পদ এবং মনোনয়ন বানিজ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ পদদলিত

লেখক-গবেষক আলী আকবর টাবী

আওয়ামী লীগের কর্মী বাক্কার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্বাস আলী আওয়ামী লীগে যোগদান করে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর দুবার রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগে যোগদানের আগে তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জামায়াত-বিএনপি-র রাজনীতির সাথে জড়িত। তার ভাই আরিফুল ইসলাম মানিক রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি। সার্বিকভাবে তাদের খুনি পরিবার বলা যায়।

সম্প্রতি তালাইমারী থেকে কাটাখালী পৌরসভা পর্যন্ত ছয় লেনের রাস্তা নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এর শেষ অংশ মিলেছে কাটাখালী পৌরসভার সীমানায়। সেখানে একটি দৃষ্টিনন্দন ফটক বা প্রবেশদ্বার হবে। সেই প্রবেশদ্বারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসার কথা। খুনি আব্বাস আলী বলেছেন, সেই ম্যুরাল তিনি বসাতে দেবেন না। তিনি এখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেন না, তিনি কাঠমোল্লার আদেশ পালন করেন।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিওতে আব্বাস আলী বলেন, ‘বড় হুজুরের সাথে আমাদের একজন ব্যক্তি বসছিল। যে ম্যুরালটা দিয়েছি বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী সঠিক না। এ জন্য আমি ওটা থুবো না,.. কেন দিবো? দিবো না। আমি তো কানা লোক না। যেভাবে বুঝায়েছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা দিলে আমার ভুল হবে।… বঙ্গবন্ধুক খুশি করতে যায়া আবার আল্লাহক নারাজ করব নাকি? এইডি লিয়াও রাজনীতি হবে কিন্তু আমি শিওর। তাই বুইলি মানুষেক সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহক অসন্তুষ্ট করব নাকি?’

আব্বাস আলীর মত রাজনৈতিক অতীত বিবেচনা না করেই গাজীপুরের মেয়র নির্বাচনেও জাহাঙ্গীর আলমকেও নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছিল।নির্বাচিত হয়ে তিনিও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও ৩০ লাখ শহীদকে নিয়ে কুটক্তি করেন।বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভাইরাল হওয়া এক বক্তব্যে জাহাঙ্গীরকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু ৩০ লাখ (মুক্তিযোদ্ধা) মারাইছে। ৬৪ জেলায় ৪৫ হাজার করে মরেছে প্রতি জেলায়। তাঁর স্বার্থ উদ্ধার করে নিয়েছে।’…

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিএনপি, জামায়াত সবার সঙ্গেই চলি। ঘণ্টা তিনেক আগেও বাবুনগরী ৪৭ মিনিট কথা বলেছেন। সে আসতে চায়। আমার এখানে সাড়ে ৩০০ বিঘা জমি আছে। নির্বাচনের সময় ১০ হাজার কোটি টাকা আনছি।” (আজকের পত্রিকা ২৩/০৯/২১)

অতীত পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আওয়ামী রাজনীতির সাথে জাহাঙ্গীর আলমের তেমন কোন সম্পৃক্ততা ছিল না।কৃষক মিজানুর রহমানের টানাটানির সংসারে জন্ম নেওয়া জাহাঙ্গীর এক ব্যবসায়ীর টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে বিপুল বিত্তের মালিক হন।এরপর ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হন।ঝুট ব্যবসা কোন সম্মানজনক ব্যবসা নয়, পাড়ার মাস্তানরা এই ব্যবসা করে থাকে। দলের পোড় খাওয়া ও ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে আব্বাস আলী এবং জাহাঙ্গীর আলমের মত অসংখ্য সুবিধাবাদীদের দলের পদ ও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।।যার ফলশ্রুতিতে দেখা যাচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে হারিয়ে আওয়ামী বিদ্রোহীরা ব্যাপকহারে নির্বাচিত হয়েছেন।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিহত করার জন্যও স্বাধীনতাবিরেধী বার বার ধর্মক ব্যবহার করেছে।১৯৭১ সালের ১৩ মে জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম লেখে- ‘এ নতুন জাতির নাম ‘জয়বাংলা’ জাত।তাদের কালেমা ও সালাম-কালাম হলো ‘জয়বাংলা’, তাদের দেশের নাম ‘বাংলাদেশ’ তাদের ধর্মের নাম বাংগালী  ধর্ম। এ ধর্মের প্রবর্তকের নাম দিয়েছে তারা বঙ্গবন্ধু।’

বর্তমানে এসব স্বাধীনতাবিরোধী বিশেষ করে জামায়াতপন্থীরা পরিকল্পিতভাবে ব্যাপকহারে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বকারী দল আওয়ামী লীগে ঢুকে পদ ও পদবী বাগিয়ে নিয়েছে।যা শুধু আওয়ামী লীগের জন্যই নয়, আমাদের স্বাধীনতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।তাই সতর্ক হওয়ার এখনি সময়।

লেখকঃ লেখক-গবেষক আলী আকবর টাবী 
সাংগঠনিক সম্পাদক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, , ,
শর্টলিংকঃ