ আল আমীন

সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, ,
শর্টলিংকঃ