জঙ্গি মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশনের প্রতিবেদন ৩০ নবেম্বর প্রকাশ হবে

আজ ০৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘বাংলাদেশে জঙ্গি মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশনে’র দ্বিতীয় সভা নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কমিশনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ২০১৬ সালে ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফেতে জঙ্গি সন্ত্রাসী হামলা থেকে আরম্ভ করে ২০২১-এর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে জঙ্গি মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের পাঁচ বছরের ঘটনাবলীর উপর শ্বেতপত্র প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সভায় গৃহীত অপর এক প্রস্তাবে ২০১৭ সালের অক্টোবরে নির্মূল কমিটি কর্তৃক গঠিত ‘বার্মায় গণহত্যা ও মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’কে বর্তমান কমিশনের সঙ্গে একীকৃত করে পূর্বোক্ত কমিশনের যাবতীয় তদন্ত প্রতিবেদন বর্তমান কমিশনকে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পূর্বোক্ত কমিশনের যে সব সদস্য বর্তমান কমিশনে যুক্ত হতে আগ্রহী- তাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও সভায় গৃহীত হয়। বাংলাদেশে জঙ্গি মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের তথ্যাবলীর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন জঙ্গি মৌলবাদী সংগঠন এবং এসবের কার্যক্রম প্রস্তাবিত শ্বেতপত্রে ৩০ নবেম্বরের ভেতর প্রকাশ করা হবে।

দুই খণ্ডে প্রকাশিতব্য এই শ্বেতপত্রে জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলাম সহ বিভিন্ন জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনের বহুমাত্রিক কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি এ বিষয়ে সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করা হবে। ৩০ অক্টোবরের ভেতর কমিশনের সদস্যরা সাম্প্রতিককালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জ ও চট্টগ্রামে সংঘটিত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের উপদ্রুত এলাকা সফর করে ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের বক্তব্য গণশুনানির মাধ্যমে নথিবদ্ধ করবেন, যা শ্বেতপত্রে অনুর্ভুক্ত হবে। এ ছাড়া হেফাজত-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এক হাজার মাদ্রাসায় ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব মাদ্রাসায় কী পড়ানো হয়, কারা পড়ে, কারা পড়ায়, কারা পরিচালনা করে, বাংলাদেশের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের ধারণা কী- এসব বিষয় শ্বেতপত্রে প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশে জঙ্গি মৌলবাদীদের বিভিন্ন সংগঠন, তাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, সন্ত্রাসের আন্তর্জাতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ও শ্বেতপত্রে অন্তর্ভুক্ত হবে।

সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে সারা দেশে ওয়াজের নামে প্ররোচনা সহ যে সব মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে সে সবের ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং অনুসন্ধানকারী সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের লিখিত বক্তব্য প্রেরকের নাম ঠিকানা সহ ৩০ অক্টোবরের ভেতর কমিশনের অস্থায়ী কার্যালয়- অর্পণ নিবাস, গ-১৬ মহাখালী, ঢাকা-১২১২ এবং ই-মেইল nirmul.committee@gmail.com-এ পাঠাবার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রেরিত প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্ভব হলে ছবি, ভিডিও ক্লিপ, ইশতেহার, পোস্টার প্রভৃতি পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মের নামে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার নমুনা পাঠানোর জন্য দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজকের সভায় কমিশনের সদস্যদের ভেতর উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাসের আহ্বায়ক রাজনীতিবিদ ফজলে হাসেন বাদশা এমপি, নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, নির্মূল কমিটির সহ সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও শিক্ষকবিদ মমতাজ লতিফ, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান হাফেজ মওলানা জিয়াউল হাসান, কমিশনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ এবং কমিশনের সচিবালয়ের সদস্যদের ভেতর উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওসার, এডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবু, লেখক আলী আকবর টাবী, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট মারুফ রসুল, সাংবাদিক আবু সালেহ রনি, সাংবাদিক আজিজুল পারভেজ, সাংবাদিক মোরসালিন মিজান, সাংবাদিক রাজন ভট্টাচার্য, মাওলানা হাসান রফিক, সমাজকর্মী এসএম শহীদুল্লাহ, সমাজকর্মী তপন দাস, সমাজকর্মী শিমন বাস্কে, সমাজকর্মী সাইফ উদ্দিন ও সমাজকর্মী শেখ আলী শাহনেওয়াজ।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, , ,
শর্টলিংকঃ