মিতুর শখের ‘জুস এন জারস’

শীতকাল প্রায় শেষ। কুয়াশা নেই হালকা ঠান্ডা। বন্ধুরা মিলে হাটছি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায়। হাটতে হাটতে গেলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে। সেখানে ‘জুস এন জার’ নামে একটি দোকান দেখে দাঁড়িয়ে পড়ি। দোকানটি মৌসুমী ফলের জুসের। ভাবলাম, অনেক দিন হলো কোন ফলমূল খাওয়া হয়না তাই স্টবেরী জুস অর্ডার করলাম। দেখলাম একজন মেয়ে। কথা বলে একটু বিস্মিত হলাম। তিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের-ই শিক্ষার্থী। জুস তৈরী হওয়ার সময়টুকুতে শুনতে লাগলাম তার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের গল্প।

মেহেরিন জাহান মিতু। তিনি বর্তমানে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পরিবারিক ভাবে আর্থিক কোন সমস্যা ছিলো না । তবুও শখের বশে পড়াশোনা চলাকালীন নিজেকে স্বাবলম্বী করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অবসর সময় নষ্ট না করে নিজে নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন। মিতু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ বছর পড়াশুনা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘোরাঘুরি অকেন কিছু করলাম। তবে নিজস্ব কিছু করা হয়নি। আর ক্যাম্পাসে ছেলে বন্ধুরা কেউ ব্যাবসা, ফ্রিল্যানসিং, টিউশনিসহ অনেক কিছু করছে কিন্তু মেয়েরা টিউশনি ছাড়া অন্য কিছু খুব একটা করছে না। শখ হলো নিজে উদ্যোগতা হতে চাই। যেই ভাবা সে অনুযায়ি চিন্তা করলাম যে ক্যাম্পাসে ভালো কোন জুসবার নেই। আবার যে কয়েকটা আছে সেখানে সব সময় সব ফলের জুস পাওয়া যায় না। তাই জুস বার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

এরপর জুসবারের জন্য সব কিছু প্রস্তুত করতে লাগলাম। এসময় বন্ধুরা অনেক সাহায্য করেছে। ২০১৯-২০২০ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার পর থেকে জুসবার চালু হলো। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জুস পাওয়া যায়। এটি দেখাশুনার জন্য একটি কর্মচারী আছে যে জুস তৈরি করার সাথে সাথে সার্বক্ষণিক দেখাশুনা করে । আমি ক্লাস শেষ করে এখানে চলে আসি। বন্ধুদের সাথে এখানেই আড্ডা দিই। আড্ডার কেন্দ্রটা আমি এখানেই করে নিয়েছি । বিশ্ববিদ্যালয়ে এই জুসবার দেওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা কম মূল্যে বিভিন্ন ফলের জুস খেতে পারবে। ক্যাম্পাসে আমি-ই প্রথম ছাত্রী যে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বেশ সাড়াও পেয়েছি। এখন আমি অনেকটাই স্বাবলম্বী। তবে জুস এন জার এর ভবিষৎ নিয়ে তেমন চিন্তা-ভাবনা করা হয়নি। এছাড়া একজন মানুষের কর্মসংস্থান তৈরী করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে দোকানটি এখন বেশ জনপ্রিয়। আমি এখন থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। নিজে ভালো কিছু করার পাশাপাশি এই সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করতে চাই।

#বাংলা প্রবাহ২৪/এএল

শর্টলিংকঃ