পাকিস্তান অনবরত জঙ্গি রফতানি করে আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর (২০২১) বিকেল ৩টায় ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তালেবানের পুনরুত্থান: তরুণ সমাজের করণীয়’ শীর্ষক একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আইটি সেল-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার একথা বলেন।

নির্মূল কমিটির আইটি সেলের সভাপতি শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা জব্বার এবং প্রধান বক্তা ছিলেন নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।

সভায় বক্তব্য প্রদান করেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট অমি রহমান পিয়াল, কলামিস্ট অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভীন, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর যুগ্ম সম্পাদক অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট লেখক মারুফ রসুল, নির্মূল কমিটির নিউইয়র্ক শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার কর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট আজম খান, নির্মূল কমিটির বগুড়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সমাজকর্মী রাশেদুল ইসলাম, নির্মূল কমিটির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সমাজকর্মী মতিউর রহমান মর্তুজা, কলকাতার আইনজীবী সালমান আখতার, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর হিন্দি বিভাগীয় সম্পাদক সমাজকর্মী তাপস দাস, নির্মূল কমিটির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্মী মামুনুর রশিদ এবং নির্মূল কমিটির মানিকগঞ্জ শাখার ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি রিক্তা রিতু।

সভার প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘নির্মূল কমিটির জঙ্গি ও মৌলবাদবিরোধী আলোচনার বিষয়গুলো নিয়ে যাদের আলোচনা করা দরকার সেই রাজনৈতিক শক্তিগুলো এসব বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তালেবানের পুনরুত্থান আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক জনকল্যাণমূলক প্রচারের ক্ষেত্রে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিকল্প নেই, আবার জঙ্গিবাদী বিভিন্ন অপরাধের বিস্তার ঘটছে এসব প্ল্যাটফর্মে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে বেশি। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় শতাধিক আইডি আমরা শনাক্ত করেছি যেগুলো বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের অবস্থান পরিচয় সহ বিস্তারিত আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দিয়েছি। ফেসবুক কর্তৃপক্ষকেও পাঠিয়েছি। তারা বিভিন্ন দেশবিরোধী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জঘন্য অপপ্রচারে লিপ্ত। আমরা নিয়মিত চেষ্টা করে যাচ্ছি এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য। কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাচ্ছি না।

‘আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতাদখল আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তান তালেবানদের সমর্থন করে। পাকিস্তান অনবরত জঙ্গি রফতানি করে আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। ফলে সামগ্রিক বিবেচনায় ভবিষ্যতে সবচেয়ে বিপদগ্রস্থ দেশ হবে আমাদের বাংলাদেশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তালেবানের পুনরুত্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে ও রাজনৈতিক ভাবে অনলাইনের এই তালেবানি শক্তির কঠোর মোকাবেলা করা না হলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কথা বলেছি। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি জঙ্গিবাদী প্রচারণার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান শক্তিশালী করার। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাথে সর্বদা যোগাযোগ করছি। আমরা যদি সকলে মিলে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশকে তালেবানিকরণ করার ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে না পারি তাহলে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। আশা রাখি, এসব ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে নির্মূল কমিটির এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা একসময় বড় প্রচেষ্টায় পরিণত হয়ে বাংলাদেশকে তালেবানিকরণ থেকে মুক্ত করবে।’

প্রধান বক্তা নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আফগানিস্তানে জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসী তালেবানদের অবৈধ ক্ষমতা দখলে বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গি মৌলবাদী তালেবানপন্থীরা নবরূপে আত্মপ্রকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছে। প্রধানতঃ ইউটিউব ও ফেসবুক-এ বাংলাদেশের তরুণদের মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের আফগানিস্তান বানাবার জন্য বহুমাত্রিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা ‘গাজওয়ায়ে হিন্দ’-এর কথা বলে বাংলাদেশ সহ গোটা উপমহাদেশে জিহাদী উন্মাদনা ছড়াতে চাইছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে সরকার মাঠ পর্যায়ে জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে সাফল্যের পরিচয় দিলেও ইসলামের নামে ওয়াজ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার, বিশেষভাবে জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসমূলক প্রচারণা প্রতিরোধে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী তালেবানের তথাকথিত বিজয় বাংলাদেশে সমচরিত্রের দল ও সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠিত হওয়ার যে সুযোগ তৈরি করেছে এখনই যদি তা কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা না হয় ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির জন্য সমূহ বিপর্যয় আমরা আশঙ্কা করছি।’

শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের নামে জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক তরুণ অনলাইন এ্যাক্টিভিস্টরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্নভাবে বাধা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার প্রসার ঘটাতে চান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকারকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং একটি নীতি নির্ধারণীমূলক জাতীয় কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।’

সভাপতির বক্তব্যে নির্মূল কমিটির আইটি সেলের সভাপতি শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময় বলেন, ‘আফগানিস্তানে উগ্রবাদী তালেবানের উদারপন্থী মুখোশ খুলে পড়েছে এবং সেই মসাথে তাদের মতাদর্শে বিশ্বাসীদের আস্ফালন বেড়ে গেছে। দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশী উগ্রপন্থী গোষ্ঠী বিশেষ করে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে অপদস্ত করার প্রবণতাও বেড়ে যাচ্ছে। এই ব্যাপারে সরকার ও নীতি নির্ধারকদের সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। পাশাপাশি নজরদারীতে যেন আমাদের স্বপক্ষের সক্রিয়তা বাধাগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারেও অনুরোধ থাকবে। ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে মামলায় তার জামিন হওয়ায়  আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে সাধুবাদ জানাই।’

অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট অমি রহমান পিয়াল বলেন, ‘ইদানিং সোশ্যালমিডিয়ায় বেশ তালেবানি জয়গান চলছে। একটু ভালো করে শুঁকলেই তার মাঝে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির গন্ধ পাওয়া যায়। নতুন বোতলে পুরানো মদ নিয়ে এসেছে পাকিস্তানের দালালরা। কিন্তু ধর্মের নামে শোষিত এবং শাসিত হওয়ার বাসনা থাকলে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধই হতো না। এই বাংলাদেশ তাদের উপযোগী নয় যুগ যুগ ধরেই টের পাচ্ছে এরা। আগামীতেও পাবে। এখন শুধু প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের যুথবদ্ধতা। মৌলবাদী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দিন দিন একাট্টা হয়ে শক্তি বাড়াচ্ছে, আর আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্বল হচ্ছি। মনে রাখতে হবে অনলাইনই হবে ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার, শেষ ও চূড়ান্ত যুদ্ধ এখানেই।’

কলামিস্ট অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভীন বলেন, ‘অনলাইনে তালেবানপন্থীদের জন্য কোন বাধা নাই কিন্তু তালেবান বা মৌলবাদবিরোধী কোন পোস্ট দিলেই সেটাকে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের নামে ব্যান বা ব্লক করে দিচ্ছে। প্লেইন ফিল্ড না হলে ফাইট করা যায় না। ইদানিং তারা মেসেঞ্জারও ব্লক করে দিচ্ছে। তার মানে প্রাইভেসি নষ্ট হচ্ছে এবং তারা টার্গেট করে একাউন্ট ব্লক করে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের হেল্প লাগবে। আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর যুগ্ম সম্পাদক অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট লেখক মারুফ রসুল বলেন, ‘আফগানিস্তানে তালেবানের পুনরুত্থান দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এক সংকটে পরিণত হয়েছে। এটা যতখানি না আফগানিস্তানের সঙ্গে অন্যান্য রাষ্ট্রের সম্পর্কের বিচারে তার চেয়েও বেশি তালেবান মানসিকতার বিস্তারের প্রেক্ষিতে। ১৯৯৬ সালে যখন এই মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছিল, তখন পৃথিবী আজকের মতো ডিজিটাল হয়নি। আজ আমরা আফগানিস্তানের নানা সংকট যেমন জানতে পারছি, প্রতিবাদ করতে পারছি; তেমনি যারা মৌলবাদী আদর্শে বিশ্বাসী তারাও তালেবানি আদর্শ দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে এবং এই মনস্তত্ত্বের বিস্তার ঘটছে। মুশকিল হলো আমাদের রাষ্ট্র সাইবার জগতের নিরাপত্তা বলতে কেবলই নজরদারি বোঝে, কিন্তু নজরদারি দিয়ে এই সংকট মোকাবেলা সম্ভব নয়। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে যেমন, সাইবার জগতের নীতিতেও বাংলাদেশকে সক্ষম হতে হবে বলে মনে করছি।’

নির্মূল কমিটির নিউইয়র্ক শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার কর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া বলেন, ‘আফগানিস্তানে তালেবানরা তাদের মধ্যযুগীয় শাসনের চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ইসলামের আদলে দেশ শাসন করছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সচেতন আফগান নাগরিক সমাজ কিন্তু ইতিমধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। এখন শুধু আফগান জনগণ নয়, বিশ্বের তরুণ সমাজের উচিৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করে সবাইকে সচেতন করা এবং বিশ্ববাসীকে বুঝিয়ে দেওয়া যে তালেবানরা ধর্মের নামে কি মিথ্যাচার করছে।’

গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট আজম খান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আফগানিস্তানে তালেবানের কাবুল দখলের পর থেকে তাদের প্রতি সমর্থন মহামারি আকারে দেখা গেছে। পত্র-পত্রিকার কমেন্ট বক্স এদের দখলে থাকে এবং খেয়াল করলে দেখা যায় এদের বেশিরভাগ মাদ্রাসা শিক্ষক এবং ছাত্র। কেউ কেউ বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে এদের গোপন গ্রুপ আছে এবং সেইসব গ্রুপকে কেন্দ্র করে এরা সংগঠিত হয়ে দেশী তালেবানদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করার পরিকল্পনা করে এসব করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জারি আছে তবে তা বিচ্ছিন্নভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে। তরুণ সমাজকে অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে পাল্টা জনমত তৈরি করতে হবে। সেইসাথে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তদন্ত করে বের করতে হবে এই তালেবানি সমর্থনের পেছনে মোটিভ কি।’

নির্মূল কমিটির বগুড়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সমাজকর্মী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলে বাংলাদেশেও কিছু মানুষ খুশির বহিঃপ্রকাশ করেছে অনলাইন এবং অফলাইনে। তারা উগ্র মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবানের মতাদর্শের সমর্থক জামাত শিবিরের অনুসারী। তারা মূলত অনলাইনে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা এবং ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা ধর্মের নামে বাংলাদেশে সরকার ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অনলাইন এবং অফলাইনে একযোগে সোচ্চার হতে হবে। প্রচার করতে হবে তালেবানের মতো মৌলবাদীরা নিজেদের প্রয়োজনে আফিমকে যেমন ব্যবহার করতে পারে তেমনি তারা ধর্মকেও ব্যবহার করে। সেই সঙ্গে সমাজে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরালো করতে কর্মসূচি বৃদ্ধি করতে হবে।’

নির্মূল কমিটির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সমাজকর্মী মতিউর রহমান মর্তুজা বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ধর্মীয় মৌলবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নানারকম মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করেছিল  মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের দালাল, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলে মুসলমান থাকবে না ইত্যাদি অপপ্রচার করেছিল। একইভাবে বর্তমানে আফগানিস্তানে অবৈধভাবে ক্ষমতাদখল করে ধর্মের নামে তালেবান জঙ্গিরা নানারকম মিথ্যাচার ও গুজবের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছে। আজকে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ প্রত্যেক অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে তালেবানের পক্ষে নানারকম মিথ্যাচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এ সকল ভ্রান্ত প্রচারের বিষয়ে আশেপাশের মানুষসহ সবাইকে সচেতন করতে হবে।’

নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর হিন্দি বিভাগীয় সম্পাদক সমাজকর্মী তাপস দাস বলেন, ‘যেহেতু জঙ্গিবাদ আজ কোনও স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে তাই আমাদের এর বিরুদ্ধে প্রতিটি মহাদেশের তরুণদের একত্রিত হয়ে একই কাঠামোয় কাজ করতে হবে। আমি মনে করি, আজকের এই সভা থেকে একটি দল গঠন করে, বিশ্বের তরুণদের একত্রিত হওয়ার ডাক দেওয়া উচিত। শুধুমাত্র বিষয়টিকে আলোচনায় না রেখে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করতে হবে।’

নির্মূল কমিটির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্মী মামুনুর রশিদ বলেন, ‘তালেবান সরকারের নানামুখি উগ্রপন্থী কার্যক্রম ও মানবাধিকার লংঘন বাংলাদেশের তরুণ সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো সহ তরুণ সমাজকে জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার থাকতে হবে।’

নির্মূল কমিটির মানিকগঞ্জ শাখার ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি রিক্তা রিতু বলেন, ‘ইসলামের নামে তালেবান জঙ্গি গোষ্ঠী নারী ও শিশুদের অধিকার হনন করে চলছে। আফগানের এই তালেবান শাসনের ভবিষ্যৎ ও বিশ্বরাজনীতিতে তালেবানের উদ্দেশ্য বর্তমানে গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের মতাদর্শ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো বিশ্বের একটি অংশ। যার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই বর্তমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। বাংলাদেশও এর বাহিরে নয়। বাংলাদেশ সরকারের এ দিকে নজর দেওয়াটা খুবই জরুরী।’

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, , , ,
শর্টলিংকঃ