মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা মাসুদের প্রত্যাশা শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে

‘আব্দুল্লাহ আল মাসুদ’ নামটা রাজনৈতিক সচেতন যেকোনো ব্যক্তি উচ্চারণের সাথে সাথেই জামাত শিবিরের হায়েনা রুপটা তাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আর সাধারণ মানুষ মাসুদকে প্রথম দেখাতেই অবাক হয়ে যায় শরীরে এত আঘাত!! প্যান্ট শার্ট পড়েও শরীর, হাত, পা মাথার আঘাতের চিহ্ন গুলো , জখমের বড় বড় গর্ত দাগগুলো আড়াল করা যায় না। স্পষ্ট দেখা যায় সব। মানুষ কতটা! নরপশু হলে মানুষ হয়ে আরেকটা মানুষকে এত! এত পরিমাণ কুপিয়ে জখম করে!! গোটা শরীরের কোন স্থান বাদ নেই আঘাতের চিহ্ন থেকে। প্রথম দেখাতে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলে জিজ্ঞেস করে কিভাবে হলো, কিসের আঘাত, অনেকেই পাশ থেকে আঘাত গুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। কোন উত্তর দিতে পারি না।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় সাত বছর হয়ে গেলো অথচ মাসুদকে এক পা ছাড়াই থাকতে হয়। বাইরে বের হলে একটা নড়বড়ে কাঠের পা নিয়ে খুব কষ্ট করে চলাচল করতে পারে। ৫-৬ লাখ টাকার একটি উন্নতমানের পায়ের জন্য প্রতিনিয়ত মাসুদ চাপা কষ্ট নিয়ে থাকে আর চেয়ে থাকে কখন একটা উন্নত মানের অর্গানিক ভালো পা কিনে কিছুটা হলেও স্বাভাবিক চলাচল করতে পারবো। একসাথেই থাকার কারণে দেখেছি প্রায় প্রতিদিনই একটা ভালো পায়ের জন্য আবেগী হয়ে যায়, কাঁদতে লাগে।

গত সাত বছরে নিজ দলের অনেক নেতাদের কাছে বলেছে একটা পা এর জন্য কোন ফলাফল আসেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ এর জন্য দীর্ঘদিন থেকে চেষ্টাও করছে। সেটাও সম্ভব হয়নি।

সেই কালো সময়ঃ ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল সকাল ৮ টায় ক্লাসের উদ্দেশ্যে বের হওয়া ছাত্রলীগের সুস্থ, সবল, নিখুঁত শরীরের অধিকারী ছাত্রলীগের দুই উদীয়মান নেতা মাসুদ ও টগর মোঃ সালেহ। এক মিনিট আগেও ভাবতে পারেনি যে, জামাত শিবিরের হায়েনারা তাদের শেষ করার জন্য জিয়া হলের সামনে সশস্ত্র অবস্থান করছে। সেই হামলায় জামাত শিবির আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা, ককটেল, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল এমন কোন অস্ত্র বাদ ছিলো না, যে তারা ব্যবহার করেনি।

প্রকাশ্য দিনের বেলা ৪০-৪৫ জন ক্যাডার একসাথে দুজনের উপর হামলা করে, সেই হামলার স্থানেই মাসুদের ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, গোটা শরীরে অসংখ্য চাপাতি – চাইনিজের কোপে রক্তাক্ত সম্পূর্ণ শরীর, বাকি তিন হাত পা এর রগও কাটা। টগরেরও হাত পা এর রোগ কেটে মাথায় গুরুতর জখম করে। সে কিছুটা সুস্থ হলেও মাসুদ কোন রকমে বেঁচে আছেন।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ২য় মেয়াদে ক্ষমতায় আসলেও রাবি ক্যাম্পাস ছিলো ভুতুড়ে। মাত্র তিন চারটা হলে হাতে গোনা ২০-২৫ ছাত্রলীগ। বেশিরভাগ হলেই ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে চলে আসে। সুবিধাবাদী অনেক ছাত্রলীগ রাজনীতি ছেড়ে ‘জেনারেল ছাত্র’ সেজে হল ছেড়ে মেসে উঠে যায়। তারা ভাবতো ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেও ৬ মাসের বেশি টিকবে না! কর্মীশূন্য প্রায় ক্যাম্পাসে মাসুদ- টগরদের সেশনের কিছু সাহসী উদ্যমী বন্ধুরা জয় বাংলা স্লোগানে ছাত্রলীগে সংগঠিত হয়। এজন্যই জামাত শিবির এই সার্কেলটাকে টার্গেট করে মাসুদ- টগরকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা নিয়ে তাদের উপর হামলা করে।

মাসুদ- টগরের রক্ত নিয়ে কত রাজনীতি হয়েছে। কত জন কতভাবে সুবিধা ভোগ করেছে। কিন্তু মাসুদ টগরকে কেউ মনে রাখেনি। শুধু ব্যানার পোস্টার বক্তব্যে তাদের নাম স্মরণ করা হয় রাজনৈতিক ভাবে।

মাঝখানে রাবিতে মাসুদ-টগর নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও তারা যোগদান করতে পারেনি। সেই চাকুরীর জন্য গত তিনমাস থেকে মাসুদ টগরকে রাজশাহী -ঢাকা যাওয়া আসা, নেতাদের কাছে প্রতিনিয়ত ধর্ণা দেওয়া লাগে। চাকরির জন্য রাস্তায় বসে আন্দোলন করা লাগে তবুও কোন নেতা মন্ত্রী, এমপি র চোখে এসব পড়ে দয়া হয় নি। সবাই নিজ নিয়ে ব্যস্ত। অনুভূতি হীন হয়ে গেছে নেতারা।

ছোট ভাই মাসুদ আমাকে বারবার একটা কথা বলতো, ভাই আমি চাকরি করলে বেতনের টাকা সব জমা করে ৫-৬ লাখ টাকা দিয়ে একটা ভালো পা কিনবো। জীবনের সবকিছু হারিয়ে এটাই তার স্বপ্ন এখন। যাতে মায়ের সামনে একটু স্বাভাবিক চলাচল করতে পারে, একটু নিজের হাতে সেবা করতে পারে।

মাসুদের বাবা মারা যায় সে আহত হওয়ার আগেই। আর মা!! আদরের ছোট ছেলের আহত হওয়ার খবর শুনে জনম দুঃখিনী মা আজ পাগল। ছেলে মায়ের সেবা করবে, না মা ছেলের সেবা করবে??

মাসুদের মনোবল সাহস তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এখনও সে প্রবল মানসিক শক্তি নিয়ে সারাদিন রাত কষ্ট করে যাচ্ছে। একটা উন্নত মানের অর্গানিক পা হলে কিছুটা স্বাভাবিক চলাচল করতে পারতো, বেঁচে থাকা পাগল মায়ের অন্তত সেবা করতে পারতো। হয়ত মা এই ভেবে একটু শান্তি পেতো যে, তার সেই দুরন্ত সুদর্শন সবল, আদরের মমতার ভালোবাসার ছেলেটার পা ঠিক হয়ে গেছে। হয়ত এটা দেখেও দুঃখিনী মা র মুখে হাসি ফুটতে পারতো।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ১২ বছরের বেশি। সাত বছর থেকে মাসুদ বিভিন্ন নেতাদের দরবারে গিয়েছে কোন ফলাফল পায়নি। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে তার পরিবার নগদ টাকাসহ জমি বিক্রি করে নিঃস্ব। অথচ রাবিতেই রাজনৈতিক কোন্দলে আহত শিবিরের ক্যাডার রাসেল এর সম্পূর্ণ চিকিৎসা ও উন্নত পা এর ব্যবস্থা একমাসেই হয়ে যায় তাদের দল থেকে।

আর যে দলের জন্য ও আদর্শের জন্য মাসুদ আজ পঙ্গু সেই দল ১২ বছরের বেশি ক্ষমতায়, দলের নাম ভেঙে সুবিধাবাদীরা ও অনেক নেতা এমপি রা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে তাদের কেউ এগিয়ে আসেনি মাত্র ৫-৬ লাখ টাকার একটা পা এর জন্য।

আমরা চাই মাসুদ আমাদের সাথে হাসিখুশি থাকবে, কিছুটা হলেও স্বাভাবিক চলাচল করতে পারবে। তার বাবার অঢেল সম্পদও নেই, চাকরি বা কর্ম করেই তাকে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। ৫-৬ লাখ টাকার একটা পায়ের জন্য কি মাসুদের প্রতিনিয়ত চোখের জল দেখতে থাকবো? বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেও একটা চাকরি করার অধিকার নেই তার?? ছাত্রলীগ সর্বোপরি আওয়ামী লীগের কি মাসুদের প্রতি কোন দায়িত্ব নেই বা অতীতে ছিলো না? নাকি এই রাজনৈতিক সমাজ তাকে পঙ্গু হিসেবে বারবার উপস্থাপন করে রাজনীতি করবে কিন্তু তাকে একটা সুন্দর নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনের কোন ব্যবস্থা করবে না? কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ মাসুদ- টগরকে সদস্য পদ দিয়েই নিজেদের দায় সেরেছে। মনে হয়েছে এটা দিয়ে তাদের সব ঋণ শোধ। তারা কিভাবে আছে কিভাবে ভবিষ্যতে থাকবে কারো কোন গুরুত্ব নেই।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এখন আর কোন নেতা, দলীয় ব্যবসায়ী ঠিকাদার বা এমপি-মন্ত্রীদের কাছে কোন প্রত্যাশা করতে পারেনা, এখন শুধু একজন মানুষের প্রতি প্রত্যাশা করে, তিনি হলেন মমতাময়ী মা, ত্যাগী নির্যাতিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের একমাত্র আস্থা ভরসা বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক: মুঃ আতিকুর রহমান সুমন

সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সাবেক সহসভাপতি উপদপ্তর সম্পাদক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, ,
শর্টলিংকঃ