সত্য উচ্চারিত হবেই হাজারো কন্ঠে; রাবিতে দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন

  • 742
    Shares

“অদ্ভূত আধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ

 যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশী আজ চোখে দ্যাখে তারা।”

সত্যিই অদ্ভূত আধার আজ আমাদের চারিদিকে। রাবি ক্যাম্পাসের বর্তমান বাস্তবতা দেখে জীবনানন্দ দাশের কবিতার পংঙ্কিটি মনে পড়ে।

যখন ন্যায়কে-অন্যায় দ্বারা বিপর্যস্ত হতে দেখি, সত্যকে মিথ্যা দ্বারা আড়াল করতে দেখি, আদর্শ-নীতি-নৈতিকতা ভূলে ক্ষমতার লোভে মিথ্যা-বানোয়াট গুজব এবং অভিযোগ প্রচার করতে দেখি—!!! আর এসব কিছুই যখন হতে দেখি “দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষক সমাজের ব্যানারে”।

আমার খুব প্রিয় জিনিস হলো- কলম। সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরও প্রিয়। আমার টির দাম মাত্র ৫ টাকা, এগার হাজার টাকা (১১০০০) নয়। সঙ্গত কারনেই এর তীক্ষ্ণতা ও ক্ষমতা অনেক কম, যা মন্ত্রনালয়-প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত পৌছানোর ক্ষমতা রাখে না। আমার এ অক্ষমতা সম্মানের বলেই মনে করি। তাই বলে জোর করে সত্যকে মিথ্যা, ন্যায়কে অন্যায়,দিনকে রাত বানানো! এত মিথ্যা কি “সত্য” সহ্য করতে পারে! নিশ্চয় পারে না। কারন- সত্যের পিছনে থাকেন স্বয়ং ঈশ্বর -ভগবান -আল্লাহ।

ধর্ম মতে-‘কর্ম ছাড়া অর্থ উপার্জন, মৃত্যুসম পাপ’। রাবি ক্যাম্পাসের রিজার্ভ পানির ট্যাংকির নিচে নির্মিত ক্যাফেটেরিয়া- যা আজ পরিত্যাক্ত, ১০ কোটি টাকার গেস্ট হাউজ ক্রয়, কেন্দ্রিয় লাইব্রেরীর দুটি কলম ১১০০০ টাকায় ক্রয়। এগুলো রাবির সাবেক প্রশাসনের হর্তা-কর্তাদের কর্ম ছাড়া  আয়ের কিছু খাত।

আবুল ফজল বলেছিলেন– ‘সংগীত, শিল্প, সাহিত্যে চুরি-ফাঁকিবাজি চলে না’। এ চুরি জাতীর জন্য কলঙ্কের। হ্যা, সেই কলঙ্কবহন করে চলেছে রাবির বুদ্ধিজীবি স্মৃতি ভাস্কর্য। ১৪০০ কেজি তামার পরিবর্তে ৬০০ কেজিরও কম ব্যবহার হয়েছে। রাবির সাবেক প্রশাসনের দুনীর্তির চিহ্ন বহন করছে ম্যুরালটি।

আদর্শহীন লোক সমাজের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। রাজনীতি নীতি আদর্শহীন হতে পারে না। ওয়ান-এলেভেনের সময় যিনি জননেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে গণসাক্ষর কর্মসূচিতে স্বাক্ষর প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন, রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন, কিংস পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি পরবর্তীতে ভিসি হয়ে, অফিসের দেয়ালে শিবিরের ক্যালেন্ডার ঝুলিয়েছেন। আর প্রগতিশীল ছাত্রদের ছাত্রত্ব বাতিল করেছেন, হাত পায়ের রগ কর্তনে সহায়তা করেছেন,পঙ্গু ছাত্রনেতাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দান করেছেন। এসব মুখোশধারী প্রগতিশীল এবং তাদের দোসররাই আজকের অভিযোগকারী।

শহীদ শামসুজ্জোহা স্যারের রক্তে ভেজা প্রিয় মতিহারের পূণ্যভূমির উপর দাড়িয়ে প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান জননেত্রী্র মুক্ত আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অকুতোভয়, উন্নতশির এই মানুষটি নিজের সুখ আরাম আয়েশ ত্যাগ করে, পরিবারের চিন্তা তুচ্ছ করে শেখ হাসিনার মুক্তিতে ঝাপিয়ে পড়েছেন, ১০৪ দিন নির্মম কারা নির্যাতন সহ্য করেছেন। মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে আদর্শে অবিচল-অটুট থেকেছেন।

তিনি রাবি উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়কে সাম্প্রদায়িক থাবা থেকে উদ্ধার করে প্রগতিশীল শিক্ষা ও গবেষনার কেন্দ্রে রুপদান করেছেন। উনার সততা, নিষ্ঠা, জ্ঞানগর্ভ বক্তব্যে বিমুগ্ধ হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা। প্রগতিশীল মানুষদের আস্থার নাম প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান।

এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা হলেন শিক্ষা ক্ষেত্রের শাহেদ-সাবরীনা। স্বাহ্যখাতের শাহেদ-সাবরীনার মতই এরা অনেক শক্তিশালী। এদের কলমের মূল্য ১১০০০ হাজার টাকা, তাই ইউজিসি তাদের মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ আমলে নেয়। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব করে, আইনের ব্যতয় ঘটিয়ে কোন শিক্ষক/উপাচার্য/বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাহানি করে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। বাস্তবতা হলো মেঘ কখনো সূর্যকে ঢেকে রাখতে পারে না, অন্ধকার ক্ষনস্হায়ী।

“হে জ্ঞানী, আকাশের চেয়ে উচ্চতা বেশী কার

জ্ঞানী বলে, বাছা সত্যের চেয়ে উচু নাহি কিছু আর”

(শেখ ফজলুল করিম)

আমি না লিখলেও কেউ না কেউ লিখবেই, সত্য উচ্চারিত হবেই হাজারো কন্ঠে।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক: এন. এ. এম. ফয়সাল আহমেদ
প্রভাষক
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, ,
শর্টলিংকঃ