লকডাউনে রাবি প্রশাসন সাবেক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জিডি করা নিয়ে ব্যস্ত: তানভীর আহমেদ তুষার

রাবি প্রশাসন- অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যখন লকডাউনে নিজেদের বাস ব্যাবহার করে শিক্ষার্থীদের বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে ঠিক সেই সময় রাবি প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়োগ বাতিল এবং তাদের বিরুদ্ধে জিডি করা নিয়ে ব্যস্ত। সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবাহান স্যার ১৩৮ জনকে এডহক নিয়োগ দিয়ে যান যার মধ্যে ৪২ জনই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান। এখন তাদের চাকরীই অনিশ্চয়তায়! অথচ অতীতে ক্যাম্পাসে যখন ছাত্রশিবিরের আধিপত্য ছিলো, তখন প্রশাসনের ঠিকই ছাত্রলীগ দরকার ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত জ্ঞানচর্চা যখন সম্ভব ছিলো না, তখন ঠিকই ছাত্রলীগ দরকার ছিলো। মাগরিবের আযানের পর যখন মেয়েরা বাহিরে থাকলেই উত্যক্তের স্বীকার হতো তখন ছাত্রলীগের দরকার ছিল। “প্রতিক্রিয়াশীল থেকে প্রগতিশীল” এই অর্জন ফারুক ভাই, তাকিম ভাই, তুহিন ভাই, টগর ভাই, মাসুদ ভাই সহ অসংখ্য বড় ভাইদের রক্তের ওপর দিয়ে প্রতিষ্ঠিত। ছাত্রলীগ ভদ্র এবং মেধাবীদের সংগঠন। অন্তত শিবির সহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের চেয়ে ছাত্রলীগ ভদ্র। কারন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন ছাত্রলীগের সাথে যা করছে অন্য কোনো সরকারদলীয় সংগঠনের সাথে এরকম কি এরকম করতে পারত? অতীত ইতিহাস বলে “না” পারতো না। যেই সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের হাতে শিক্ষক হত্যার ইতিহাস আছে তাদের কখনোই এরকম করতে পারতোনা। আজ অনেকে বলছেন ছাত্রলীগ করা কি চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা হতে পারে! যদি জামায়াত-শিবির-ছাত্রদল করা চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা হয়, তাহলে ছাত্রলীগ করাও কেন চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা হবে না? উদাহরন বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের একসাথে ৫৪৪ জনের নিয়োগ।

কিন্তু আমার ছাত্রলীগের কোনো বড় ভাইই এখন পর্যন্ত বলেনি ছাত্রলীগ করা চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা। হ্যাঁ, এটাই ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে সবার যোগ্যতাই পদ অনুযায়ী ঠিক আছে। অনেকের বরং রেজাল্ট অনেক বেশি আছে। অথচ প্রশাসন এই নিয়োগ বাতিলের চেষ্টা করছে, যা আসলেই অনেক দুঃখজনক। যখন দেশে রাবির তুলনায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী বান্ধব কর্মসূচীর মাধ্যমে সবার পাশে দাঁড়াচ্ছে সেই সময়ে রাবির মূল ফোকাসই অন্যদিকে। রাজশাহী এখন রেড জোনে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ নিয়োগপ্রাপ্তদের অতিদ্রুত চাকরীতে যোগদানের সুযোগ করে দেন এবং পরিক্ষার কথা বলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসেছেন এখন তাদের জন্য কিছু একটা করেন।

লেখকঃ তানভীর আহমেদ তুষার, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, ,
শর্টলিংকঃ