ক্লাসবর্জনের ক্ষতিপূরণে উদাসীনতার অভিযোগ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

Ecare Solutions

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নিয়োগ সহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণ দেখিয়ে গত বছর (২০২০ সাল) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে নিষেধাজ্ঞা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালাতে থাকে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। আন্দোলনের অংশসরূপ ক্লাস থেকে টানা ৭৬ দিন দূরে থাকেন তারা। শিক্ষার্থীরা পড়ে যায় বড় সেশনজটের আশংকায়। যেখানে এম্নিতেই করোনার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস অনেকদিন যাবত বন্ধ সেখানে অনলাইন ক্লাসগুলো বন্ধ রেখে আন্দোলন করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষক সমিতি ক্লাস বর্জনের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য চালাতে থাকে আন্দোলন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও সেসময়ে শিক্ষক নেতাদের দেয়া ক্ষতি মেটানোর আশ্বাস পূরণ করতে ব্যর্থ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। বরং শিক্ষার্থীদের ঘাড়েই ক্ষতির বোঝা রয়ে গেছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

জানা যায়, গতবছর ২৫ জুন ইউজিসি এক ভার্চুয়াল সভায় ৪৬ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের মতামতের আলোকে অনলাইন পাঠদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে আলোকে নোবিপ্রবি ৩০ জুন থেকে অনলাইন একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করলেও মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের’ মত সামনে এসেছে শিক্ষকদের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ডাক। ফলে কিছুদিন যেতে না যেতেই নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির ডাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে সকল ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।

ক্লাস বর্জনের সময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নানান ক্ষোভ তৈরী হলে তখন ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কথা বলে আন্দোলন দীর্ঘায়িত করে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। শিক্ষার্থীদের মতে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে করোনায় নানামুখী ক্ষতির সম্মুখীন শিক্ষার্থীদের আরো পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেলেও নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে গিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বাংলা প্রবাহ কে জানায়, ‘গতবছরে থার্ড ইয়ারের ২য় সেমিস্টার এর ক্লাস শুরু করা কথা থাকলেও শিক্ষকদের আন্দোলনে দেরিতে শুরু হয় এবং প্রায় সম্পূর্ণ ক্লাস এখনো বাকি। এমনকি ওই ইয়ারের ১ম সেমিস্টারের ক্লাসগুলোও এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভাবে শেষ করা হয়নি। তাহলে কিভাবে পুষিয়ে দেয়া হচ্ছে আসলে? শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী এ বছর অনার্স শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা স্বপ্ন! গত ফ্রেবুয়ারী থেকে পরিক্ষা হবে হবে বলেও এখনো পরিক্ষার বিষয়ে আমার বিভাগ কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।’

ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মিশকাত বলেন, ‘করোনার কারনে মাস্টার্স ২ বছরেও শেষ করতে পারিনি। জব করতাম জবটাও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি গত ফেব্রুয়ারিতে এক্সাম হওয়ার কথা থাকলেও হয় নি। এখন আমি জবলেস, হতাশা কাজ করে অনেক।’

৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াদ হোসেন বলেন, ‘যেহেতু শিক্ষকরা প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষানোর কথা বলেছেন, সেহেতু নিশ্চয়ই তাঁরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে চলমান এবং পরবর্তী সেমিস্টারগুলোতে এর প্রভাব পড়ে। এখন যাঁরা চতুর্থ বর্ষে আছে, তাঁদের ক্ষতি পোষাবে না৷ প্রশাসনের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে চতুর্থ বর্ষসহ সকল সেমিস্টারগুলো শেষ করা।’

৩য় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শিক্ষক সমিতি ক্ষতি সমন্বয় করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তবে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ কিংবা তৎপরতা আমার চোখে পড়েনি। দুঃখের বিষয় সমন্বয়ের ব্যাপারে কর্মবিরতির পরবর্তীকালে কোনো শিক্ষক এ ব্যাপারে তেমন কোনো মন্তব্যও করেননি। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও এ বিষয়ে কোনো দাবি তোলেননি। মহামারিতে পাঠদানে ধীরগতির কারণে দাবীর ব্যাপারটি কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। বিষয়গুলো আপাতঃদৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ মনে নাও হতে পারে, তবে আমার কাছে ভবিষ্যত আস্থার জায়গা থেকে ব্যাপক তাৎপর্য বহন করে।’

কিভাবো ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে এমন প্রশ্নে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। আটকে থাকা সেমিস্টারের পরীক্ষাগুলো পর্যায়ক্রমে দ্রুত শেষ করা হবে এবং নতুন সেমিস্টারগুলোও দ্রুত শেষ করে দেয়া হবে।’

বাংলা প্রবাহ/আর আই

Ecare Solutions
, ,
শর্টলিংকঃ