প্রতিবেশী দেশসমূহে পাকিস্তানের সন্ত্রাস রফতানীর নীতি সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি

আজ ১৪ আগস্ট (২০২১) দুপুর ২টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে পাকিস্তান বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেন, ‘প্রতিবেশী দেশসমূহে পাকিস্তানের সন্ত্রাস রফতানীর নীতি সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি’।

‘পাকিস্তান: আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’ শীর্ষক এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক সাংবাদিক চলচ্চিত্রনির্মাতা শাহরিয়ার কবির।

ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশিয় গণসম্মিলন-এর সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত বেলুচ বুদ্ধিজীবী ড. নাসির দাস্তি, যুক্তরাষ্ট্রের আফগান ইন্টেলেকচুয়ালস গ্লোবাল কমিউনিটির সভাপতি আফগান লেখক শাহী সাদাত, যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ল্ড সিন্ধি কংগ্রেস-এর সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা ড. লাকুমাল লুহানা, বেলুচ ভয়েস-এর সভাপতি সুইজারল্যান্ডে নির্বাসিত মানবাধিকার নেতা মুনীর মেঙ্গল, যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেত্রী ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সভাপতি সমাজকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী ও ভারতের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার।

সভাপতির প্রারম্ভিক বক্তব্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণকারী পাকিস্তান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বক্তা এবং শ্রোতাদর্শকদের স্বাগত জানিয়ে নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমার কিছু উদারমনা পাকিস্তানি বন্ধু আজকের সম্মেলনের শিরোনামে পাকিস্তানকে দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করায় বিব্রত বোধ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের জন্য এই বিশেষণ আমাদের আবিষ্কার নয়। ২০০১-এর ৯/১১-এর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর থেকে পশ্চিমের বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক পাকিস্তানকে দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র বলেছেন।’

সিনেটর ল্যারি প্রেসলির একটি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘মার্কিন সিনেটর ল্যারি প্রেসলিও বলেছেন, সন্ত্রাস সম্পর্কে পাকিস্তান যদি নীতি পরিবর্তন না করে এটিকে অবশ্যই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। পাকিস্তানকে দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাকিস্তান যে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয় নি তার প্রধান কারণ এই দেশটির জন্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থসাহায্য।’

‘বিপুল বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াও পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও সামরিক বাহিনী আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চলে পপি চাষ থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার আয় করছে, যা প্রধানত: ব্যয় হচ্ছে সন্ত্রাস উৎপাদনের জন্য। পাকিস্তান কীভাবে তালেবান ও আল কায়দার মতো সন্ত্রাসী জিহাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এ নিয়ে পাকিস্তানি গবেষকরাও প্রচুর লিখেছেন। পাকিস্তান হচ্ছে বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাস উৎপাদনকারী, বিপণনকারী ও রফতানিকারী দেশ। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের জঙ্গীদের অর্থায়নের সময় ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাসের কর্মকর্তারা বমাল ধরা পড়েছেন। পাকিস্তানের জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস রফতানির নীতি সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। বিশ্বব্যাপী পাকিস্তান ও সন্ত্রাস সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে।’

মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশিয় গণসম্মিলন-এর সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আপনারা জানেন, পাকিস্তান এখনো ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স-এর ‘গ্রে লিস্ট’ থেকে তাদের নাম মুছে ফেলতে পারেনি। কারণ, জঙ্গীবাদে অর্থায়ন ও তা বহির্বিশ্বে প্রসারিত করার সুবাদে জড়িত রাষ্ট্রগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটির মতে, পাকিস্তান এখনো জঙ্গী অর্থায়ন এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে জঙ্গীবাদের প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। পূর্বে ভারত ও বাংলাদেশ পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য ছিল, এখন আফগানিস্তান এ তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে। যদিও মুখে মুখে পাকিস্তান তালেবানদের বিরুদ্ধে কথা বলছে, কিন্তু বিশ্বময় স্বীকৃত যেÑ তালেবানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান। খোদ পাকিস্তানেই তালেবানের ১০ হাজার সদস্যবিশিষ্ট জঙ্গী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে যারা দায়মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে আর্থিকভাবে সুবিধা পায়। শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আফগান প্রেসিডেন্ট জনাব আশরাফ ঘানি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বারবার বলেছেন, সত্যিকার অর্থেই পাকিস্তান তালেবানের পালনকর্তা এবং উস্কানি দাতা।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি বলে, ‘পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের দোসররা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিশ লাখ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, চার লাখেরও বেশি নারী তাদের ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অপারেশন সার্চ লাইট ক্র্যাক-ডাউন-এর প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি সেনারা আমার  পিতামহ পাকিস্তান আইন পরিষদের প্রাক্তন সদস্য ভাষাসংগ্রামী ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত (৮৫) ও তাঁর ছেলে দিলীপ দত্তকে (৪৫) গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়ে কুমিল্লা ময়নামতি  সেনানিবাসে পিতা-পুত্রকে পনেরো দিনেরও বেশি সময় নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করার পর কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের একটি “গণকবরে” ফেলে দেয়। এরপর তাঁদের লাশ আর পাওয়া যায়নি। এই ১৪ আগস্টে আমি এখনও অবাক হয়ে ভাবি, কিভাবে পাকিস্তানের জনগণ গণহত্যার কথা মনে না করে তাদের স্বাধীনতার দিবস উদযাপন করে!’

তালেবান বর্বরতার শিকার যুক্তরাষ্ট্রের আফগান ইন্টেলেকচুয়ালস গ্লোবাল কমিউনিটির সভাপতি, আফগান লেখক শাহী সাদাত বলেন, ‘আফগানিস্তানের কান্দাহারের রাস্তায় শত শত আফগান নাগরিকদের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। নিহতদের মাঝে শিক্ষক, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। তালেবানরা তাদের বর্বরতা অব্যহত রেখেছে। দিন কয়েক পূর্বে আমি তালেবান ও পাকিস্তানের বিশেষ বাহিনীর বেশ কিছু সমরাস্ত্র পরিপূর্ণ বাহনের আফগানিস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রার খবর পেয়েছি। কিন্তু পশ্চিমের গণমাধ্যম তালেবানদের ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছিল যে, তালেবান ও পাকিস্তানের জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো তাদের পূর্বের ধর্মীয় জঙ্গীবাদ থেকে সরে এসেছে যা সম্পূর্ণভাবে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তালেবানসহ পাকিস্তানে বিভিন্ন জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোকে মদদ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের অর্থের উৎস কোথায়? পশ্চিমা দেশগুলো কেন এই আর্থিক উৎস বন্ধ করছে না? পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী চুক্তিতে স্বাক্ষর না করেও পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করার বদলে বরং তাদের জঙ্গীবাদকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে। পশ্চিমারা তালেবান ও আফগানিস্তানকে দ্বিতীয়বারের মতো তাদের স্বার্থে ব্যবহার করা শুরু করেছে, যার ফলে আফগানিস্তান বিশ্বব্যাপী জঙ্গীবাদের চারণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের উচিত পাকিস্তানের জঙ্গীপোষণ ও আফগানিস্তানে তালেবানদের এই বর্বরতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক গণসচেতনতা তৈরি করা।’

যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ল্ড সিন্ধি কংগ্রেস-এর সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা ড. লাকুমাল লুহানা বলেন, ‘জন্মের পর থেকে পাকিস্তান একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র, যে দেশটি প্রাচীন জাতিসত্ত্বাগুলোর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং শক্তি প্রয়োগ করে জাতিগুলো নির্মূলের চেষ্টা করে, যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ৩০ লক্ষাধিক বাঙালি হত্যা ও দুই লক্ষাধিক বাঙালি নারী ধর্ষণের মাধ্যমে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত করে। সিন্ধি, বেলুচ এবং পশতুন জাতির ওপর তাদের গণহত্যা চলমান। আন্তর্জাতিকভাবে তারা পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সকল দেশকে অস্থিতিশীল বানানোর পাঁয়তারা করছে। সন্দেহাতীতভাবে স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় জঙ্গীবাদের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজ রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় আন্দোলনগুলোকে দমন করে এবং নিজ স্বার্থে মৌলবাদী সন্ত্রাস বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আল-কায়দার সহায়তাকারী পাকিস্তান তালেবানদের প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে ডজন ডজন জঙ্গীগোষ্ঠী তৈরি করেছে। বর্তমানে অকার্যকর রাষ্ট্র পাকিস্তানে এ অবস্থা চলতে থাকলে এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোতে বিভিন্ন জঙ্গী হামলা ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকবে।’

বেলুচ ভয়েস-এর সভাপতি সুইজারল্যান্ডে নির্বাসিত মানবাধিকার নেতা মুনীর মেঙ্গল বলেন, ‘পাকিস্তানের বিভিন্ন রাষ্ট্রক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গ সহ পাকিস্তানের সামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বহুবার তাদের বক্তব্যে পরিষ্কার করেছে যে, পাকিস্তান তালেবানের মাষ্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো তা বিবেচনায় আনছে না এবং সারা বিশ্বব্যাপী পাকিস্তানের এরকম জঙ্গীবাদ প্রসারের বিরুদ্ধে তেমন কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, যা পাকিস্তানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোসহ সারা বিশ্বব্যাপী মানবতার জন্য হুমকিস্বরূপ। স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে পাকিস্তানের জঙ্গীবাদ ও আফগানিস্তানে তালেবান নৃশংসতার চিত্র সারা বিশ্বে তুলে ধরে তা নির্মূলের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সমর্থন আদায় করা।’

যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন বলেন, ‘আমি বলব চরমপন্থা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো পাকিস্তানকে তার আচরণের জন্য জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে না পারা। পাকিস্তানে আমাদের সকলেরই বন্ধু আছে যারা চায়Ñ দেশটি ভিন্ন দিকে মোড় নিক। পাকিস্তানি আইএসআই-এর বিরুদ্ধে লড়াকু কর্মীদের ব্যাপারে আমরা সবাই ওয়াকিবহাল। দুঃখজনকভাবে তাদের অনেকে পরে রাষ্ট্র দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে। যখন পাকিস্তান কোন সমালোচনার মুখে পড়ে তখন দেশটি কূটনীতিক ও উদারপন্থীদের পিপিপি এবং অন্যান্য দলে ব্যবহার করে দেখায় কিভাবে পাকিস্তান সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের এ আচরণে কঠোর না হওয়ায় আমরা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হচ্ছি। ইমরান খান সাপের মতো, তার কোন মেরুদন্ড নেই। তার দল পিটিআই জামায়াতে ইসলামীর মৌলবাদীদের সমর্থন ও ব্যবহার করে। আমাদের অবশ্যই চীন-পাকিস্তানের উইঘুর নিয়ে পরস্পরবিরোধী খেলার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ২০০৯ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি পাকিস্তানের প্রধান কট্টরপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। যার মাধ্যমে চীন মওদুদীর দল জামায়াতে ইসলামিকে পাকিস্তানে তাদের কর্মকাণ্ডকে জন্য উৎসাহিত করেছে যা দুই স্বৈরতন্ত্রের মৈত্রীর স্মারক। নাস্তিক চীন এবং ধর্মীয় মৌলবাদীরা এতটাই কাছাকাছি যে অনেকেরই তা কল্পনার বাইরে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেত্রী ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ বলেন, ‘একাত্তরে বাংলাদেশে যে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ পাকিস্তান রাষ্ট্রটি সংঘটিত করেছে তার দায়ভার পাকিস্তান এড়িয়ে যেতে পারে না। পাকিস্তানকে স্বীকার করে নিতেই হবে যে একাত্তরে রাষ্ট্রটি বাংলাদেশে সভ্যতার নিকৃষ্টতম অপরাধসমূহ সংঘটন করেছে। এই অপরাধসমূহের জন্য পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। আর শুধু তা-ই নয়, একাত্তরে সংঘটিত অপরাধ সমূহের বিচার না করে পাকিস্তান বড় ভুল করেছে। আজকে পাকিস্তান  মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের আবাসভূমিতে পরিণত হয়েছে। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে তা সমাজকে আরও বেশী বিধ্বংসী করে তোলেÑ দুর্ভাগ্যজনক হলেও, এটাই আজকের পাকিস্তানের চরম বাস্তবতা।’

‘ভারতের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার বলেন, ‘পাকিস্তান সরকার সকল নিয়ম নীতি বিসর্জন দিয়ে ভারতকে টুকরো টুকরো করার উদ্দেশ্য নিয়ে ক্রমাগত জঙ্গী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে এবং এগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য পশ্চিমের দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে। মাঝে মাঝে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে কিছু লোক দেখানো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হলেও জঙ্গী কার্যক্রম মোকাবেলায় পাকিস্তান সম্পূর্ণ ব্যর্থ। লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জয়েশ-ই-মোহাম্মদের মতো নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন ও তাদের প্রধান হাফিজ সাঈদের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আর্থিক বন্ধন বন্ধ করতে হবে। সম্প্রতি, পাকিস্তানের আদালত ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্টার ড্যানিয়েল পার্ল-এর অপহরণের পর খুনের মামলায় করাচি থেকে জড়িত জঙ্গীদের খালাস দিয়েছে। এদের মধ্যে প্রাথমিক ষড়যন্ত্রকারী ওমর সাদ শেখকে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট বেকসুর খালাস দেয় যা জঙ্গীবাদের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাঝে বিশাল প্রশ্নের সঞ্চার করেছে।’

সভার বক্তারা তালেবানদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নিয়োজিত নির্যাতিত আফগান জনগণের প্রতি নির্মূল কমিটির অকুণ্ঠ সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আগামীতে সম্মিলিত উদ্যোগে সন্ত্রাসবিরোধী নাগরিক আন্দোলন বিশ্ব পরিসরে বিস্তৃত করতে হবে।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, ,
শর্টলিংকঃ