বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশনের তদন্ত ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত

আজ ১৭ অক্টোবর (২০২১) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সার্কিট হাউজে সকাল সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী সন্ত্রাস সম্পর্কে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’-এর তদন্ত ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক-এর নেতৃত্বে গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করেন আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস-এর আহ্বায়ক জনাব ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, প্রাক্তন আইজিপি নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট-এর সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান, ‘মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’-এর সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, ‘মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’-এর সচিবালয়ের সমন্বয়কারী কাজী মুকুল, সচিবালয়ের সদস্য মওলানা হাসান রফিক, সমাজকর্মী এসএম শহীদুল্লাহ, সমাজকর্মী সাইফ উদ্দিন, সমাজকর্মী সাইফ রায়হান প্রমূখ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণকমিশনের গণশুনানিতে ৩০ জন সাক্ষী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের নারকীয় তা-বের লিখিত ও মৌখিক সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য প্রদানকারীর মধ্যে ছিলেন ‘আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস’-এর সদস্য জনাব উবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এডভোকেট কাজী মাসুদ আহমেদ, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম, ২০১৬ সালের সাম্প্রদায়িক হামলার ভুক্তভোগী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের রসরাজ দাস, জেলা নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আশুগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন সিকদার, নির্মূল কমিটির আইন সহায়ক কমিটির সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আইনজীবী এডভোকেট নাসির মিয়া, জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন তামি, জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক সাংবাদিক এডভোকেট আব্দুর নুর, জেলা আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মনির হোসেন, এডভোকেট সৈয়দ মোঃ জামাল, জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী মদন মোহন চক্রবর্তীর ছোট ছেলে জীবন কুমার চক্রবর্তী, আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরের বিভাস রঞ্জন রায়, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি দিলীপ নাগ, সাংবাদিক উজ্জ্বল চক্রবর্তী, জেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি ডা. আবু সায়েদ, জেলা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন সরকার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা সভাপতি সাথী চৌধুরী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাবেক জেলা সভাপতি নন্দিতা গুহ, আশুগঞ্জ থেকে শাহীন শিকদার, আশুগঞ্জ থেকে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনম ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গণের সেক্রেটারি বিশিষ্ট সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম, ডেইলি স্টারের জেলা প্রতিনিধি মাসুক হৃদয়, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট শফিউল আলম লিটন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান রাজন, জেলা উদীচীর সভাপতি জহিরুল ইসলাম স্বপন, সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর জেলা সংগঠক এডভোকেট রাকেশ রায়, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এডভোকেট আবু তাহের, কালের কণ্ঠের সাংবাদিক বিশ্বজিৎ জান বাবু, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহিদ খান লাভলু, জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পি প্রমূখ।

‘আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাস’-এর সদস্য জনাব উবায়দুল মুকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন, ‘গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যা থেকে হেফাজত তথা কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক মাদ্রাসার ছাত্ররা শহরে তা-ব শুরু করে। সরকারি স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তারা কোন রকম বাধা ছাড়ায় এ তা-ব চালায়। ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে সেখান থেকে তারা জানায়Ñ আমরা আগুন নেভাতে যেতে পারব না, উপরের নির্দেশ আছে। ‘হেফাজত ২৮ মার্চ ২০২১ তারিখে সর্বাত্মক ধ্বংসলীলা চালায়। রেল স্টেশন, ভূমি অফিস সহ সরকারি যত স্থাপনা, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গণ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব ভেঙ্গে আগুন লাগিয়ে দেয়। এমন কি তারা আমার বাড়িও এ তা-ব থেকে রক্ষা পায় নি। আমি থানায় মামলা করলে তারা সে মামলা সিআইডিতে প্রেরণ করে এবং সিআইডি আমাকে জানায়Ñ আইসিটি আইনি যে মামলা আমি করেছি তার কোন প্রমাণ তারা পাননি। তা-বের পর যে সমস্ত হেফাজত নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হয়েছিল তারা অনেকেই ইতোমধ্যে জামিনে বের হয়ে গেছে।’

ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র ‘কাবাঘর’ অবমাননার অভিযোগে ৩০ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে গেফতারকৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জেলে পরিবারের সদস্য নিরক্ষর রসরাজ দাস ২ মাস ১৬ দিন জেলে খেটে কারাগার থেকে বের হন। রসরাজ দাস গণতদন্ত কমিশনের প্রতিনিধি দলকে বলেন, ‘আমি ৫ বছর ধরে প্রতিমাসে আদালতে হাজিরা দিতে দিতে খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। প্রতিমাসে গ্রাম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে গিয়ে হাজিরা দিতে যে টাকা খরচ হয় তা বহন করার অবস্থা আমার নেই। আমি রাষ্ট্রের কাছে এই মামলা থেকে বেকসুর খালাস চাই। এই মামলা থেকে রেহাই পেতে চাই।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তান্ডব চালায় হেফাজত, বিএনপি জামায়াত ও জেলার বাইরে থেকে আসা শিবিরকর্মীরা। তারা আমার রাজনৈতিক কার্যালয়, আমার নিজের বাড়ি ও আমার শ্বশুরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। দিনভর হেফাজত জামায়াত ও বিএনপির তা-বে টার্গেট করে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাংচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। আমাকে প্রাণ রক্ষার ভয়ে পরিবারসহ নিরাপদ জায়গায় থাকতে হয়েছে। আমার জীবনের অর্জন করা সব স্মৃতি তারা পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বার বার অবহিত করলেও তারা আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।’

নির্মূল কমিটির আইন সহায়ক কমিটির সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আইনজীবী এডভোকেট নাসির মিয়া বলেন, ‘গত ২৫ মার্চ ২০২১ তারিখে হেফাজত, জামায়াত মিছিল বের করে। বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসা বর্তমান ও সাবেক ছাত্রদের রাত ১১টায় কান্দিপাড়াস্থ জামিয়া ইউনূছিয়া মাদ্রাসায় (বড় মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত) জড়ো করা হয়। ২৬ মার্চ ২০২১ তারিখ সকাল থেকে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়। জুম্মার নামাজের পর মাদ্রাসার ছেলেরা লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। সঙ্গে কিছু প্রশিক্ষিত লোক গান পাউডার নিয়ে মিছিলে অংশ নেয়। তারা জেলা পরিষদ মিলনায়তন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ অসংখ্য সরকারি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। রেল স্টেশনে অগ্নিসংযোগ করে পুরো স্টেশন পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। আমি রেলস্টেশনের প্রত্যেকটি রুমের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখি।’

সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গণের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের জেলা চীফ সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আলম বলেন, ‘এইবারেই প্রথম নয় ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারিও সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গণে অগ্নিসংযোগ করা হয়। গত মার্চ মাসে হেফাজতের ধ্বংসযজ্ঞে গান পাউডার ব্যবহার করা হয়। এখানে তিনদিন ধরে আগুন জ্বলেছে কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের কোন কর্মী আগুন নিভাতে আসেনি। বারবার ফোন করেও কোন সহযোগিতা পাইনি। মিলনায়তনের ধ্বংসযজ্ঞে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী মদন মোহন চক্রবর্তীর ছোট ছেলে জীবন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘হেফাজতের হরতালের সময় আমাদের মন্দিরে হামলা হয় তিন দফায়। প্রথম দফায় হরতাল সমর্থনকারীরা এসে হামলা চালায়। তাদের কাছে গান পাউডার ছিলো। দাঁড়ি, টুপি, পাঞ্জাবী পরা লোকজন ছাড়াও বেশকিছু সাধারণ লোকজন দেখা গেছে হামলার সময়। সবার হাতে দা, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে। জিন্স প্যান্ট ও টি শার্ট পরা যুবকরাও অংশ নেন হামলার সময়। কয়েকজন যুবক মন্দিরের প্রথম গেইট ভাঙচুর করার পরে সবাই মন্দিরে প্রবেশ করে লুটপাট চালাতে থাকে। ওই দিন পুজা থাকার কারনে ভক্তবৃন্দ বেশি ছিলো। হামলার সময় সবাই আতঙ্কিত হয়ে দিগি¦দিক ছুটতে থাকে। হামলার সময় কালী মন্দির থেকে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণলংকারও লুট করে নিয়ে যায় ওরা। মন্দিরের দেয়ালে দেয়ালে ধ্বংসলীলা এখনো বিদ্যমান।

গত ১২ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘিরপাড়ের একটি দুর্গাপূজার ম-পে কোরআন অবমাননার তথাকথিত অভিযোগে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কুমিল্লার জেলার আহ্বায়ক সাংবাদিক দিলীপ মজুমদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার এই ঘটনার মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক নির্যাতন ও হামলা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে ‘হিন্দুশূন্য’ করার এক সফল প্রয়াস এই ঘটনা।’

কুমিল্লা মহানগর পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, নানুয়ার দিঘিরপাড়ের দর্পণসংঘ পূজা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা অচিন্ত্য দাস টিটু বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা এ অঞ্চল তথা সারা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা অপশক্তিকে দ্রুত বের করে বিচারের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি করছি।’

কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও সাতক্ষীরা সহ সারা দেশের গত পাঁচ বছরের মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গণতদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশসহ শ্বেতপত্রে অন্তর্ভুক্ত হবে যা আগামী ৩০ নবেম্বর প্রকাশিত হবে।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, , ,
শর্টলিংকঃ