রাবির হেফজোখানা নিয়ে বিভ্রান্তির অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ভিসি বিরোধী ষড়যন্ত্র

  • 140
    Shares

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কবরস্থান জামে মসজিদ নির্মাণ এবং হেফজোখানা প্রতিষ্ঠানর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি প্রথমেই কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। এই কবরস্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র, শ্রদ্ধেয়-শিক্ষকমন্ডলী, কর্মকর্তা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। মৃত্যু অমোঘ নিয়তি। আমরা কেউ এর ঊর্ধ্বে নই। কবরবাসী আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক গুরুজন, আত্মীয়-পরিজন সকলের আত্মার শান্তি, মাগফিরাত কামনায় নামায, দোয়া-কোরআন তেলাওয়াত; এটা আমাদের ধর্মীয় দায়িত্ব, প্রাণের আকুতি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কবরস্থান, জায়গাটা অনেক নির্জন, মসজিদটির মুসল্লি সংখ্যা বিবেচনায়, কবরবাসী পরিজনদের আত্মার শান্তি, দোয়ার জন্য হেফজোখানা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আর এর সাথে সংশিষ্ট মানুষদের জামাতপন্থী ভাবাটা সমর্থনযোগ্য নয়।

আরও পড়ুনঃ সত্য উচ্চারিত হবেই হাজারো কন্ঠে; রাবিতে দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন

আমি ছোট-বড় সকলের মত ও চিন্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল, উগ্রবাদীতা সমর্থন করি না। তবে আমার পরবাসী ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা, পরিবার-আত্মীয়ের কবরের পাশে দোয়া, পবিত্র ধর্মগ্রন্থের পাঠের বিরোধিতা, আমাকে কষ্ট দেয়। নিজেদের মৃত – বাবা, মা বা আত্মীয়ের বেলায় এমন বিরোধিতা করবেন বলে আমার মনে হয় না।

আরও পড়ুনঃ রাবির সাবেক প্রশাসনের (২০১৩-২০১৭) অনিয়ম ও দুর্নীতি; গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ

আরেকটি কথা এসে যায় নামকরণ নিয়ে। মহান আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান। আমরা ইচ্ছে করলেই যে কোনো নামে তাকে ডাকতে পারি না, তার মহত্ত্ব ও মর্যাদার উপযোগী শব্দ ব্যতীত, সেটা প্রার্থনার সময় হোক আর বিপদমুক্তির জন্য হোক।

আরও পড়ুনঃ রাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বার্থান্বেষীমহল প্রগতিশীলতার মুখোশ পড়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত

আর উনার কোনো নামই কোনো ব্যক্তির নাম হতে পারে না। কারণ উনার গুনাবলী মানুষের আয়ত্ত্বের বাহিরে। তবে তার নামের আগে আব্দুল/আব্দুস/আব্দুর শব্দাংশ যোগ করে সেটাকে কোনো ব্যক্তির নাম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। যার বাংলা অর্থ দাস বা গোলাম।

যেমন-সোবহান অর্থ পবিত্র। মহান আল্লাহ যিনি পবিত্র। এটি আল্লাহর একটি নাম। আব্দুস/আব্দুর/আব্দুল সোবহান অর্থ আল্লাহর গোলাম।

বান্দা কখনও খোদার সমতূল্য নয়, তুলনা করাও উচিত নয়। যদি আব্দুস সোবহান হেফজোখানা নামকরণ হতো, তবে তা ব্যক্তি মানুষের নামে হতো। আর সোবহানিয়া হেফজোখানা পরম সৃষ্টিকর্তা খোদার নামে।

আরও পড়ুনঃ রাবির মিজান-সজল প্রশাসনের সাথে জামায়াত -বিএনপির ঘনিষ্ঠতা; গণমাধ্যমের ভাষ্য

যারা এটা নিয়ে কথা বলছেন, তারা এর অর্থ জানেন এবং জেনেই জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছেন। বিভ্রান্তির অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ক্ষমতা-রাজনীতি। অনেক প্রগতিশীল ভাই বন্ধুরাও অনেক কিছু লিখছেন, সকলের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা।

রবিন্দ্রনাথ লিখেছেন–
“চন্দ্র কহে-বিশ্ব আলো দিয়েছি ছড়ায়ে
কলঙ্ক যা আছে তাহা আছে মোর গায়ে”

পূর্ণিমার চাঁদ বিশ্ব পারাবার আলোকিত করে, আবার সেই সময়ই কেবল চাঁদের কলঙ্ক খোঁজা বা দেখা যায়, আমাবস্যায় নয়।

আরও পড়ুনঃ স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আপোষ করেন নি বলেই কী রাবি ভিসির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র?

প্রফেসর ড. আব্দুস সোবহান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণিমার চাঁদ, আর মিজান উদ্দিনসহ সাঙ্গপাঙ্গের অধ্যায় হলো নিষুতি কালো আমাবস্যার অধ্যায়। দয়া করে নিজে নিজেই মিলিয়ে নিবেন।

লেখক: এন. এ. এম. ফয়সাল আহমেদ
প্রভাষক
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, , ,
শর্টলিংকঃ