শেখ হাসিনার দক্ষতায় আমাদের স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক সক্ষমতা অর্জন হয়েছে

জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার শুক্রবার যেমন সাফল্যের ১৩ বছর শেষে ১৪ বছরে পদার্পণ করলেন, ঠিক তেমনি দৈনিক ভোরের পাতাও তার নতুন আঙ্গিকে পথ চলার ১৩ বছর শেষে ১৪ বছরে পদার্পণ করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য যে পরিমাণ গর্ব অনুভব করি সে পরিমাণ গর্ব অনুভব করি বাঙালি জাতির জন্য কারণ সেদিন তিনি যদি শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশে ফিরে না আসতেন, তাহলে হয়তো আজকের এই অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ আমার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারতাম না। যে সব রাজনীতিবিদ ও সমাজবিদ যারা এখন দেশের উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছেন তাদের এক নাম্বার এজেন্ডা হওয়া উচিৎ যে দুর্নীতি প্রতিরোধে একযোগে কাজ করে যাওয়া।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৫৭৭তম পর্বে শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) এসব কথা বলেন আলোচকরা। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান, জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, বণিক বাংলাদেশের সম্পাদক, দৈনিক ভোরের পাতার উপদেষ্টা সম্পাদক, বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর এই ১৩ বছরে ম্যাজিক এতো অল্প পরিসরে সেটা তুলে ধরা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আলোচনা করা আমার জন্য আসলেই একটু কষ্টকর। তিনি মালদ্বীপ সফরে গিয়ে একটি কথা বলেছিলেন যে, আজকের বাংলাদেশ হচ্ছে দর কষাকষির যোগ্যতা সম্পন্নের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ কিন্তু সেই বাংলাদেশ নেই যে বাংলাদেশকে অন্য কেউ দিকনির্দেশনা দিবে এবং সেটা আমরা চোখ বুঝে বাধ্য হয়ে অনুসরণ করবো। বর্তমান সময়ের করোনা নিয়ে যদি আমি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে একটি উদাহরণ দেই, তাহলে দেখতে হবে আমাদের স্বাস্থ্যখাতের যে সক্ষমতা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার এতো নিন্দা ও সমালোচনা শুনেছি। সেখানে এই করোনাকালে আমাদের স্বাস্থ্যখাতের যে সক্ষমতা নিয়ে যারা নিন্দুক আছে তাদের চোখে আঙুল তুলে একটু কথা বলতে চাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যায় এবং এটা কিন্তু একটা গ্লোবাল বিষয়। কিন্তু এই দুটি বছর বাংলাদেশে অনেকেই কিন্তু বিদেশে চিকিৎসার জন্য সুযোগ পাননি। এই দুটি বছরে কি আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেড়ে গিয়েছে? পৃথিবীতে করোনার যে ওষুধটি যেখানেই আবিষ্কার হয়েছে সেটা কিন্তু সাথে সাথেই বাংলাদেশে পাওয়া গিয়েছে। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প সেটা শুধু নিয়েই আসেনি, আমরা কিন্তু সারা বিশ্বের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও আমাদের লাইবিলিটির হার এক শতাংশ কমিয়ে আনবো। তার প্রাথমিক বিজয়টি দেখুন, এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমরা পিপিই রফতানি করেছি, চীনে আমরা ওষুধ সরবরাহ করেছি। চীন বা ভারত থেকে আমরা যে ভ্যাকসিন পেয়েছি সেই চীন কিংবা ভারতে কিন্তু আমাদের ওষুধ পৌঁছেছে। মোদ্দাকথা আমাদের সেই সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সেটি আমরা অর্জন করেছি। আরও একটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে, এই কোভিডকালীন পৃথিবীর যে কোন দেশেই একটি পরাশক্তি দেশের ভ্যাকসিন সেই দেশে রফতানি হয়েছে সেই দেশে থেকে কিন্তু অন্যান্য পরাশক্তির দেশ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সেই কঠিন প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশে আশা ভ্যাকসিন পোর্টফলিও আছে সেখানে যতগুলো ভ্যাকসিন আছে সেখানে কিন্তু কিছুসংখ্যক দেশ বাদ দিয়ে এতোগুলো ভ্যাকসিন কোথাও পাওয়া যাবে না।

লেখক: অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)
ডিভিশন প্রধান, ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
আঞ্চলিক পরামর্শক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
সদস্য সচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ
অর্থ সম্পাদক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

, ,
শর্টলিংকঃ