কুইনের জন্মদিন

চায়ের কাপ হাতে নিতে বসে আছি। শ্রাবণের এমন বর্ষণমুখর বিকেলে চায়ে চুমুক দিতে দিতে স্বভাবতই অনেক ভাবনা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। দুপুর থেকেই পরিবেশটা গুমোট। হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেকটা হালকা লাগছে। নিজের ছোট রুমটায় বসে আছি। ভাড়া বাসা, অনেক ছোটবেলা থেকেই বাসাটায় আছি। আশেপাশের অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে এতদিনে। সবার বাসাতেই এখন টিনের চালের পরিবর্তে কংক্রিটের ছাদ। পরিবেশ হয়ত মানুষগুলোকে পরিবর্তন করে দেয়। সেই পরিবর্তনটা হয়ত ভালোনা। তাদের মনগুলোও যেন কংক্রিটের ছাদের মতোই শক্ত হয়ে গিয়েছে। আচ্ছা,সবার মত পাশের বাসার অই মেয়েটাও কি পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে! খুব জানতে ইচ্ছা করে। সেই ছোটবেলা থেকে তাকে দেখতেছি কিন্তু কখনো বুঝে উঠতে পারিনি। অনেক কবি সাহিত্যিকের মতে মেয়েরা নাকি ছেলেদের চোখের ভাষা পড়তে পারে। এই দৈবশক্তি নিয়েই নাকি মেয়েরা জন্মায় যা ছেলেদের থাকেনা। থাকলে হয়তো ভালো হতো। ওর চোখের ভাষা পড়ার খুব ইচ্ছা আমার, চেষ্টাও করেছি অনেকবার কিন্তু পারিনি। ও হয়ত আমার মনের কথা বুঝতে পারে। পরক্ষণেই নিজেকে জিজ্ঞেস করি, আমি কি আমার মনের কথা জানি? কেন আমি ওর কথা এত ভাবি? আমি কি ওকে পছন্দ করি? আমি কি ওর শিশুসুলভ জেদের মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি?। এগুলোর কোনটারই জবাব আমার কাছে নেই। না থাকার বেশ কিছু কারণ হয়ত আছে। এই বয়সে হয়ত অনেক ছেলের কল্পনাতেই একটি মায়াবি মুখের অবয়ব ভেসে বেড়াবে যাকে সে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে চাইবে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেরকম কিছু নেই। আমি ছোটবেলা থেকে জীবনের কিছু কঠিন সত্যির মুখোমুখি হওয়া মানুষ। আমি এগুলোকে নেহাৎ আমার জন্য অমাবস্যার চাঁদ ছাড়া কিছু ভাবিনা। কে জানে,ওর মনে হয়ত এখন অন্য কোন সুপুরুষ এর স্বপ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, সেখানে আমার কোন স্থান নেই। আচ্ছা ও কি এখন নিজের রুমে শুয়ে এমন দিবাস্বপ্ন দেখছে! পাশেই কোথাও জোরে একটা বাজ পড়লো। রীতিমতো চমকে উঠে বর্তমানে ফিরলাম। আবার সেই পাচ বছর আগের চিন্তাভাবনায় ডুবে গেছিলাম। সেই জেদি মেয়েটি এখন আমার বউ। চা খেতে খেতে ভুলেই গেছিলাম আজকে ২০ তারিখ। কাল অনেক বড় একটা দিন। বসে থাকলে চলবেনা। এখনি বেরিয়ে পড়তে হবে।

লেখাঃনাহিদ হাসান তমাল

শর্টলিংকঃ