নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা শহীদজায়া মুশতারী শফির মৃত্যুতে শোক

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদজায়া মুশতারী শফির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সংগঠনের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি।

আজ এক শোকবার্তায় বলা হয়, ‘১৯৯২ সালে কবি সুফিয়া কামাল ও শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গঠিত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীন বাংলা বেতারের শব্দসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদজায়া মুশতারী শফির মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত।

‘চট্টগ্রামে নির্মূল কমিটির পুরোগামী নেত্রী ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও সমাজকর্মী মুশতারী শফি, যিনি মুক্তিযুদ্ধে হারিয়েছেন তাঁর স্বামী ও ভাইকে। ১৯৯৪-এর জুন-এ নাগরিকত্ব লাভের পর যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা চট্টগ্রামে প্রথম জনসভার ঘোষণা দেয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র চট্টগ্রাম জেলার আহ্বায়ক হিসেবে শহীদজায়া মুশতারী শফি এই জনসভা প্রতিহত করার পাল্টা ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল সংগঠন সমর্থন করেছিল। ২৬ জুলাই ঘাতক গোলাম আযমের নির্ধারিত সভা প্রতিহত করতে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্র শিবিরের গুলিতে নির্মূল কমিটি ও ছাত্রলীগের ৫ জন তরুণ শহীদ হয়েছিলেন, গোলাম আযম জনসভা করতে ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রাম থেকে ফিরে এসেছিলেন। শহীদজননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৯৫ সালে কিছু সময়ের জন্য নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

‘লেখক হিসেবে মুশতারী শফি বাংলাদেশ সরকারের ‘রোকেয়া পদক’, ও ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার’সহ বহু সম্মাননা ও পুরস্কার প্রাপ্ত হয়েছেন। আমরা তার পরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্য ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।

শোক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, লেখক সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, অধ্যাপক অনুপম সেন, নাট্যজন মুক্তিযোদ্ধা রামেন্দু মজুমদার, সমাজকর্মী মালেকা খান, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুননবী, অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, জননেতা ঊষাতন তালুকদার, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, চলচ্চিত্রনির্মাতা মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ, অধ্যাপক ডাঃ কাজী কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অবঃ) আলমগীর সাত্তার বীরপ্রতীক, ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাহাবউদ্দিন আহমেদ বীরউত্তম, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুর রশীদ (অবঃ), মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ আমজাদ হোসেন, ড. নূরন নবী, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদজায়া সালমা হক, কলামিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, অধ্যাপক শিল্পী আবুল বারক আলভী, সমাজকর্মী কাজী মুকুল, কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক আয়েশ উদ্দিন, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ডাঃ ইকবাল কবীর, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চক্রবর্ত্তী, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান শহীদ, এডভোকেট আবদুস সালাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক আবদুল গাফ্ফার, কবি জয়দুল হোসেন, ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, মুক্তিযোদ্ধা কাজী লুৎফর রহমান, সাবেক জাতীয় ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু, সমাজকর্মী কামরুননেসা মান্নান, এডভোকেট আজাহার উল্লাহ্ ভূঁইয়া, অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া, সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই ফেরদৌসী লাকী, অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব, সাংবাদিক শওকত বাঙালি, উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ নুজহাত চৌধুরী শম্পা, লেখক আলী আকবর টাবী, সমাজকর্মী চন্দন শীল, এডভোকেট কাজী মানছুরুল হক খসরু, এডভোকেট দীপক ঘোষ, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, শহীদসন্তান তৌহিদ রেজা নূর, শহীদসন্তান শমী কায়সার, শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, শহীদসন্তান তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, মানবাধিকারকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, মানবাধিকারকর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, মানবাধিকারকর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া, এডভোকেট আবদুল মালেক, লেখক কলামিস্ট মিথুশিলাক মুর্মু, কলামিস্ট অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভীন, মানবাধিকারকর্মী রহমান খলিলুর, অধ্যাপক সুজিত সরকার, সমাজকর্মী হারুণ অর রশীদ, এডভোকেট মালেক শেখ, সহকারী অধ্যাপক তপন পালিত, সাংবাদিক দিলীপ মজুমদার, সমাজকর্মী রাশেদ রাশেদুল ইসলাম, সমাজকর্মী ইস্রাফিল খান বাপ্পি, সমাজকর্মী শিমন বাস্কে, সমাজকর্মী শেখ আলী শাহনেওয়াজ পরাগ, সমাজকর্মী সাইফ উদ্দিন রুবেল, লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি ও সমাজকর্মী ফয়সাল হাসান তানভীর প্রমুখ।

বাংলা প্রবাহ/এম এম

, ,
শর্টলিংকঃ