ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় এত দ্রুত বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছে

আজ ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ বিকেল ৩টায় ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ কর্তৃক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা একথা বলেন। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সম্মেলনের আলোচনার বিষয় ছিল: ‘’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার অবদান’।

নির্মূল কমিটির রাশিয়া শাখার উপদেষ্টা, রাশিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোতালিব পাটওয়ারী বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য প্রদান করেন নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।

আলোচনায় বক্তব্য প্রদান করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মানবাধিকার নেত্রী মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সুলতানা কামাল, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শফিকুর রহমান এমপি, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-এর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি, লেখক গবেষক মফিদুল হক, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ভূতত্ত্ববিদ মুক্তিযোদ্ধা মো. মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী, নির্মূল কমিটির রাশিয়া শাখার উপদেষ্টা, রাশিয়া আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ রাশিয়ার সভাপতি ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান শেখ, নির্মূল কমিটির রাশিয়া শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রাশিয়া আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রবীর কুমার সরকার, ঢাকার ল্যাব এইড লিমিটেড-এর কনসালটেন্ট সোনোলজিস্ট, নির্মূল কমিটির রাশিয়া শাখার সাবেক সহসভাপতি ডা. মমতাজ রহমান।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন বর্তমান রাশিয়ান রিপাবলিক এবং ভারতসহ বিদেশী রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের অতুলনীয় অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে মাত্র নয় মাসে কখনও আমরা এই বিস্ময়কর বিজয় অর্জন করতে পারতাম না, যদি ভারতের পাশে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো পরাশক্তির কার্যকর সহযোগিতা না পেতাম। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার পর পরই সোভিয়েত ইউনিয়ন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নজিরবিহীন গণহত্যার নিন্দা করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করতে গিয়ে ভারত যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একরকম একঘরে হয়ে গিয়েছিল সেই দুঃসময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন দৃঢ়ভাবে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ’৭১-এর আগস্টে ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারতের মাটিতে মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণের সংখ্যা মাসে দুই-আড়াই হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বিশ হাজার অতিক্রম করেছিল।

‘’৭১-এর ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান প্রথম ভারত আক্রমণ করে। ৪ ডিসেম্বর ভারত পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা দেয়। পূর্ব রণাঙ্গণে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী যখন সর্বাত্মক যুদ্ধে নিয়োজিত হয়ে দ্রুত রাজধানী ঢাকার দিকে যাচ্ছিল তখনই আমেরিকা ৫ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় বানচাল করার জন্য জাতিসংঘে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দিন সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পক্ষে মার্কিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এবং ভেটো দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের অগ্রযাত্রা অক্ষুণ্ন রেখেছে। এরপর ১৩ ডিসেম্বর তৃতীয়বার সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে ভেটো দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অনিবার্য করেছে। ’৭১-এ আজকের এই দিনে ১৩ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরে আমেরিকায় ৭ম নৌবহরকে মোকাবেলার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নও তাদের পারমানবিক অস্ত্রবহনকারী সাবমেরিন বহর পাঠিয়েছিল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত আমাদের পাশে না থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

‘মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দর মাইন ও জঞ্জালমুক্ত করতে গিয়ে সোভিয়েত সরকার, বিশেষভাবে সোভিয়েত নৌবাহিনী যে নজিরবিহীন সহযোগিতা প্রদান করেছে মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালে তা অবশ্যই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মাইন মুক্ত করতে অভিযানে এডমিরাল জুয়েঙ্কোর নেতৃত্বে নৌ বাহিনীর ৮০০ সৈন্য অংশগ্রহণ করেছিল, যাদের ভেতর ১৮ জন শহীদ হয়েছিলেন। ১৭ জনের মৃতদেহের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোভিয়েত নৌবাহিনীর তরুণ সদস্য শহীদ ভিক্টোরোভিচ রেডকিনের কবর পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর একাডেমিতে সংরক্ষিত রয়েছে। আজ আমরা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের রুশী বন্ধুদের অবদান স্মরণ করার জন্য দুই দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিলিত হয়েছি।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মানবাধিকার নেত্রী মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত আমাদের পাশে এসে যেভাবে দাঁড়িয়েছিল তা আমাদের অনেক বড় সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে আমরা একটি দুর্ধর্ষ সামরিক বাহিনীকে জনযুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত করেছি। সোভিয়েত, ভারত শুধু আন্তর্জাতিকভাবেই নয় বরং মানবিক মমত্ববোধের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পর্যায়েও মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সহায়তা করেছে। আমার মা কবি সুফিয়া কামালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন পাকিস্তানকে চিঠি পাঠিয়েছিল। আমাদের বাড়ির পেছনে সোভিয়েত কালচারাল সেন্টারের নবিকভ নামক কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আমার মার নিরবিচ্ছিন্ন খোঁজখবর রেখেছেন। গিয়াসউদ্দিন স্যার সোভিয়েত কালচারাল সেন্টারে এসে পোশাক পরিবর্তন করে আমাদের বাসায় এসে মার সংগ্রহ করা রেশন ফেরিওয়ালার বেশে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিতেন। আমার আশা নতুন প্রজন্ম এসব ইতিহাস জানার চেষ্টা করবে এবং আমাদের শত্রু-মিত্রকে চিনতে পারবে।’

মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শফিকুর রহমান এমপি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে ছাট ছোট জেলাশহরগুলোতে রাজাকারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছিল। মিসেস ইন্দিরা গান্ধী ও নিকোলাই পডগোর্নির সাথে মৈত্রী চুক্তি হওয়ার পরে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেছিলাম। তাঁদের এসব পদক্ষেপ আমাদের সাহস দিয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষে রওয়ানা হওয়া মার্কিন সপ্তম নৌবহরকে সোভিয়েত ইউনিয়ন সাবমেরিন-এর মাধ্যমে ফিরিয়ে দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো এবং মৈত্রী চুক্তির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও আমরা তখন নিজেদের শক্তিমান মনে করছিলাম। আকাশবাণীতে এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরে লোকসভায় ইন্দিরা গান্ধীর বক্তৃতা আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ভারতের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের অস্ত্র দিয়েছে তা জেনে আমাদের সাহস আরও বেড়েছিল। রাজাকারের বংশধরেরা যারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ইন্দিরা গান্ধী সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলে তারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। বিএনপি সহ মৌলবাদী দলগুলো বরাবর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারত ও ইন্দিরা গান্ধী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে চলছে। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি যত চেষ্টাই করুক মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরকে সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল তা আমাদেরকে এখনও শিহরিত করে। সেসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতকে তথা ইন্দিরা গান্ধীকে যদি সমর্থন না দিত তার পরিণাম ভেবে আমরা এখনও আতঙ্কিত হই। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের সেখানে নিয়ে পড়াশোনা ও বুদ্ধিজীবীদের দ্বিতীয় প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিল যা সর্বদা মুক্তিযুদ্ধের মিত্র দেশগুলোর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা বাড়িয়ে দেয়।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর-এর প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি, লেখক গবেষক মফিদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রাশিয়ার সহায়তা একটি আলোকজ্জ্বল অধ্যায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাই পদগর্নি  এপ্রিলের ২ তারিখে বাংলাদেশের গণহত্যা বন্ধের জন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে চিঠি লিখেছিলেন। জাতিসংঘে সোভিয়েত প্রতিনিধি যেসব বক্তব্য দিয়েছিলেন তার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনে আশার সঞ্চার হয়। সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট পদগর্নি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেন নিজেদের বন্ধুহীন মনে না করে’। জাতিসংঘে রাশিয়া ভেটো দিয়ে যে ভূমিকা পালন করে তা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা অপরিসীম।’

নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ভূতত্ত্ববিদ মুক্তিযোদ্ধা মো. মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের একমাত্র সমুদ্রবন্দরকে সচল করার জন্য রাশিয়ান নৌবাহিনী বিশাল ভূমিকা পালন করে। সেই সময় রাশিয়ান নৌবাহিনীর ১৮ জন সদস্য শহীদ হন। রাশিয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে শরিক হয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ অন্যতম। এছাড়াও প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে রাশিয়ায় পড়াশোনা ও উচ্চতর গবেষণা করার সুযোগ করে দিচ্ছে। আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধা, সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা সম্পর্কে অবগত আছি, আমাদের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের নিকট মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে রাশিয়া ও ভারত মুক্তিযুদ্ধে যে ভূমিকা রেখেছিল তার ইতিহাস।’

সভাপতির বক্তব্যে নির্মূল কমিটির রাশিয়া শাখার উপদেষ্টা, রাশিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোতালিব পাটওয়ারী বাহার বলেন, ‘ভারতের ইন্দিরা গান্ধীর সরকার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরপরই রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল। পাকিস্তান ভারত আক্রমণ করলে ১৯৭১ সালে ৩ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানি হানাদারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অতঃপর রাশিয়াও বাংলাদেশ-ভারতের পাশে এসে দাঁড়ায়। রাশিয়া বাংলাদেশকে সাহায্য করার জন্য পারমানবিক ক্ষমতাধর সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর এবং চীন ও পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ বাংলাদেশের দিকে এগোনোর আর সাহস পায়নি। এভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর পাহারা দিয়ে বাংলাদেশকে বর্হিশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।’

অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে রাশিয়ান আর্কাইভ থেকে নির্মূল কমিটির রাশিয়া শাখা কর্তৃক সংগ্রহীত ১৩ ডিসেম্বর সোভিয়েত সাবমেরিন অভিযানের নিউজ রিল প্রদর্শন করা হয়।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, , ,
শর্টলিংকঃ