বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রকৃত কারণ ও ষড়যন্ত্র উন্মোচনের জন্য আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের দাবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

জাতির পিতা ও রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের গভীর ও সুদূরপ্রসারী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র উন্মোচনের জন্য উচ্চমানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’। আজ (১৬ আগস্ট) সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়-

‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং সচেতন নাগরিক সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার কারণ ও নেপথ্যের কুশিলবদের চেহারা জাতির সামনে উন্মোচনের জন্য সরকারের উদ্যোগে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাবকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে এই কমিশন কাদের নিয়ে গঠিত হবে, কার্যপরিধি কী হবে, কতদিনের ভেতর কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার।

‘আজ (১৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে মাননীয় আইনমন্ত্রীর বক্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যেখানে তিনি বলেছেন প্রস্তাবিত ‘কমিশন নিরপেক্ষ হবে’। আমরা মনে করি এ ক্ষেত্রে ‘নিরপেক্ষ’ শব্দটি বিভ্রান্তিমূলক। নিরপেক্ষতার কথা বলা হলে ঘাতকদের দল এবং তাদের সহযোগী ও পুনর্বাসনকারীরা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। আমাদের মতে কমিশনকে হতে হবে স্বচ্ছ, মানসম্পন্ন এবং প্রতিবেদন হতে হবে সত্যনিষ্ঠ। নিরপেক্ষতার নামে অতীতে অনেক দায়সারা ও জগাখিঁচুড়ি সরকারি কমিশন আমরা দেখেছি, যার প্রতিবেদন কখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

‘যেহেতু, হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশের জাতির পিতা, রাষ্ট্রপতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত একজন রাষ্ট্রনায়ককে, যেহেতু, এই নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র জড়িত এবং যেহেতু বঙ্গবন্ধুর হত্যার রাজনীতি ও ষড়যন্ত্র থেকে বাংলাদেশ এখনও মুক্ত নয়; সেহেতু সরকারের নিকট আমরা দাবি জানাচ্ছি এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র উন্মোচনের জন্য উচ্চমানসম্পন্ন একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করতে হবে।

‘অতীতে যেহেতু নির্মূল কমিটি ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক অনেক তদন্ত কমিশন গঠন এবং যথাসময়ে এর প্রতিবেদন জাতির সামনে প্রকাশ করেছে; সেহেতু প্রস্তাবিত কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সরকার চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে পারি।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাক্ষর করেন- বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, লেখক সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, অধ্যাপক অনুপম সেন, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুননবী, অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, অধ্যাপক ডাঃ কাজী কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অবঃ) আলমগীর সাত্তার বীরপ্রতীক, ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাহাবউদ্দিন আহমেদ বীরউত্তম, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুর রশীদ (অবঃ), মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ আমজাদ হোসেন, ড. নূরন নবী, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদজায়া সালমা হক, সমাজকর্মী আরমা দত্ত এমপি, কলামিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, অধ্যাপক শিল্পী আবুল বারক আলভী, সমাজকর্মী কাজী মুকুল, ড. ফরিদা মজিদ, অধ্যাপক আয়েশ উদ্দিন, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ডাঃ ইকবাল কবীর, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান শহীদ, এডভোকেট আবদুস সালাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক আবদুল গাফ্ফার, কবি জয়দুল হোসেন, ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, মুক্তিযোদ্ধা কাজী লুৎফর রহমান, সাবেক জাতীয় ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু, সমাজকর্মী কামরুননেসা মান্নান, এডভোকেট আজাহার উল্লাহ্ ভূঁইয়া, সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই ফেরদৌসী লাকী, অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব, সাংবাদিক শওকত বাঙালি, উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ নুজহাত চৌধুরী শম্পা, লেখক আলী আকবর টাবী, সমাজকর্মী চন্দন শীল, এডভোকেট কাজী মানছুরুল হক খসরু, এডভোকেট দীপক ঘোষ, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, শহীদসন্তান তৌহিদ রেজা নূর, শহীদসন্তান শমী কায়সার, শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, শহীদসন্তান তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, মানবাধিকারকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, মানবাধিকারকর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, মানবাধিকারকর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া, এডভোকেট আবদুল মালেক, সাংবাদিক দিব্যেন্দু দ্বীপ, অধ্যাপক সুজিত সরকার, সমাজকর্মী হারুণ অর রশীদ, এডভোকেট মালেক শেখ, সহকারী অধ্যাপক তপন পালিত, সমাজকর্মী শিমন বাস্কে, সমাজকর্মী শেখ আলী শাহনেওয়াজ পরাগ, সমাজকর্মী সাইফ উদ্দিন রুবেল, লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি প্রমুখ।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, ,
শর্টলিংকঃ