‘মৌলবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ শীর্ষক নির্মূল কমিটির আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার

আজ (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াড কর্তৃক আয়োজিত ‘মৌলবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীতশিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষালের সভাপতিত্বে ও নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই-ফেরদৌসীর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য প্রদান করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য প্রদান করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীতশিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, লালন সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি সঙ্গীতশিল্পী মাহমুদ সেলিম, আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান, আদিবাসী বিষয়ক জাতীয় কোয়ালিশনের সংগঠক সাংবাদিক আসাদুল্লাহ সরকার, জাগরণের গানের সংগঠক সঙ্গীতশিল্পী অরিত্র রতন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সংস্কৃতিকর্মী রেমন্ড আরেং, গণসঙ্গীতশিল্পী আরিফ রহমান, টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিজম, তুরস্ক-এর সাধারণ সম্পাদক লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি, নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সদস্য সংস্কৃতিকর্মী পিন্টু সাহা ও ইন্দো-বাংলাদেশ ফোরাম ফর সেক্যুলার হিউম্যানিজমের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ভারতের সঙ্গীতশিল্পী শিউলি ভট্টাচার্য।

সভার প্রধান বক্তা নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘ইসলামের দোহাই দিয়ে যে মৌলবাদী সন্ত্রাসী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ’৭১-এর গণহত্যা ও নারীধর্ষণকে বৈধতা দিয়েছিল, তারাই ’৭৫-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির মৌলবাদীকরণ ও পাকিস্তানিকরণের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তা বার বার তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। তাদেরই রাজনৈতিক ও আদর্শিক উত্তরসূরি হচ্ছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের তালেবান, আল কায়দা ও আইএস। পঁচিশ বছর আগে আফগানিস্তানে তালেবানরা প্রথমবার ক্ষমতা দখল করে সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, চিত্রকলা চলচ্চিত্র সব কিছু নিষিদ্ধ করেছিল। নারীদের গৃহবন্দি করেছিল। অথচ এই আফগানিস্তানই জন্ম দিয়েছে হযরত জালালউদ্দিন রুমির মতো সঙ্গীত ও নৃত্যপ্রেমী সুফী সাধককে। সেমা নৃত্য ও সঙ্গীতের মাধ্যমে তিনি স্রষ্টার নৈকট্যলাভের পাশাপাশি ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে মানবতার জয়গান গেয়েছেন।’

আবহমান বাংলার ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সংস্কৃতির ঐতিহ্য বর্ণনা করে শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘জঙ্গী মৌলবাদীরা ওয়াজ ও সালানা জলসার নামে মাঠে ময়দানে যেমন, তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভিন্নধর্ম, ভিন্নমত ও ভিন্ন জীবনধারায় মানুষের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচার করছে, সমাজে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা সৃষ্টি করতে চাইছে, তালেবানদের মতো বিনোদনের সকল অভিব্যক্তি নিষিদ্ধ করতে চাইছে। সুযোগ পেলেই তারা সংস্কৃতিকর্মী, বিশেষভাবে বাউলদের উপর হামলা করছে এই বলে যে, ইসলামে গান বাজনা হারাম। বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে তালেবানি সংস্কৃতির প্রভাব প্রতিহত না করলে আমাদের অবস্থাও একদিন আফগানিস্তানের মতো হতে পারে।’

নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীতশিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেন, ‘সংস্কৃতি প্রবহমান নদীর মতো। নদীতে বাঁধ দিলেও নদীর জল নিজেই তার গতি নির্ধারণ করে নেয়। সংস্কৃতি চর্চাও তেমনি। পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিলো কিন্তু সংস্কৃতিকর্মীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, ঠিক এমনিভাবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছিলো কিন্তু স্বাধীন বাংলা বেতারের সংস্কৃতি কর্মীরা এই অপপ্রচারের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলেন। গোটা বিশ্ব বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মীদের বিশ্বাস করেছিলো। জঙ্গীবাদ-মৌলবাদীদের অপচেষ্টা ব্যর্থ করতে সংস্কৃতি কর্মীদের নিরলস সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডই যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম। অবশ্যই এটা সারাদেশব্যাপী চলতে হবে। তাহলেই সাংস্কৃতিক বিপ্লব তার নিজস্ব গতিতে লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হবে।’

লালন সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন বলেন, ‘সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। সেই মানুষ কেন একজন আরেকজনের সংস্কৃতিকে হরণ করবে? সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি বাউলদের চুল কেটে দেয়া হয়েছে। এটি কেন হবে? আমাদের বাঙালির সংস্কৃতি তো এরকম হিংস্র না। আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি একটি মানবিক সংস্কৃতি। ফকির লালন শাহ মানবধর্মকে উর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। তার দর্শন জাত-পাতের উর্ধ্বে মানবতাকে প্রতিষ্ঠিত করে। বাঙালি সংস্কৃতির সাথে অন্য কোন সংস্কৃতির বিরোধ থাকার কথা না। তবুও যদি মৌলবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চায়, তবে তা আমাদের প্রতিহত করতে হবে।’

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীতশিল্পী বুলবুল মহলানবীশ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বেশ কিছু যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে এবং কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হয়েছে। কিন্তু ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন হয়েছে কি? আমাদের সংবিধানের মূল যে চারটি স্তম্ভ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ তা থেকে তো সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা স্পষ্টতই উধাও। যে বাঙালি কখনোই সাম্প্রদায়িক ছিল না তারা কী করে সাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠে? সংখ্যালঘু বলে যারা চিহ্নিত, তাদের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি দখল, লুটতরাজ, জোর করে ধর্মান্তরিত করা সবই মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থী।’

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি সঙ্গীতশিল্পী মাহমুদ সেলিম বলেন, ‘সংস্কৃতি মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তাই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে অমানুষ জঙ্গীদের জন্ম ও বিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। সাংস্কৃতিক কার্যক্রম মানুষকে শিক্ষিত করে, সচেতন করে, নতুন করে ভাবতে শেখায় এবং তাই  মৌলবাদী অন্ধত্বের বিনাশ ঘটায়। সেজন্যেই জঙ্গী মৌলবাদীদের প্রধান টার্গেট সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।’

আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান বলেন, ‘সংস্কৃতি কোন আলটপকা বিষয় নয়, বরং এটি সামজিক, রাজনৈতিক,  অর্থনৈতিক এবং ব্যক্তি মানুষের মনভূমির ভিত্তি। ফলে সাংস্কৃতিক আন্দোলনও কোনও বিচ্ছিন্ন আন্দোলন নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের বুনিয়াদি বিষয়। এর প্রমাণ মিলবে সাতচল্লিশের দেশভাগ, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সহ পরবর্তী সকল প্রগতিশীল আন্দোলনে। পূর্ববাংলার পলিবিধৌত সাধারণ মানুষের শেকড় নিঃসৃত যে সংস্কৃতি তাতে আমরা দেখেছি যে গ্রামীণ যাত্রাপালা, পুতুল নাচ, কবির লড়াই, নানাবিধ উৎসব ও লোকগান এসব কিছুই মানুষের মানস গঠন করেছে।’

নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই-ফেরদৌসী বলেন, ‘বস্তুত এই দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ আমরা যৌথভাবে এক সুমহান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। এই ঐতিহ্য বিভিন্ন যুগে নানক, কবীর, চৈতন্য ও ফকির লালন শাহ্ এর মত মরমী সাধক এবং সর্বোপরি দ্বিজেন্দ্রলাল, রবীন্দ্রনাথ, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত, কাজী নজরুলের মত মহান কবির অনবদ্য অবদানের ফলে গড়ে উঠেছে। এই সমন্বয়ধর্মী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মূল্যায়ন, সংরক্ষণ ও লালন করার এবং সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব এই দক্ষিণ এশিয়ার সকল মানুষের। এই মনোভাব সকলের মাঝে জাগ্রত করতে হবে। সেই সাথে আমরা মনে করি রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পারলে মানবতাবাদী সমাজ গঠন সম্ভব।’

আদিবাসী বিষয়ক জাতীয় কোয়ালিশনের সংগঠক সাংবাদিক আসাদুল্লাহ সরকার বলেন, ‘সংস্কৃতি হলো জাতির ধ্রুবতারা। যে তারাটি সেই জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। সংস্কৃতিতে মৌলবাদের কোন স্থান নেই। কারণ মৌলবাদ সমাজের মানুষকে সাম্প্রদায়িক করে তোলে। অপরদিকে জাতিকে তার সংস্কৃতি আলোর পথে পরিচালিত করে। একমাত্র সংস্কৃতিই পারে মৌলবাদকে প্রতিহত করতে।’

জাগরণের গানের সংগঠক সঙ্গীতশিল্পী অরিত্র রতন বলেন, ‘মৌলবাদের আগ্রাসন রুখতে হলে অংশগ্রহণমূলক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গতিশীল করতে হবে। রাষ্ট্রের কর্মচারীদের দিয়ে যে সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞ পরিবেশিত হচ্ছে তা ফরমায়েশি। মৌলবাদের শিকড় হলো মগজে। তাই ফরমায়েশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রম দিয়ে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার মগজ পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন যাদের মগজে সাংস্কৃতিক সৃষ্টিশীলতা বিরাজমান, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রতি যাদের ভক্তি ও ভালোবাসা আছে, সেই সব জনসাধারণের অংশগ্রহণমূলক সাংস্কৃতিক আন্দোলন।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সংস্কৃতিকর্মী রেমন্ড আরেং বলেন, ‘ইদানিং মৌলবাদ আমাদের সমাজের সকল পর্যায়ে শক্ত আসন গেড়ে বসছে। এই নিয়ে আমরা শংকিত। কারণ মৌলবাদ পরিশীলিত, সৃষ্টিশীল ও মানবিক সমাজ গঠনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের সমাজকে উত্তরণ ঘটাতেই হবে, নতুবা এই সমাজ কারো জন্য বাসযোগ্য থাকবে না।’

গণসঙ্গীতশিল্পী আরিফ রহমান বলেন, ‘৭৫ এর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর মানুষ আবার জেগেছিল শহীদজননী জাহানারা ইমাম এর বিপ্লবী আহ্বানে। সোচ্চার হয়েছিল সকল অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সংগ্রামী সহযোদ্ধারা এখনো লড়াই করে চলেছেন। প্রিয় মাতৃভূমি থেকে সাম্প্রদায়িক অন্ধকার চিরতরে বিতাড়িত করে একটি আলোকিত সমাজে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম বেড়ে উঠবে এটাই আমাদের স্বপ্ন।’

তুরস্কের ‘টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিজম’-এর সাধারণ সম্পাদক লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি বলেন, ‘পৃথিবীব্যাপী মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীরা যখনই ক্ষমতা গ্রহণ করে অথবা তৎপর হয়, সবার প্রথমে তারা আঘাত করে একটি দেশ অথবা অঞ্চলের সংস্কৃতিকে। একটি জাতিকে সমূলে ধ্বংস করার জন্য সে জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সোচ্চার হয়ে ওঠে মৌলবাদীরা। আফগানিস্তানের তালেবান জঙ্গিদের বর্তমান অবৈধ ক্ষমতা দখলের চালচিত্রে এই বিষয়টি খুব সত্য। দেশটির শিল্পী-সাহিত্যিক সংস্কৃতিকর্মীরা এই মুহূর্তে হুমকির মুখে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী ঠিক একই কারণে রবীন্দ্রচর্চায় নানা রকম নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাদের উত্তরাধিকারী জামাত-রাজাকার-ওয়াজবাজ মোল্লারাও একই ভাবে বাঙালি সংস্কৃতিকে ‘হিন্দুয়ানী’ সহ নানারকম সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক তকমা দিয়েছে। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্ম যেন ধারণ করতে না পারে, সে ব্যাপারে সাইবার জগতেও জঙ্গিদের সচল তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। তাই প্রয়োজন সংস্কৃতিকর্মীদের যৌথ প্রয়াস। দেশের আনাচে কানাচে আমাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়াতে হবে। সরকারকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’

নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সদস্য সংস্কৃতিকর্মী পিন্টু সাহা বলেন, ‘ধর্মীয় মৌলবাদ, বিশেষ করে ইসলামিক উগ্রবাদ এখন একটি আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে এ সমস্যার শেকড় ধীরে ধীরে গভীরতর হচ্ছে। স্বাধীন রাষ্ট্রের যাত্রার শুরুতেই রচিত হয়েছিল সংবিধান, যার অন্যতম মূলনীতি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে হোচট খায় আমাদের প্রগতির যাত্রা। তখন থেকেই মৌলবাদ আর জঙ্গীবাদের চাষ সুপরিকল্পিতভাবে শুরু হয় এদেশে, যার ফলাফল যে কতটা ভয়াবহ তার প্রমাণ গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।’

ইন্দো-বাংলাদেশ ফোরাম ফর সেক্যুলার হিউম্যানিজমের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ভারতের সঙ্গীতশিল্পী শিউলি ভট্টাচার্য বলেন, ‘অতীতকাল থেকে বর্তমান সময়- সবক্ষেত্রেই আমরা দেখতে পাই সুস্থ-সংস্কৃতিবান মানুষেরাই চিরকাল যে কোনো ধরনের মৌলবাদ- সে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক কিংবা উগ্র জাতীয়তাবাদ যাই হোক না কেন, সবকিছুর বিরুদ্ধেই তাঁদের সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে তীব্রভাবে প্রতিবাদ করেছেন। তাই তো সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কন্ঠ রোধ করার জন্য উগ্র মৌলবাদীরা দেশে দেশে কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকদের হত্যা করে মানুষের মনে ভীতির বাতাবরণ সৃষ্টি করেন।’

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, , ,
শর্টলিংকঃ