কবি ও কথাসাহিত্যিক ড. ফরিদা মজিদের মৃত্যুতে নির্মূল কমিটির শোক বিবৃতি

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেত্রী কবি ও কথাসাহিত্যিক ড. ফরিদা মজিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গতকাল (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

গতকাল (২৮ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের এক শোক বিবৃতিতে বলা হয়- ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেত্রী কবি ও কথাসাহিত্যিক ড. ফরিদা মজিদের মৃত্যুতে আমরা অত্যন্ত শোকাহত।

‘কবি ফরিদা মজিদের জন্ম ১৯৪২ সালের ২৭ জুলাই কলকাতায়। তিনি কবি গোলাম মোস্তফার বড় মেয়ে জোছনার কন্যা। কবি গোলাম মোস্তফার সান্নিধ্যেই তার কবিসত্ত্বা গড়ে উঠে। ‘গাঁদা ফুলের প্রয়াণ ও যারা বেঁচে থাকবে’ কবিতার বইয়ের এই কবি দীর্ঘকাল প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। প্রথমে লন্ডনে, পরে আমেরিকায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি লন্ডনে বসে দেশের বড় বড় কবি সাহিত্যিকদের লেখা অনুবাদ, সম্পাদনা ও প্রকাশনার কাজ করেছেন। পরবর্তীকালে নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ইংরেজির লেকচারার হিসেবে ছিলেন নিউইয়র্কের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০৬ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

‘১৯৯২ সালে শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত গণআন্দোলনের সূচনা থেকেই তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলনে আমাদের অকুতোভয় সহযোদ্ধা ছিলেন। প্রবাসকালীন সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জনমত গড়ে তোলার জন্য তিনি নির্মূল কমিটির বিভিন্ন আলোচনা সভা, মানববন্ধন, জনসভাসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। দেশে ফেরার পর তিনি ওতপ্রোতভাবে নির্মূল কমিটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেছেন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালীন বিভিন্ন সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেছেন। নির্মূল কমিটির সভা, সেমিনার, মানববন্ধন, মিছিল ও জনসমাবেশে তিনি সর্বদা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন- যা আমাদের তরুণ নেতৃবৃন্দকে ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ গড়ার আন্দোলনে সর্বদা অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কবি ফরিদা মজিদ নির্মূল কমিটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াত-শিবির, মৌলবাদী শক্তির বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অনলাইন যুদ্ধে রত ছিলেন। অনলাইনে তিনি বিভিন্ন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবাদ করেছেন এবং যুক্তিমূলক লেখা প্রকাশ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এই বিরামহীন যুদ্ধ আমাদের সর্বদা প্রেরণা যুগিয়েছে।

‘বাংলাদেশের মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কবি ফরিদা মজিদের অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করবার পাশাপাশি আমরা তাঁর পরিবারের শোকসন্তপ্ত সকল সদস্য ও অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।’

শোক বিবৃতিতে স্বাক্ষরদাতা- বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, লেখক সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, অধ্যাপক অনুপম সেন, কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক, নাট্যজন মুক্তিযোদ্ধা রামেন্দু মজুমদার, সমাজকর্মী মালেকা খান, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুননবী, অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, জননেতা ঊষাতন তালুকদার, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, চলচ্চিত্রনির্মাতা মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ, অধ্যাপক ডাঃ কাজী কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অবঃ) আলমগীর সাত্তার বীরপ্রতীক, ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাহাবউদ্দিন আহমেদ বীরউত্তম, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুর রশীদ (অবঃ), মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ আমজাদ হোসেন, ড. নূরন নবী, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদজায়া সালমা হক, সমাজকর্মী আরমা দত্ত এমপি, কলামিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, অধ্যাপক শিল্পী আবুল বারক আলভী, সমাজকর্মী কাজী মুকুল, অধ্যাপক আয়েশ উদ্দিন, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ডাঃ ইকবাল কবীর, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্ত্তী, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান শহীদ, এডভোকেট আবদুস সালাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক আবদুল গাফ্ফার, কবি জয়দুল হোসেন, ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, মুক্তিযোদ্ধা কাজী লুৎফর রহমান, সাবেক জাতীয় ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু, সমাজকর্মী কামরুননেসা মান্নান, এডভোকেট আজাহার উল্লাহ্ ভূইয়া, অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া, সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই ফেরদৌসী লাকী, অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব, সাংবাদিক শওকত বাঙালি, উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ নুজহাত চৌধুরী শম্পা, লেখক আলী আকবর টাবী, সমাজকর্মী চন্দন শীল, এডভোকেট কাজী মানছুরুল হক খসরু, এডভোকেট দীপক ঘোষ, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, শহীদসন্তান তৌহিদ রেজা নূর, শহীদসন্তান শমী কায়সার, শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, শহীদসন্তান তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, মানবাধিকারকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, মানবাধিকারকর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, মানবাধিকারকর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া, এডভোকেট আবদুল মালেক, লেখক কলামিস্ট মিথুশিলাক মুর্মু, কলামিস্ট অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভীন, মানবাধিকারকর্মী রহমান খলিলুর, সাংবাদিক দিব্যেন্দু দ্বীপ, অধ্যাপক সুজিত সরকার, সমাজকর্মী হারুণ অর রশীদ, এডভোকেট মালেক শেখ, সহকারী অধ্যাপক তপন পালিত, সাংবাদিক দিলীপ মজুমদার, সমাজকর্মী রাশেদ রাশেদুল ইসলাম, সমাজকর্মী  ইস্রাফিল খান বাপ্পি, সমাজকর্মী শিমন বাস্কে, সমাজকর্মী শেখ আলী শাহনেওয়াজ পরাগ, সমাজকর্মী সাইফ উদ্দিন রুবেল, সমাজকর্মী ফয়সাল হাসান তানভীর, লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি প্রমুখ।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, , ,
শর্টলিংকঃ