রাবির সাবেক প্রশাসনের (২০১৩-২০১৭) অনিয়ম ও দুর্নীতি; গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ

লেখক-সাংবাদিক-চলচ্চিত্রকার শ্রদ্ধেয় শাহরিয়ার করিব ‘সভ্যতার মানচিত্রে যুদ্ধ যুদ্ধাপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন, “১৯৭১ সালে বংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ নিরস্ত্র মানুষ শহীদ হয়েছে। সরকারি হিসাবে ২ লক্ষ, বেসরকারি হিসেবে সোয়া চার লক্ষ নারী পাষবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এক কোটিরও বেশি মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে প্রাণ বাঁচাবার জন্য প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল । এর দিগুনেরও বেশি মানুষ স্বদেশে উদবাস্তুর অনিশ্চিত বিড়ম্বিত জীবন যাপন করেছে। অন্ততপক্ষে ২০ লক্ষ মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় সহযোগীদের নির্মম নির্যাতন ভোগ করেছে। শত সহস্র জনপদ ধ্বংস হয়েছে, সম্পদ লুন্ঠিত হয়েছে । হত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংসের স্থান কাল বিচারে `৭১-এর ৯ মাসে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে সংঘঠিত গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধপরাধ স্মরণকালের ইতিহাসে তুলনাহীন।”

এই কথা দিয়ে শুরু করার কারণ হলো, আমাদের স্বাধীনতা-মুক্ত আকাশ-লাল সবুজের পতাকা পাওয়ার জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে; তা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এত ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় বড্ড বিপর্যস্ত। এই বাংলায় বেঈমান মীর জাফররা ষড়যন্ত্র করে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে। জাতীয় চারনেতাকে জেলখানায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। জাতির পিতার উপহার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাহাত্তরের সংবিধান নষ্ট মানসিকতায় পরিবর্তন করা হয়েছে।  আমরা দেখেছি রক্তে কেনা লাল-সবুজের পতাকা স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে উড়েছিল।

কেন হয়েছে? প্রথমেই উল্লেখ করা শাহরিয়ার কবিরের কথায় ফিরে যায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীদের (যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার) দ্বারা ‘হত্যা, নির্যাতন ও ধ্বংসের স্থান কাল বিচারে `৭১-এর ৯ মাসে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে সংঘঠিত গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধপরাধ স্মরণকালের ইতহাসে তুলনাহীন।”

কাদের জন্য এত ক্ষতি? এদেশের আলো বাতাসে বেড়ে উঠা কিছু বেঈমান-বিশ্বাসঘাতকদের জন্য। এই বেঈমান বিশ্বাসঘাতকরা এখনও আমাদের মাঝে মিশে আছে। তারা আমাদের বাংলা মা, বাংলার মাটি, বাংলা ভাষা, লাল সবুজের পতাকা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আমার পিতা-ভাইয়ের রক্ত, ধর্ষিত মা-বোনের সাথে প্রতিনিয়ত প্রহসন করে যাচ্ছে।

অথচ শহীদের রক্তে রঞ্জিত প্রতি বিন্দু বাংলার মাটিতে তারা বেড়ে উঠেছে! আমার ধর্ষিত মা বোনের যন্ত্রনাকাতর আত্মচিৎকারময় বাতাস থেকে নিঃশ্বাস নিচ্ছে! শহীদের রক্তে দিয়ে লেখা ক, খ, গ, ঘ… বর্ণ পড়ে তারা শিক্ষিত হয়েছে!

এই বাংলা মায়ের প্রকৃত দেশপ্রেমিক সন্তান কি কখনো স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে সাক্ষাৎ-মিশতে-চলতে পারে!! এত ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া বাংলায় কোন অনিয়ম-দুর্নীতি করতে পারে!! মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে কোন কিছু করতে পারে!!

অথচ আমার প্রাণের ক্যাম্পাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের জনৈক সাবেক উপাচার্য স্বাধীনতা বিরোধী দলের নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের নিকট থেকে উৎকোচ নিয়েছিলেন। জাতির জনকের এবং শহীদ বুদ্ধিজীবি ভাস্কর্য নির্মাণে অনিয়ম ও নানা রকম দুর্নীতির সংবাদ আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি। এসকল সংবাদ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত রাজশাহী বিশ্রববিদ্যালয়ের সাবেক প্রশাসনের (২০১৩-২০১৭) অনিয়ম ও দূর্নীতি কিছু সংবাদ তুলে ধরা হল।

দৈনিক সংগ্রাম প্রত্রিকায় ১৩ জুলাই ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত সংবাদ।

‘রমযানের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাবি ভিসিকে শিবিরের ক্যালেন্ডার উপহার’

 “রাবি রিপোর্টার : পবিত্র মাহে রমযানের শুভেচ্ছা জানিয়ে গত বুধবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মিজান উদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করে রমযানের তোহফা ও ক্যালেন্ডার উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাবি শাখার একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রশিবির রাবি শাখার সভাপতি মো: আশরাফুল আলম ইমনের পক্ষ থেকে ভিসির হাতে এ উপহার তুলে দেয়া হয়। রাবি শিবিরের তথ্য সম্পাদক হাসিবুল আলমের নেতৃত্বে সংগঠনটির বিভিন্ন আবাসিক হলের সভাপতিবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। পরে ভিসি প্রতিনিধি দলের কাছে সংগঠনটির সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। এসময় তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শিবির নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন। রাবি শিবিরের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকেও ভিসিকে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। এছাড়া প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ প্রশাসনিক ভবনের সকল কর্মকর্তাকে রমযানের শুভেচ্ছা ও ক্যালেন্ডার প্রদান করা হয়।”

‘রমযানের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাবি ভিসিকে শিবিরের ক্যালেন্ডার উপহার’ শিরোনামে ১৩ জুলাই ২০১৩ তারিখে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের স্কিনশর্ট।

‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জমি কেনা নিয়ে নয়ছয়’ শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে সংবাদটি প্রকাশিত হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

জমি কেনা নিয়ে নয়ছয়

দলিলে দাম সাড়ে ৩ কোটি টাকা সিন্ডিকেটে অনুমোদন ১১ কোটি

অতিথি নিবাস বানানোর জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাজধানীর হাতিরপুল এলাকায় সাড়ে তিন কাঠা জমি কিনেছে। দলিলে এই জমির দাম দেখানো হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। কিন্তু সিন্ডিকেটে চুক্তিপত্র অনুমোদন করানো হয়েছে ১১ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রতি কাঠা ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার কিছু বেশি।

তবে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাতিরপুল পুকুরপাড় এলাকায় ছোট জমির দাম প্রতি কাঠা ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা। বড় আয়তনের ও বাণিজ্যিক জমির দাম অবশ্য এর চেয়ে অনেক বেশি। তাঁরা বলেন, এই জমি যেহেতু বাণিজ্যিক নয়, তাই সাড়ে ৩ কাঠা জমির দাম ১১ কোটি টাকা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্তৃপক্ষ ঢাকার খালিদ মাহমুদের কাছ থেকে গত বছর অক্টোবরে সাড়ে তিন কাঠা জমি কেনে। কাগজপত্রে দেখা যায়, খালিদ মাহমুদ গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি এই জমি কেনেন ৭৮ লাখ ২৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে শুধু কাগজে-কলমে জমির দাম বেড়েছে চার গুণের বেশি। কাঁঠালবাগান এলাকাটি পড়েছে ধানমন্ডি মৌজায়। সরকারি হিসাবে এখানে প্রতি কাঠার ন্যূনতম দাম সাড়ে ২২ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রয় কমিটির আহ্বায়ক ও সহ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, এখানে অসততা ও অস্বচ্ছতার কোনো কিছু নেই। তবে চুক্তিপত্র আগে-পিছে হওয়ার বিষয়টি তিনি হিসাব শাখায় খোঁজ নিয়ে বলতে পারবেন।

দামের বিষয়ে জমির বিক্রেতা খালিদ মাহমুদ বলেন, যেখানে চাইলেই এক টুকরো জমি কিনতে পাওয়া যায় না, সেখানে এই দাম অস্বাভাবিক নয়।জানা গেছে, ঢাকায় জমি কেনার জন্য নিয়ম অনুযায়ী দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দুটি দরপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে এলডোরাডো ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের দেওয়া মূল্য গ্রহণ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।

পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের ক্রয় কমিটি এই দরপত্রটিও বাতিল করে। এরপর পুনঃ দরপত্র আহ্বান না করেই খালিদ মাহমুদের কাছ থেকে সরাসরি এই সম্পত্তি কেনা হয়। অথচ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা রফিকুল হাসানের দেওয়া মতামতের সাধারণ মন্তব্যে বলা হয়েছে যে, কাগজপত্রে দেখা যায়, এলডোরাডোর দেওয়া কোটেশন বা দরপত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গৃহীত হলে সম্পত্তির মূল্য তদানুযায়ী পরিশোধ হওয়া আবশ্যক। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে বা অন্য কোনোভাবে কারও বরাবর মূল্যের টাকা পরিশোধ করা হলে সম্পত্তির কোনো টাকা পরিশোধ হয়নি মর্মে গণ্য হবে। তিনি আরও বলেন, জমির স্বত্বের ধারাবাহিকতা সুষ্ঠু নয়। ফলে স্বত্বের জটিলতার উদ্ভব হতে পারে।

গত বছরের ২০ অক্টোবর এই দলিল নিবন্ধন করা হয়। এতে জমির মূল্য দেখানো হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। দলিলের হলফনামার শেষে ‘উহা অবমূল্যায়ন করা হয় নাই’ বলে হলফ করা হয়েছে। এ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক, উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের দপ্তর তথা বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীরা জানার পরে ক্রয় কমিটি সমালোচনার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলিল নিবন্ধনের ৩৬ দিন পর গত ২৬ নভেম্বর জমির মালিকের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দীন আহমেদ ও রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ এন্তাজুল হক একটি চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন। এই চুক্তিপত্রে জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ১১ কোটি টাকা। আর ভবন নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রতিটি এলাকায় সরকারিভাবে জমির মূল্য নির্ধারণ করা থাকে। এই মূল্যের নিচে কেউ দলিল নিবন্ধন করতে পারে না। সেই আইন মেনেই সাড়ে ৩ কোটি টাকায় জমি নিবন্ধন করা হয়েছে। তার নিচে করা হয়নি। তিনি বলেন, দলিলে প্রকৃত মূল্য না দেখিয়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সাশ্রয় করেছেন। নিয়ম মেনেই সেটা তাঁরা করেছেন। দলিলে জমির প্রকৃত মূল্য প্রদর্শন না করলে ওই অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের সুযোগ থাকে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা গোপন না করার জন্যই তাঁরা দাতার সঙ্গে জমির প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেছেন। সাধারণত এ ধরনের চুক্তি দলিল নিবন্ধনের আগে করা হয়ে থাকে। নিবন্ধনের পরে কেন করা হয়েছে, এ ব্যাপারে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, আগে হোক আর পরে হোক সেটা করা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দরপত্র ছাড়াই বিশেষ ‘আইটেম’ কেনা যেতে পারে। পিপিআর-এ ‘ডাইরেক্ট পারসেজ মেথড’ বলে বিধানও রয়েছে।

 গতকাল ঢাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ওই জমিতে একটি সাততলা ভবনের কাজ চলছে। চারপাশে টিন দিয়ে ঘেরা। তবে কারা কাজ করছে, কাদের জন্য করছে, তা জানা যায়নি। কারণ, কথা বলার চেষ্টা করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 এলাকার লোকজন বলছেন, এখানে জমির সর্বোচ্চ মূল্য ৬০-৭০ লাখ কাঠা হতে পারে। একটি বড় ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের পাশে বাণিজ্যিক জমির দাম নির্ভর করে অতি প্রয়োজন কি না, তা বুঝে। এই জমি যদি সে রকম হয়, তাহলে দাম বেশি হতেই পারে। তবে আবাসিক জমির ক্ষেত্রে এই দাম বাস্তবসম্মত নয়।

‌বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ব‌লেন, আপতভাবে এটা‌কে দেখ‌লে অস্বাভা‌বিক ম‌নে হ‌তে পা‌রে। কিন্তু এর সঙ্গে অনেক বিষয় জ‌ড়িত। ক্রয় ক‌মি‌টি অনেক কিছু বি‌বেচনা ক‌রে জ‌মি‌টি নির্বাচন ক‌রে‌ছে। সং‌ক্ষে‌পে পু‌রো বিষয়‌টি বোঝা‌নো সম্ভব নয়। তাই তাঁরা আজ রোববার সাংবা‌দিক‌দের ডে‌কে পু‌রো বিষয়‌টি ব্যাখ্যা কর‌বেন।

‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জমি কেনা নিয়ে নয়ছয়’ শিরোনামে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের স্কিনশর্ট।

বঙ্গবন্ধু  ও শহীদ বুদ্ধিজীবি ভাস্কর্য নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির এই সংবাদ  জাগো নিউজ ২৪ ডটকমে ২০ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত হয়। যা নির্মান করা হয়েছিল একই প্রশাসনের (২০১৩-২০১৭) সময় কালে।

‘রাবিতে ১৪শ কেজির ভাস্কর্যে ৯০৮ কেজি তামাই গায়েব!’ 

> ১৪শ কেজি তামার জন্য বরাদ্দ ১৪ লাখ টাকা
> ব্যবহৃত তামার পরিমাণ মাত্র ৪৯২ কেজি
> প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা : রাবি উপাচার্য

‘বঙ্গবন্ধুসহ তিন বুদ্ধিজীবীর একটি স্মৃতিফলক। তাতেই লুটপাটের মহাযজ্ঞ। স্মৃতিফলক নয়, যেন দুর্নীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে এটি তৈরি করা হয়েছে। স্মৃতিফলকে ১৪শ কেজি তামা ব্যবহারের কথা থাকলেও তাতে মাত্র ৪৯২ কেজি তামা ব্যবহার করা হয়েছে!

বরাদ্দকৃত মূল্যে প্রতি কেজি তামা এক হাজার টাকা হারে শুধু ভাস্কর্য তৈরিতেই দুর্নীতি হয়েছে ৯ লাখ আট হাজার টাকা। অর্থাৎ ১৪ লাখ টাকার তামা ব্যবহারের কথা থাকলেও ৯ লাখ আট হাজার টাকার তামা ব্যবহারই করা হয়নি। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৮৩ লাখ টাকার পুরো হিসাবেই গড়মিল পেয়েছে তদন্ত কমিটি। আর্থিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির একটি প্রতিবেদনে দুর্নীতির এমন চিত্র উঠে এসেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন ভবনের পশ্চিম পাশে নিচতলায় এ স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে নিহত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে স্মরণ রাখতে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিজানউদ্দিন ও উপ-উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান প্রশাসন। ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং তৎকালীন পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক সুলতান-উল-ইসলামকে সমন্বয়ক করে মোট ১১ জনকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কাজে দায়িত্ব দেয়া হয়।

২০১৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৪৭০তম সভায় ৮২ লাখ ৬৫ হাজার ১৬১ টাকার অনুমোদন দেয়া হয় প্রকল্পের জন্য। স্মৃতিফলকে তিনজন শহীদ শিক্ষক এবং বঙ্গবন্ধুর রিলিফ ভাস্কর্য নির্মাণে ১৪শ কেজি তামার জন্য ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু তাতে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র ৪৯২ কেজি তামা!

স্মৃতিফলক নির্মাণে আর্থিক অব্যবস্থাপনার প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেমকে আহ্বায়ক করে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির এক চিঠির জবাবে স্মৃতিফলকের শৈল্পিক পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ঋতেন্দ্র কুমার শর্মা জানান, ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য প্রথমে ৮৫০ কেজি তামা ক্রয় করা হয়। এর মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগ ওয়েস্টেজ (নষ্ট) দেখিয়ে ৬৩৮ কেজি তামা ব্যবহার করা হয়। এরপর কাস্টিংয়ের সময় ‘দুর্ঘটনাজনিত’ কারণে ফের ১২০ কেজি তামা নষ্ট হয়। সবশেষ আরও ২৬ কেজি তামা অন্যভাবে নষ্ট হয়। এতে মোট ৯০৮ কেজি তামাই বাদ পড়ে ভাস্কর্য নির্মাণে, যার আর্থিক মূল্য ৯ লাখ আট হাজার টাকা।

স্মৃতিফলকে শৈল্পিক কাজের টেম্পার্ড গ্লাসের জন্য তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও তা ব্যবহারের কোনো তথ্য পায়নি তদন্ত কমিটি। পুরো প্রকল্পের জন্য লেনদেন প্রক্রিয়ায় ‘মারাত্মক অসঙ্গতি’ আছে বলে তদন্ত কমিটি উল্লেখ করেছে। দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণ প্রকল্পের সমন্বয়ক সুলতান-উল-ইসলামের কাছে আর্থিক অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছে। আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং সমন্বয়হীনতার মধ্য দিয়ে যখন কাজটি চলছিল, আমাকে তখন দায়িত্ব দেয়া হয়। তামা ক্রয়ের বিষয়ে আমিও প্রশ্ন তুলেছি।’

তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি ইচ্ছামতো কাজ করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে আসলে অভিযোগটি কী- সেটাই স্পষ্ট করে জানতে চাওয়া হয়নি। প্রকল্পটি কমিটি ও উপ-কমিটির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এখানে জবাব দেয়ার সুযোগ নেই।’

বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুস সোবহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণের অসঙ্গতি খুঁজে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির দেয়া প্রতিবেদনের আলোকে আমরা ব্যবস্থা নেব। এর চেয়ে বেশিকিছু বলা এখন ঠিক হবে না।’’

‘রাবিতে ১৪শ কেজির ভাস্কর্যে ৯০৮ কেজি তামাই গায়েব!’ শিরোনামে ২০ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে জাগো নিউজ ২৪ ডটকমে প্রকাশিত সংবাদের স্কিনশর্ট।

একই প্রশাসনের মেয়াদকালে এই সংবাদটি দৈনিক সমকাল পত্রিকায় ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে প্রকাশ করে।

‘রাবির স্মৃতিফলকে ‘বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা’র তদন্ত দাবি’

‘’রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার অভিযোগ এনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকায় অতিথি ভবন ক্রয়ের নামে ১০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগসহ সব অনিয়ম তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান। মানববন্ধনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের রিলিফ ভাস্কর্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ছিল না। কিন্তু মূলকাজে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে।  ভাস্কর্যে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চেয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিচে স্থাপন করা হয়েছে।  এর মাধ্যম জাতির পিতাকে অবমাননা করা হয়েছে, যা কোনো প্রগতিশীল শিক্ষকদের কাজ হতে পারে না।

তারা আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে কিছু শিক্ষক বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। তারা নিজেদের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ বলে পরিচয় দিচ্ছেন। আমাদের দলের সদস্য ৬ শতাধিক, অথচ আন্দোলন করছেন মাত্র ৩০/৪০ জন শিক্ষক। তাহলে এটি গুটিকয়েক একাংশ হয় কি করে? আমরা সকল অনিয়মের তদন্ত চাই, কিন্তু তারা ঢাকায় অতিথি ভবন কেনার নামে ১০ কোটি টাকা দুর্নীতির তদন্ত চাননি। তার মানে স্পষ্টত তারা কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক এম মজিবুর রহমান মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন।

‘রাবির স্মৃতিফলকে ‘বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা’র তদন্ত দাবি’ শিরোনামে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে দৈনিক সমকালে প্রকাশিত সংবাদের স্কিনশর্ট।

সাবেক এই প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত তোষণের অভিযোগ আনে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ। সংবাদটি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ১৯ এপ্রিল ২০১৫ তে প্রকাশিত হয়।

‘বিএনপি-জামায়াত তোষণ করছেন রাবি ভিসি’

আ’লীগের অভিযোগ

‘’স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মিজানউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির তোষণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন খোদ রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টাকার বিনিময়ে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের লোকজনকে বিভিন্ন দফতরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ করা হয়। শনিবার দুপুরে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাহফুজুল আলম লোটন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।

আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর রাবিতে ১০ জন বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকের স্বজনদের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। যার মধ্যে চারজন ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলেও অভিযোগ করা হয়। এরা হলেন পরিসংখ্যান বিভাগের জামায়াতপন্থী শিক্ষক রেজাউল করিমের শ্যালক ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের জামায়াতপন্থী শিক্ষক সালাম ভূইয়ার ভাতিজা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ফয়সাল জামান, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, ইংরেজী বিভাগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপাচার্যের নিজ গ্রামের সাবেক শিবির নেতা আসিউজ্জামান এবং উপাচার্যে ভাগ্নে সাবেক শিবির নেতা হাবিবুল্লাহকে ফোকলোল বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

এছাড়া বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাবেক উপাচার্য ফাইসুল ইসলাম ফারুকীর ছেলে নাঈম ফারুকী ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগে, বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাবেক উপাচার্য আলতাফ হোসেনের মেয়েকে ভূগোল বিভাগে, বিএনপিপন্থী শিক্ষক সাফিউজ্জামানের (সাদা প্যানেলের সদস্য) স্ত্রী চৈতি অর্থনীতি বিভাগে, বিএনপিপন্থী শিক্ষক আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে তামজীদ হোসেন ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগে, বিএনপিপন্থী শিক্ষক শহিদুর রহমানের মেয়ে রিদা খাতুনকে দর্শন বিভাগে এবং বিএনপিপন্থী অপর এক শিক্ষকের স্ত্রীকে রাবেয়া বসরীকে অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

এছাড়াও উপাচার্য আঞ্চলিকতার কারণে জামায়াতপন্থী শিক্ষককে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শহীদ ফারুক হোসেনের বোনের চাকরি স্থায়ী করার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ১৬ এপ্রিল বিএনপি ও জামায়াত-শিবির তোষণ, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম-দুর্নীতি সম্পর্কে প্রতিবাদ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফারুকের বোনের চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানাতে উপাচার্যে দফতরে গেলে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এ সময় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক হাবিবুর রহমান মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেনকে লাঞ্ছিত করেন। কিন্তু উপাচার্য তার অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করার জন্য গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী সাত দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেন নগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।’

‘বিএনপি-জামায়াত তোষণ করছেন রাবি ভিসি’ শিরোনামে ১৯ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের স্কিনশর্ট।

জাগো নিউজ ২৪ ডট কম পত্রিকায় ৬ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে প্রকাশিত সংবাদে সাবেক গ্রন্থাগার প্রশাসক অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়।

‘প্রকল্পের টাকায় অধ্যাপকের বিলাসিতা, ১১ হাজারে ক্রয় দুটি কলম’

কথা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উন্নয়ন করা হবে। বিশ্বব্যাংক ‘হেকেপ’ (হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট) প্রকল্পের মাধ্যমে বরাদ্দও হয়েছিল যথেষ্ট। উন্নয়ন হয়েছে বটে। তবে তা গ্রন্থাগারের নয়, তৎকালীন গ্রন্থাগার প্রশাসক অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদির।

ড. সামাদি গ্রন্থাগার উন্নয়নের নাম করে নিজের বিলাসিতার পরিচয় দিয়েছেন নানাভাবে। যার প্রমাণ মিলছে প্রকল্পের অর্থে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দুটি কলম কেনার মধ্য দিয়ে। পাঁচ হাজার এবং ছয় হাজার করে মোট ১১ হাজার টাকা দিয়ে দুটি কলম কিনে দুর্নীতির নতুন রেকর্ড গড়েছেন এ শিক্ষক।

এর আগে রুপপুরের বালিশকাণ্ড ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফেমিক) হাসপাতালের পর্দা কেনা নিয়ে বিস্ময়কর দুর্নীতির তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলমকাণ্ড নিয়ে সারাদেশে বেশ আলোচনার খোরাক জোগাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উন্নয়ন প্রকল্পে শুধু কলম কেনার মধ্য দিয়ে নয়, পুরো অর্থ ব্যবহারেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে ড. সামাদির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম নিয়ে তদন্তও করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মিজানউদ্দিনের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন  তিন কোটি ২৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। মূলত বিশ্বব্যাংক ‘হেকেপ’ প্রকল্পের মাধ্যমে এ অর্থ সহায়তা দিয়েছিল। এ সময় গ্রন্থাগারে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদি।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ড. সামাদি দায়িত্ব পালনকালে গ্রন্থাগার কমিটির ছয়টি, গ্রন্থাগার উপ-কমিটির ১০টি এবং গ্রন্থাগারের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বিষয়ে ৫২টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোনো সভায় প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রেজুলেশনভুক্ত করা হয়নি। এসব সভার যথার্থতা, উপস্থিতি এবং ব্যয় নিয়েও নানা অসঙ্গতি উঠে এসেছে।

অভিযোগ উঠেছে, টেন্ডার আহ্বান নিয়েও। টেন্ডারের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে ড. সামাদির কক্ষেই। নিজে ব্যবহারের জন্য প্রকল্পের এক লাখ ৪৫ হাজার টাকায় একটি ল্যাপটপ এবং ২২ হাজার টাকায় মাইক্রোসফট অফিস লাইসেন্স ক্রয় করেন, যা এখতিয়ারবহির্ভূত। প্রকল্পের টাকায় ট্রেনিংয়ের নামে ১২ লাখ টাকা খরচ করে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন চারজন। আরএফআইডি ট্যাগ কেনার নাম করে ২০ লাখ টাকা গায়েব করেছেন, যার কোনো হিসাব মিলছে না।

ড. সামাদি প্রকল্পের অর্থে পাঁচ হাজার এবং ছয় হাজার টাকা দিয়ে দুটি কলম কিনেছেন নিজের জন্য। কিন্তু সে কলম কোনো ব্র্যান্ডের অথবা এমন কলমের কার্যকারিতা কী, তারও কোনো তথ্য মেলেনি তদন্তে। ডাটা এন্টি কাজের জন্য ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় করা হয় মাত্র ২১ লাখ টাকা। অথচ এটিই ছিল প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ খাত। অভিযোগ পাওয়া গেছে গ্রন্থাগারের দায়িত্বে বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে শিক্ষক ড. সামাদির ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয় কিন্তু তিনি কল রিসিভ করেননি।

‘প্রকল্পের টাকায় অধ্যাপকের বিলাসিতা, ১১ হাজারে ক্রয় দুটি কলম’ শিরোনামে ৬ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে জাগো নিউজ ২৪ ডট কমে প্রকাশিত সংবাদের স্কিনশর্ট।

সাবেক এই প্রশাসনের বিরুদ্ধে এছাড়াও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যার সব গুলো উল্লেখ করা সম্ভব হয় নি। এ জাতীয় অভিযোগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সকল মানুষের কাছে অশনিসংকেত। দেশে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অথচ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কিছু হতে পারে কেউ হয়ত কল্পনাও করেনি। এ সকল সংবাদ পড়ে প্রগতিশীল মানুষদের হৃদয় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েছে। আমাদের স্বাধের স্বাধীনতা এভাবেই প্রতিনিয়ত বিপন্ন হচ্ছে।

কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে স্বার্থান্বেষীমহল প্রগতিশীলতার মুখোশ পড়ে সব সময়ই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই বলে হতাশ হলে চলবে না। প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য কাজ করে যেতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে মুক্ত আকাশ, লাল-সবুজের পতাকার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন, সোয়া চার লক্ষ মা-বোন পাষবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কৃতজ্ঞ চিত্তে সম্মানের সাথে এ সকল আত্মত্যাগ স্মরণের মাধ্যমেই আমরা সামনে এগিয়ে চলার শক্তি পাবো।

একুশে পদক প্রাপ্ত বিশিষ্ট  সাংবাদিক দৈনিক জনকন্ঠের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক শ্রদ্ধেয়  স্বদেশ রায়ের কথা দিয়ে শেষ করতে চাই, ‘এখন তরুণ যে- আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে নেমে পড়ার শ্রেষ্ঠ সময় তার। কেউ যেন কারও জন্যে অপেক্ষা না করে। পথে নামলেই পথ চলা হয়। আর পথে এগুলেই সংখ্যা বাড়তে থাকে, সারি দীর্ঘ হয়। দীর্ঘ সারি একসময় পথের শেষে বিজয়ের মালা নিয়ে আসে। সে বিজয়ের মালা হলো আধুনিক বাংলাদেশ সৃষ্টি করা।’

লেখক: মতিউর রহমান (মর্তুজা)

সম্পাদক, বাংলা প্রবাহ ২৪ ডটকম।

, ,
শর্টলিংকঃ