বাঙালির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য নিশ্চিত করতে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে

আজ ০৪ নবেম্বর (২০২১) দুপুর ২.৩০টায় ৫০তম সংবিধান দিবস উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা একথা বলেন। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের আলোচনার বিষয় ছিল: ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রক্ষাকবচ ’৭২-এর সংবিধান’।

নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অন্যতম রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন এমপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি রাজনীতিবিদ হাসানুল হক ইনু এমপি, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সাম্মানিক সভাপতি নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসংগ্রামী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সম্পর্কিত কমিটির সদস্য সমাজকর্মী ফয়সাল হাসান তানভীর, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা কাজী মুকুল এবং নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভার সভাপতি শাহরিয়ার কবির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর প্রধান সহযোগী ’৭৫-এর ৩ নবেম্বরের শহীদ, সংবিধান রচয়িতা চার জাতীয় নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য, যা আমরা অর্জন করেছি ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ অবদান হচ্ছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ অবদান হচ্ছে সংক্ষিপ্ততম সময়ে জাতিকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান উপহার দেয়া। সংবিধান গৃহীত হওয়ার প্রাক্কালে গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু তার ৪ নবেম্বরের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছেন, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা হয়েছে এই সংবিধান। এই সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ধর্মের নামে হত্যা, সন্ত্রাস, নির্যাতন ও বৈষম্য অবসানের জন্য। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং তার উত্তরসূরী জেনারেল এরশাদ সংবিধানের সাম্প্রদায়িকীকরণের মাধ্যমে আলোকাভিসারী একটি জাতিকে ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার কৃষ্ণ গহ্বরে নিক্ষেপ করেছেন বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র বানাবার জন্য। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের চার মূলনীতি ফিরে এলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামসহ সাম্প্রদায়িকতার কিছু ক্ষতচিহ্ন এখনও সংবিধানে রয়ে গেছে।’

শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘’৭২-এর সংবিধান কার্যকর থাকলে বাংলাদেশে আজ ধর্মের নামে এত নির্যাতন, হানাহানি, সন্ত্রাস, বোমাবাজি, রক্তপাত আমাদের দেখতে হতো না। বাংলাদেশের এবং পাকিস্তানের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যাবতীয় গণহত্যা, সন্ত্রাস, নির্যাতন ও ধ্বংসের জন্য দায়ী জামায়াতে ইসলামী এবং সমচরিত্রের ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক দলগুলি। বাংলাদেশ যদি একটি আধুনিক ও সভ্য রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, যদি আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ধারা নিশ্চিত করতে চায়, যদি যুদ্ধ-জেহাদ বিধ্বস্ত বিশ্বে শান্তির আলোকবর্তিকা জ্বালাতে চায় তাহলে ’৭২-এর সংবিধানের পুনঃপ্রবর্তন ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোন পথ খোলা নেই।’

প্রধান অতিথির ভাষণে জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বেশ কয়েক বছর ধরে সংবিধান দিবস পালনের জন্য নির্মূল কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘৪ নবেম্বর ১৯৭২, বাঙালি জাতির জীবনের উজ্জ্বল দিন। এইদিনে বঙ্গবন্ধু বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান প্রণয়ন করেন। ’৭২-এর ৪ নবেম্বর গণপরিষদে জাতির পিতা ভাষণে বলেছিলেন- অনেক রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই সংবিধান। ’৭২-এর সংবিধান আমাদের জাতির দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলনের প্রতিফলন। অনেক আলোচনা হচ্ছে যে- ’৭২-এর সংবিধানে ৪টি স্তম্ভ যেভাবে ছিল এখন সেভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি না। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর বহুবার সংবিধান ক্ষত-বিক্ষত করা হয়। পরবর্তিতে মহামান্য আদালত অনেকগুলো সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেছে।’

বঙ্গবন্ধুর সংবিধানের লক্ষ্যগুলো অর্জনের অব্যহতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মাননীয় স্পীকার বলেন, ‘’৭২-এর সংবিধানের মূল ধারণাগুলোকে ধারণ করতে হবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। সংবিধানের শোষণমুক্ত, সামাজিক ন্যায়বিচারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাতির পিতার কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অন্যতম রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার ভঙ্গ হয়েছে। এই ধরনের শক্তি প্রয়োগ করার ফলে তা সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদোহিতার শামিল। এ বিষয়টি আমাদেরকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। বিপুল ভোটে বিজয়ী বর্তমান সরকারের কাছে বাংলার মানুষের সাংবিধানিক প্রত্যাশা আর এই সরকারের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতির আন্তরিক বাস্তবায়ন পন্থা ও উপযুক্ত কৌশল রচনা সময়ের সবচেয়ে জরুরী দাবী। পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মূলনীতির পরিবর্তন, রাষ্ট্রীয় ধর্ম সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মাঝে ভেদ সৃষ্টি, অর্পিত ও শত্রু সম্পত্তি আইনকে অব্যাহত রাখার মাধ্যমে নাগরিকদের অধিকারের বৈষম্য সৃষ্টি, অবৈধ ক্ষমতা দখল ও অসাংবিধানিক সকল ক্রিয়া কর্ম ও পরিবর্তনকে বৈধতা দান এসবই সংবিধানের স্খলনের উদাহরণ। সংবিধান রক্ষা করার অঙ্গীকার করে যারা শপথ নিয়েছিল তাদের স্খলন আর সেই সাথে সংবিধানকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতা এক ধরনের হতাশায় রূপ নিয়েছিল।

এই অন্ধকারের অমানিশা থেকে বেরিয়ে এসে সংবিধানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার দিন বদলের যে আহ্বান সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে এদেশের জনগণ। ছিনিয়ে এনেছিল নিরঙ্কুশ বিজয়। তাই বিজয় সংহত করে জনগণের সাংবিধানিক প্রত্যাশার বাস্তবায়ন সময়ের জরুরী দাবী।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, ‘’৭২-এর সংবিধানই ছিল তৃতীয় বিশ্বের সংবিধানগুলোর মধ্যে প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান। ভারত যেখানে তার সংবিধানে ১৯৭৬ সালে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারা সন্নিবেশিত করেছে, সেখানে বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে সংবিধানে কেবলমাত্র এই ধারাই নয় বরং সংবিধানের ১২ বিধিতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞাও প্রদান করেছে। সংবিধানের ১২ বিধিতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে- রাষ্ট্র কর্তৃক কোনও ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার ও কোনও বিশেষ ধর্মপালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তার ওপর নিপীড়ন করা যাবে না। জিয়া-এরশাদ সুচিন্তিতভাবেই সংবিধানের এই ধারা বিনাশ সাধন করেছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীতে সেটা পুনর্বহাল করা হলেও, এক্ষেত্রে যে বৈপরীত্য রেখে দেয়া হয়েছে তার ছিদ্র দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার প্রচার ও প্রসার ঘটছে।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি রাজনীতিবিদ হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণের বিষয়টি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ফায়সালা হয়ে গিয়েছিল। এদেশ হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টানের নয়, এদেশ বাঙালিদের দেশ, বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার দেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করাই হচ্ছে বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিনষ্ট করা, একাত্তরের চেতনাকে আঘাত করা। কয়েকদিন পূর্বের দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলা শুধু হিন্দুর উপর আক্রমণ বা সংখ্যালঘুর উপর আক্রমণ নয়- এটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করা। অসাম্প্রদায়িক সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে অসাম্প্রদায়িক প্রশাসন থাকতে হবে, অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক অঙ্গন ও অসাম্প্রদায়িক দল থাকতে হবে। সংবিধান পর্যালোচনা করে ৫ম ও ৮ম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে যে সাম্প্রদায়িকতার ছাপ সংবিধানে লাগানো হয়েছে তা সংস্কার করার প্রস্তাব রাখছি। সেই লক্ষ্যে অসাম্প্রদায়িক সংবিধানে ফেরত যাওয়ার জন্য সংবিধান পর্যালোচনা কমিটি এবং সংশোধনী কমিটি করা উচিত।’

ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সাম্মানিক সভাপতি নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও সহিংসতার উল্লেখ করে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমরা কাগজে কলমে ’৭২-এর সংবিধান তৈরি করেছি ঠিকই কিন্তু চেতনার দিক থেকে সমাজে সেটা প্রতিস্থাপিত হয়নি। সমাজের সর্বস্তরে সাম্প্রদায়িকতা বিপুলভাবে বিরাজ করছে।’

মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভাবনা শুরু করেছিলেন দেশের ভবিষ্যৎ সংবিধান নিয়ে, যে কথা তিনি ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি লন্ডনে অবতরণের পর ক্ল্যারিজ হোটেলে ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালের ৪ নবেম্বর যে কথা গণপরিষদে সংবিধানের খসড়ার উপর আলোচনায় বলেছিলেন, ঠিক একইভাবে সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করেছিলেন ধর্মের নামে রাজনীতি চলবে না। ফলে ধর্মব্যবসায়ীদের রাজনীতি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পাকিস্তানি ক্রীড়নক খুনি জিয়া-মোস্তাক গং বিশ্বনন্দিত সেই সংবিধানকে বন্দুকের জোরে ছিন্নভিন্ন করে গণমানুষের চেতনা এবং প্রত্যাশাকে ভ‚লুণ্ঠিত করে দেয়- যে কথা পঞ্চম এবং সপ্তম সংশোধনী মামলায় জিয়া, মোস্তাক, সায়েম গংকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে সাজা এবং গণমানুষের ঘৃণার বস্তু হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। আজ দেশে যে সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তা মূলত খুনি জিয়া-মোস্তাকেরই সৃষ্টি। যদিও পরবর্তীতে জিয়া-মোস্তাক কৃত সংবিধানে পরিবর্তনগুলোকে সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ বলে ঘোষণা করে, কিন্তু তারপরেও সংবিধানে রয়ে গেছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, যা বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছা এবং সংবিধানে নিশ্চিতকৃত ধর্মনিরপেক্ষ তত্ত্বের পরিপন্থী। আমাদের প্রত্যাশা এই রাষ্ট্রধর্মের কথা শিগগির সরিয়ে ফেলা সম্ভব হবে আর তখনই বলা যাবে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে গেছি, আর ’৭২-এর সংবিধানেই রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিশ্চয়তা।’

আরো বক্তব্য প্রদান করেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসংগ্রামী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সম্পর্কিত কমিটির সদস্য সমাজকর্মী ফয়সাল হাসান তানভীর, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা কাজী মুকুল।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, ,
শর্টলিংকঃ