জবিয়ানদের ঈদ ভাবনা

Ecare Solutions

ঈদ মানে আনন্দ,ঈদ এলেই মন রাঙে খুশির রংয়ে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার প্রহর শেষে আত্ত্বীয় সজনের সমাহার ঘটে সবার বাড়িতে বাড়িতে।একখন্ড ঈদ যেনো লেগে যায় সকলের প্রাণে। মুসলিমদের পবিত্র দুই ঈদের মধ্যে ঈদ উল আযহা শেখায় ত্যাগের মহিমা।মনের পশুত্ব কোরবানী করে সমাজ হোক আরো সুন্দর ও মহিমান্বিত। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন বাংলা প্রবাহের প্রতিবেদক সাকিবুল ইসলাম

ফের ঈদ আনন্দ-উদযাপনের প্রত্যাশা

ঈদ নিতান্তই একটি আবেগপ্রবণ শব্দ। ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ-উল্লাস। ঈদুল আজহা ত্যাগের উৎসব। ত্যাগের মধ্যেই যে প্রকৃত সুখ নিহিত থাকে ঈদুল আজহা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে প্রতিবছর ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করি। ঈদের সকালে রান্নায় আম্মুকে সাহায্য করা এবং পরিবারের সকলে একসাথে খাবার খাওয়া এরপর কোরবানি করা ও কুরবানীর মাংস গরীব-,দুঃখি , আত্নীয়, প্রতিবেশীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মাঝেই থাকে অসীম তৃপ্তি। ঈদের বিকেলে কাজিন, বন্ধু-বান্ধব এর সাথে ঘোরাঘুরি, গল্প আড্ডায় মনোমুগ্ধকর একটি সময় কাটবে। ঈদুল আযহার লক্ষ্য হচ্ছে সকলের সাথে সদ্ভাব, আন্তরিকতা এবং বিনয়-নম্র আচরণ করা। ঈদে শুধুই দামি পোশাকে বিলাসীতা না করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, শ্রেনী-পেশা দলমত নির্বিশেষে আর্তমানবতার পাশে দাঁড়াবো। হিংসা – বিদ্বেষ ভূলে সাম্য, মৈত্রী, সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবো। অসহায় এবং দুস্থ প্রতিবেশীদের সাহায্য করার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াবো, তাদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে ঈদের দিনটি সুন্দর কাটবে আশা করছি। সর্বশেষ কাজী নজরুল ইসলাম-এর ভাষায় বলতে চাই,
“ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন
ঐ খুনের খুঁটিতে কল্যাণকেতু লক্ষ্য ঐ তোরণ
আজি আল্লাহর নামে জান কোরবানে
ঈদের পূত বোধন।”

আফরোজা আক্তার
শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

ত্যাগের মহত্ত্ব ছড়িয়ে দিতে বছর ঘুরে আবারো হাজির ইদুল-আযহা

প্রতিবছর ইদুল আযহা হাজির হয় মানবতার মহৎ বার্তা ও আত্মত্যাগের শিক্ষা নিয়ে।যা জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ ঐক্য ও সংহতিপূর্ণ ইবাদাতের মাধ্যমে পালিত হয়।
ইদ মানে আনন্দ ইদ মানে খুশি কথাটি সবার মুখে মুখে থাকলেও ইদুল আযহার তন্তর্নিহিত শিক্ষা ও তাৎপর্যের দিকে নজর নেই বেশিরভাগ মানুষেরই।এই ইদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো অন্তরের পশুত্বকে হত্যা করা। মনকে কলুষতামুক্ত করা। এবং উৎসর্গের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।

আমার কাছে ইদ মানে বাড়ি ফেরা। ইদ মানেই পরিবারের কাছে ফিরে আসা।অনেকদিন পর বাড়ি ফেরার আনন্দ ইদের খুশি হাজারগুন বাড়িয়ে দেয়। ইদের সকাল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে দিনের শুরু, শেষ ভাই-বোনদের আড্ডায়।এছাড়াও মিষ্টি, পায়েস খাওয়ার পর্ব তো আছেই।
করোনা মহামারী ও সিলেটের ভয়াবহ বন্যার মঝে মানবতার বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে এবারের ইদুল-আযহা। তাই আমাদের উচিত ইদের আনন্দ অসহায় দরিদ্রের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া।বেশি বেশি দান ও সাদকা করা।ইদুল আযহার মহান শিক্ষায় ব্রতী হয়ে অসহায়দের পাশে থেকে সকলের ইদ কাটুক খুশিতে।


ফ্লোরা ইসলাম
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা

ঈদের আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিটি প্রাণ

তারুণ্যের অধীর আগ্রহের মাধ্যমে প্রাপ্য এক আনন্দের ছোঁয়া ঈদ। ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় ঈদের প্রস্তুতি। ঈদের দিন সকাল হতেই ঈদ এর নামাজ, একে অন্যের সঙ্গে খুশি ভাগাভাগি, বিকেলে সবার সঙ্গে একত্রে ঘুরতে যাওয়া যেন এক অন্য রকম আমেজ। ঈদের কিছুদিন পূর্বে দূরপ্রান্তে ফেলে আসা প্রাণের মানুষগুলোর জন্য ফিরে যাওয়া প্রাণের মানুষগুলোর কাছে এক দায়বদ্ধতা, যার প্রাপ্তি বাড়ি ফিরে তাদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত। সারাবছর দূরে থাকার ফলে জমা হওয়া গ্লানি ভুলে এক নতুন সময়ের সূচনা হয় এই ঈদের মাধ্যমে। ঈদ মানে আনন্দ আর এ আনন্দ হওয়া উচিত সবার। অসহায়দের প্রতি একটু মানবিকতা আর সহানুভূতির দৃষ্টি দিতে পারলে এ দিনটি সবার জন্য হয়ে উঠতে পারে এক আনন্দময় দিন।

সাফা আক্তার নোলক
শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ

আনন্দে কাটুক সবার ঈদ

কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ আক্রমণের পর থেকেই মুসলমানদের পবিত্র উদযাপন যেন এক গভীর স্থবিরতা পড়ে গেল। এই কয়েকটা বছর ধরে ঈদের দিনটিকে আমরা অলস সময় হিসেবেই পালন করছি। এবার ঈদের সেই পুরনো আমেজটা ফিরিয়ে আনতে ব্যস্ত সবাই। ঈদে নতুন কাপড়, ঘুরতে যাওয়া, ঈদের নামাজ সব আগের রূপে ফিরে আসবে। করোনা পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে নতুন করে ঈদ উদযাপনের জন্য সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে। সকাল বেলা নতুন পাঞ্জাবি পরে পরিবারের সঙ্গে ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়তে যাওয়ার আনন্দ অন্য রকম। নামাজ পরা শেষে পরিবারের সবার কাছ থেকে সালামি নেয়া তো বহুল প্রচলিত। সবার ঈদ আনন্দে কাটুক।

আবু সুফিয়ান সরকার শুভ
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ

ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার অন্তরে

ঈদ মানেই আনন্দ,আর বাড়ি থেকে যারা দূরে তাদের কাছে ঈদের আনন্দ অনেক বেড়ে যায় বাড়িতে যাওয়ার মাধ্যমে। মা বাবা আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে যখন অনেক দিন পরে দেখা হয় তখন তাদের হাসি মুখ দেখে মনের মধ্যে এক অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। অনেক দিন পরে যখন পুরাতন বন্ধুদের সাথে দেখা হয়,আড্ডার ছলে যখন পুরাতন দিনের কোন মজার কথা মনে করিয়ে দেয় তখন হাসিতে ফেটে হয়ে পড়ি। অতিথি পাখিরা যত দূরেই যাক না কেনো এক সময় তাকে আপন নীড়ে ফিরে আসতেই হয়। আমার কাছে এবারের ঈদ মানেই অনেক দিন পর এক সাথে পরিবারের সদস্যরা মিলে এক সাথে গরু কিনতে যাওয়া,নামাজ পড়া, এক টেবিলে বসে খাওয়া। সর্বোপরি পরিবারের সাথে কিছু দিন কাটানোই আমার ঈদ আনন্দ।

আরসাদ সাকিব
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ

সীমাহীন হোক ঈদ আনন্দ

ঈদ শব্দটা শুনলেই মনে আনন্দ লাগে। হৃদয়ে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। এ শব্দটা আনন্দের আলাদা মাত্রা বহন করে। যে মাত্রা অন্য কোনো শব্দে রয়েছে বলে আমার মনে হয় না। মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ আনন্দ আয়োজন হলো ঈদ উৎসব। ঈদ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হলেও জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ এ উৎসবে শামিল হয়। সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যে যার সাধ্যমতো খুশিতে মেতে ওঠে। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র দুটি দিন মুসলিম ধর্মের এ উৎসবের নাম ঈদ।ঈদের এ সময় পরিবার, আত্নীয়-স্বজন, বন্ধ -বান্ধবদের সাথে অন্যরকম অনুভুতির প্রকাশ ঘটবে।কেউবা এ দিনটিকে সারাদিন ঘুরাঘুরির মাধ্যমে কাটিয়ে দিবে,আবার কেউ তার পরিবারকে সময় দিবে।প্রতিটি বাড়িতেই ঈদের রান্না হয় ব্যাপক আয়োজনে। হরেক রকমের মুখরোচক বিভিন্ন খাবার। সবাই একসঙ্গে নামাজ আদায় করে। বন্ধু,
পাড়া-প্রতিবেশীরা একে অপরের বাড়িতে আসে। অনেক হৈ-হুল্লোড়, আড্ডা, আনন্দে পালিত হয় ঈদ।

রবিন আহমেদ রাজিন
শিক্ষার্থী,সমাজকর্ম বিভাগ

এবারের ঈদ যেন স্বপ্নের মতো

“ভোগে নয় ত্যাগের মধ্যেই প্রকৃত সুখ” তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব ইদুল আজহা। ভর্তি পরিক্ষা এবং কোভিড-১৯ বিগত ২ বছর ইদের আনন্দ অনেকাংশে ম্লান করে দিয়েছিলো।এবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের তারিখ ঘোষণার পর বার বার মস্তিষ্কে বাঁজছিলো, “স্বপ্ন” যাবে বাড়ি আমার। সেই স্বপ্ন যান্ত্রিকতাযুক্ত শহর পেরিয়ে বইয়ের বর্ণিত কল্পিত কোনো এক সবুজ ঘেরা গ্রামে পৌঁছেছে। ইদ আমার কাছে আরো অর্থবহ মনে হয় আপনজনদের সাথে মিলিত হবার সুযোগ পাবার কারণে। আমাদের পারিবারিক এবং আত্মিক বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে তোলে ইদ নামক মিলনমেলা। এভাবেই ইদ বয়ে আনুক প্রতিটি প্রাণের মাঝে অপার আনন্দ ও সম্পর্কের মাঝে দৃঢ়তা।মুসলিমদের এই ত্যাগের মহিমা মহাকাল থেকে মহাকালে অম্লান থাকুক।
মাহজুবা তানিজ
শিক্ষার্থী,সমাজকর্ম বিভাগ

Ecare Solutions
, ,
শর্টলিংকঃ