নির্মূল কমিটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজ গড়ার সংগ্রামে অবিচল

Ecare Solutions

আজ ১৭ এপ্রিল দুপুর ২ টায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কর্তৃক ৫১তম মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল একথা বলেন।

ওয়েবিনারের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীন মুজিবনগর সরকারের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ সহ জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কাজী মুকুল বলেন, ‘১০ এপ্রিল প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে  গঠিত মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে, যে কারণে দিনটি বাংলাদেশের কালপঞ্জিতে একটি ঐতিহাসিক দিন। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছিল, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্র ও বৈশিষ্ট হবে জনগনের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই ঘোষণাপত্রই ছিল ১৯৭২ সালে গৃহীত বাংলাদেশের মূল সংবিধানের সৃষ্টিতত্ত্ব। দূর্ভাগ্যের বিষয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বপ্রদানকারী জাতীয় চার নেতার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক শাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সংবিধান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল চেতনা মুছে ফেলে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মত একটি ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক মৌলবাধী সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানাতে ষড়যন্ত্র করেছিল, সেই ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাষ্ট্রীয় সমাজ গড়ার সংগ্রামে অবিচল রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও চার জাতীয় নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের আত্মদানের প্রতি শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ নিদর্শন হিসেবে ’৭১ এর মূল সংবিধান পূনঃপ্রবর্তন করুন। ’৭২ এর সংবিধানে ধর্মনিপেক্ষ মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার জন্য অবিলম্বে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।’

নির্মূল কমিটির নির্মূল কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং নির্মূল কমিটি রাজশাহী মহানগরের সদস্য তামিম শিরাজীর সঞ্চালনায় উক্ত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সাব-সেক্টর কমান্ডার ও মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের গার্ড অব অনার প্রদানকারী সাবেক এসপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূতত্ত্ববিদ মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর যুগ্মসম্পাদক লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান ও নির্মূল কমিটির সুইজারল্যান্ড শাখার সভাপতি খলিলুর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সাব-সেক্টর কমান্ডার ও মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের গার্ড অব অনার প্রদানকারী সাবেক এসপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, ‘আজ ১৭ এপ্রিল ২০২২, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করেছি। এই দিনে বৈদ্যনাথতলায় সৃষ্টি হয়েছিল স্বাধীন সার্বভৈৗম সরকার যার শুরুটা হয়েছি। ২৬ মার্চের বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। ২৫ মার্চের স্বাধীনতার যে ঘোষণা বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন তার প্রেক্ষাপটে ছিল ১৯৭০ সালে সাধারণ মানুষের নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত হয়ে হওয়ার ঘটনা। ইয়াহিয়া সেই ফলাফল মেনে না নিয়ে ধীরে ধীরে আমাদের ঠেলে দিয়েছিল রক্তাক্ত যুদ্ধের মধ্যে। বঙ্গবন্ধু তাঁর ঘনিষ্ঠতম যে ৫ জন সহচরকে নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন ১৯৭০ সালে পরবর্তী সময়ে ’৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল তাদের অংশগ্রহণেই। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে এদিন স্বাধীন সাবভৌম সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সহ অন্যরা শপথ নিয়েছিলেন।’

বঙ্গবন্ধুর হয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন যে সমস্ত কাজ পরিচালিত হচ্ছিল তার বৈধতা জন্য ১৭ এপ্রিল শপথ করতে হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার আগে ১০ এপ্রিল আগরতলায় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রচিত হয়েছিল। তার ৭ দিনের মাথায় অগোছালো বৈদন্যনাথতলা আম্রকানন ধুয়ে মুছে সেখানে মঞ্চ সাজিয়ে জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে শপথ অনুষ্ঠান হয়। ইউসুফ আলী চৌধুরী অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে শপথবাক্য পাঠ করান। তারপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তার কেবিনেটের নির্বাচন করে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। মেজর জেনারেল ওসমানীও ছিলেন সেদিনের অনষ্ঠানে। তিনি ঢাকা থেকে পালিয়ে সকাল ১১ টায়ই বৈদ্যনাথতলায় উপস্থিত হন। অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ওসমানিকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা  করে। সেময় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। সেদিন বৈদ্যনাথতলার নাম পাল্টে মুজিবনগর করা হয়। এরপর যখন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয় তখন মনে হচ্ছিল নবগঠিত অস্থায়ী সরকারকে অভিবাদন জানাতে আকাশ যেন নেমে এসেছে। অস্থায়ী সরকার গঠনের পর কলকাতার স্টেটসম্যান সহ আন্তর্জাতিক পত্রিকারগুলোর ক্যামেরার ফ্লাশ একের পর এক চলছিল। চারদিকে বঙ্গবন্ধুর নাম ধ্বনিত হচ্ছিল, সবমিলিয়ে সে এক অভূতপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টিতে ২৬ মার্চের বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পরই ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের দিনটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্ববহন করে। বাংলাদেশ সৃষ্টির অংশীদার হিসেবে আমি গর্বিত।’

নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ১৯৭১-এর ১০ এপ্রিল আগরতলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে নতুন রাষ্ট্রের মন্ত্রীপরিষদের নাম ঘোষণা করা হয়। তারপর ঘোষণাপত্র পাঠ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। বৈদ্যনাথ তলার সেই অনুষ্ঠানে অনেক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা এই কবর বিশ্বময় ছড়িয়ে দেন। বাংলার মাটিতে মুক্তিযুদ্ধ এক অতি বাস্তব সত্য। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধ করে জন্ম নেয়া এই দেশের মূলমন্ত্রই হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের অতীতের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শাসকদের সৃষ্ট বিপথগামী বহু সিদ্ধান্তের বেড়াজালে আমরা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছি। ফলে আক্রান্ত হচ্ছি নানাভাবে, ধর্মান্ধ মৌলবাদীরাই এই চক্রের মূল হোতা। এদের প্রতি সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ আমরা দাবি করছি।’

ওয়েবিনারের প্রধান বক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান মুজিবনগর দিবসের ৫১তম বার্ষিকীতে ’৭১ এর এই দিনে যিনি মুজিবনগর সরকারের সামরিক অভিবাদনের নেতৃত্বে ছিলেন সেই কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমাদের মাঝে উপস্থিত আছেন। নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে আমরা তাকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই।’

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ১৭ এপ্রিলের যারা নায়ক ছিলেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূতত্ত্ববিদ মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী বলেন, ‘২৫ মার্চের ঘটনার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলাম না। সবাই যার যার মতো করে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। একসময় বাংলাদেশের এই প্রতিরোধ আন্দোলনের একটা সাংগঠনিক রূপ অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে, তারই প্রেক্ষিতে ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র তৈরির ৭ দিনের মাথায় স্বাধীন স্বার্বভৌম মুজিবনগর সরকার গঠন হয়। তারপরই মূলত স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের যুদ্ধ হিসেবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বৈধতা অর্জন করে সারাবিশ্বে। সেই হিসেবে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা সেদিন মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার দিয়েছিল তারা সবাই প্রশিক্ষিত ছিল না এ মানুষগুলোকে খুঁজে বের করে তাদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। আগামী দিনে ১৭ এপ্রিলকে আরও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।’

নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সমাজ এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরকে ঢেলে সাজাতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজাতে হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে একসঙ্গে কাজ করলে অসাম্প্রদায়িক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব এ ব্যাপারে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা আছে। আরেকটি বিষয় হলো- সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সকল ধর্মের সবাই মিলে যার যার অবস্থান থেকে একযোগে কাজ করতে হবে- ধর্ম-বর্ণের কুৎসিত রাজনীতির কবর রচনা করতেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, হয়নি শুধুমাত্র একটি লাল সবুজ পতাকা এবং একটি ভূখন্ডের জন্য। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার জন্য এবং সব ধমের্র মানুষের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। এ উপমহাদেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ও ফায়দা আদায় করা স্বার্থান্বেষী ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের একটি চর্চিত বিষয়; যা বর্তমান আধুনিক যুগেও তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। আসলে যুগে যুগে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো মাথাচাড়া দেয়ার এত সাহস ও শক্তি পেতো না।’

নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর যুগ্মসম্পাদক লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান বলেন, ‘যে আকাঙ্খা ও প্রত্যয় বুকে ধারণ করে বাঙালী জাতি একাত্তরে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন দেশ, পতাকা ও মানচিত্র পেয়েছিল, সে সবই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এই চেতনা মূল চাবিকাঠি ’বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’- এই চার নীতি বাঙালী জাতিকে পাকিস্তানি জান্তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছিলো এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেছিল। এই চার নীতির সমন্বয়ে রচিত হয়েছিল জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ঐতিহাসিক বাহাত্তরের সংবিধান। এই সংবিধানের আলোকেই দেশ এগিয়ে যাবে সামনের দিকে, এটাই ছিল ব্রত। অথচ স্বাধীনতার দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরে সংবিধান থেকে বঙ্গবন্ধুর চার নীতিকে বিচ্ছেদ ঘটাতে এবং বাঙালি জাতির সংস্কৃতি থেকে মুছে ফেলতে একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা যে বিরামহীন অপচেষ্টা চালিয়েছে, তাকে রুখে দাঁড়ানোই হতে হবে আধুনিক প্রজন্মের এক নতুন মুক্তিযুদ্ধ। সে যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তিও হতে হবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং বাহাত্তরের সংবিধান। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে যে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা-ই হোক বাঙালি জাতির চলার পথের প্রেরণা।’

নির্মূল কমিটির সুইজারল্যান্ড শাখার সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বৎসর যাবত মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামী লীগ সরকার রাস্ট্র ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়, মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনা নির্ভর একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যাবস্থা গড়ে উঠেনি। ধর্মান্ধ মাওলানা, হেফাজতে ইসলাম ও স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত জামাত বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজে হিন্দু মুসলিম দাংগা বাঁধানোর চেস্টা অব্যাহত রাথছে এবং দেশকে পাকিস্তান বানানোর চেস্টা করছে। মাত্র কিছুদিন আগে ঢাকায় ড. লতা সমাদ্দারকে পুলিশের এক কনস্টেবল কর্তৃক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা, নওগাঁ জেলায় আমোদিনী পালের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে অত্যাচার ও হয়রানি, হেফাজত ইসলামের যুগ্মসম্পাদক মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ন্যায্য প্রতিবাদ করায় সুনামগঞ্জে ঝুমন দাসের বিনা বিচারে এক বছর কারাবাস যাপন, ফেসবুক হ্যাক করে নাসিরনগরে মনোরঞ্জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও ব্যাপক হয়রানি এবং সবশেষ ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে মুন্সিগঞ্জের বিজ্ঞানের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের লাঞ্ছনা ও ১৯ দিন কারাবাসের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। কেননা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে উচ্ছেদ করে পাকিস্তানের আদলে একটি ব্যর্থ জঙ্গি মুসলিম রাস্ট্র প্রতিষ্ঠাই এদের উদ্দেশ্য। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ, যাদের সংখ্যা ধর্মান্ধদের তুলনায় অনেক বেশি, তারা সকলে ৭১ র ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে, আর একটি রেঁনেসা বিপ্লবের ডাক দিয়ে, ধর্মান্ধ হেফাজত-জামাত-বিএনপিকে এ দেশ থেকে চিরতরে প্রতিহত করবে এবং এ দেশ ফিরে পাবে মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক আদর্শ, মূল চেতনা, অসাম্প্রদায়িক  বাংলাদেশ।’

সভাপতির বক্তব্যে নির্মূল কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান বলেন, ‘বাংলা, বাঙালি, মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর যেন অভিন্ন নাম। স্বাধীনতা অর্জনের পথে ১৭ এপ্রিল এক ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত দিন। বাংলাদেশের স্বাধীন সরকারের শপথ নেবার দিন, স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের দিন। এর আগে একই বছরের ১০ এপ্রিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার মুজিনগরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।’

Ecare Solutions
শর্টলিংকঃ