২১ আগস্টের ১৮ বছর উপলক্ষে নির্মূল কমিটির ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত

Ecare Solutions

আজ ২৩ আগস্ট (২০২২) বিকেল ৩টায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৮ বছর উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ‘বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়।

উক্ত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। সভাপতিত্ব করেন ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।

সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস, ইন্সটিটিউট অব কনফ্লিক্ট ল এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক এলাহী, প্রাক্তন আইজিপি নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস বল, ব্লগার এ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর যুগ্ম সম্পাদক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লেখক মারুফ রসুল, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভিন, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় আইন সহায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট নাসির মিয়া এবং নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।

সভাপতির সূচনা বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘৪৭ বছর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যারা যে সব কারণে হত্যা করেছিল তারাই নেপথ্যে থেকে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে বার বার হত্যার উদ্যোগ ও ষড়যন্ত্র করেছে এবং এখনও করছে। ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের নৃশংস হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘাতকদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর কন্যা সহ গোটা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করা যে দলের নেতৃত্বে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের মৌলবাদী সহযোগীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছিল এবং বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারে মাঠ পর্যায়ের ঘাতকদের শাস্তি হলেও যে রাজনীতি ও সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড আমাদের দেশে সংঘটিত হয়েছে তার বিচার হয়নি। ঘাতকদের দল শুধু রাজনীতিই করছে না, প্রকাশ্যে শ্লোগান দিচ্ছে- ’৭৫-এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার।’ এই সব দল বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের আফগানিস্তান কিংবা জেনারেল জিয়াউল হকের পাকিস্তানের মতো মৌলবাদী সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা ওয়াজ বা কোনও সমাবেশে যেভাবে ভিন্নধর্ম ও ভিন্নমতের অনুসারীদের পাশাপাশি সংবিধান ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত করছে তা আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার উপর আঘাত বলে আমরা মনে করি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হত্যার ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে। আমরাও মনে করি, জাতির পিতার কন্যাদের হত্যা না করা পর্যন্ত বাংলাদেশে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চলতেই থাকবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে ধর্মের নামে রাজনীতি ও সন্ত্রাস নিষিদ্ধ করতে হবে। যারা পর্দার আড়ালে থেকে যে রাজনীতির কারণে বঙ্গবন্ধুর কন্যার উপর বার বার হামলা করেছে এবং হত্যার উদ্যোগ নিয়েছে সেই রাজনীতি এবং তার মূল নেতৃত্বকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে আমরা সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার নিশ্চিত করার প্রয়োজনে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠন করে ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের প্রকৃত চেহারা এবং তাদের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের রাজনীতি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।’

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি কমিশন গঠনের জন্য নির্মূল কমিটির দাবি সমর্থন করে বলেন, ’২১ আগস্টের কুশীলব কারা ছিলেন তা অবশযই খুঁজে বের করে জনসমক্ষে প্রবেশ করতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে কাজ করছি এ বিষয়ে। কয়েজনককে চিহ্নিত করেছি। খুব শিগগির এ বিষয়ে আমাদের কাজের একটা আশাব্যঞ্জক সমাধানে পৌঁছাতে পারবো। আমি আমাদের করণীয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ সবার কাছ থেকে সুচিন্তিত মতামত চাইছি। আজকের অনুষ্ঠনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য সুপারিশ আকারে আমার কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। এটি পড়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।’

মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস বলেন, ‘২১ আগস্টের ঘটনার দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। ঘটনায় আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম। নিরাপত্তার জন্য আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিসে গিয়েছিলাম। সেসময় পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে। জানতে পারি হামলায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বেঁচে বেঁচে গেছেন এবং এই ঘটনা নানাভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মানসিকতাও দেখেছি। আমি ’৭১-এ বাংলাদেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখেছি। আমি দেখেছি ভারতে আশ্রয়শিবিরের বাংলাদেশি সব ধর্মের মানুষের কিভাবে কাধে কাধ মিলিয়ে অবস্থান নিয়েছিল। বাংলাদেশের অভ্যুদয় হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু এদেশের শাসন পরিচালনা করেছিরেন অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। তিনি ঈদ-এ মিলাদুন্নবীর এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে বলেছিলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। তিনি সব ধর্মের মানুষের অবস্থান নিশ্চিত করেছিরেন। আমি গত কয়েক বছর আগে রোহিঙ্গা শিবির দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি কিভাবে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মানুষকে কতটাক মমতার সঙ্গে আশ্রয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেচে। তাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে মায়ানমারের একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি হলেও দেশটি তাদের নাগরিকদের ফেরত নিচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার জন্য জাতিসংঘের কার্যকর উদ্যোগ নিলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।’

ইন্সটিটিউট অব কনফ্লিক্ট ল এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্র, রাজনৈতিক ও সংগঠন, জঙ্গিবাদ এই মোদ্দা বিষয়ে আলোচনা করতে পারি। রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও রাষ্ট্রযন্ত্র- এই তিনটি বিষয়ের উপরই ভিত্তি করে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যাসহ শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা করার জন্যই ২১ আগস্টে হামলা করেছে স্বাধীনতাবিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার এই অগ্রযাত্রাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এজন্যই শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি জঙ্গিবাদকে অগ্রসর করছে। জঙ্গিবাদ নির্মূলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী দক্ষভাবে জঙ্গিবাদকে নিয়ন্ত্রণ করেছে কিন্তু জঙ্গিবাদের যারা অর্থায়ন করছে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ কিংবা দমন করা যাচ্ছে না। যে রাজনীতি ২১ আগস্টের ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রাক্তন আইজিপি নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার বলেন, ‘দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর দলের নেতৃবৃন্দের উপর যারা হামলা করেছে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। তারা চেয়েছে যাতে পাকিস্থানে আবার ফিরে যায় বাংলাদেশ। ১৫ আগস্টের ঘটনার স্বাক্ষী আমি, যেগুলো আমি আমার লিখিত বইয়ে উল্লেখ করেছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখন দেশের হাল ধরলেন তখন স্বাধীনতাবিরোধীরা দেখলো তিনি দেশের উন্নয়ন করছে তা তাদের চোখে কাটা হয়ে দাঁড়ালো। পাকিস্তানের আইএসআই এর সাহায্য নিয়ে এই ঘটনায় জড়িত দুজন অফিসার হারিস চৌধুরী ও সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে ২১ আগস্ট ঘটনার পরিকল্পনা করেছিলেন। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আফগান ফেরত জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যরাও। এই ঘটনায় যাদের নাম সামনে এসেছে তারা ছাড়াও আরও অনেকে জড়িত ছিল। তাদেরকে চিহ্নিত করা দরকার। ’৭৫-এর এমন হয়েছে। আড়ালের মানুষরা আড়ালেই রয়ে গেছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টেও এমন হয়েছে। কুশীলবদের অনেকের নাম আড়ালে থেকে গেছে। তাদেরকে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

ইষ্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক এলাহী বলেন, ‘পুলিশ দাবি করছে হলি আর্টিজানের পর আর কোনো বড় ঘটনা হয়নি। আমি ভিন্ন মত পোষণ করি। দলীয় মদদে জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটছে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ ইমাম কওমি মাদ্রাসা থেকে এসেছে। আমি সম্প্রতি যে মসজিদের নামাজ পড়তে গিয়েছি সে মসজিদেও ইমাম খুতবায় বলছিলেন ইসলামের দৃষ্টিতে সঙ্গীত নিষিদ্ধ। এতে আমি দ্বিমত পোষণ করে বলি অনেক আগে থেকেই সঙ্গীত প্রদর্শন হয়ে আসছে। এতে কোনো ধর্মীয় বিরোধিতা নেই। তবে যেটা আছে সেটা হচ্ছে অশ্লীলতা করা যাবে না। এই কমেন্ট করার পর উপস্থিত অনেকেই আমার কথার প্রতিবাদ জানায়। সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবেই এমনটা হয়েছে। উগ্রবাদ পরিহার করে ইসলামে মূল ভাব যেটা হাজার বছর ধরে পালন হয়ে আসছে তার চর্চা করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস বল বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট আমরা দেখেছি বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারকে নৃশংসভাবে নিহত হতে। এরপর থেকেই  বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন যাবত তাদের স্বপ্নগুলোকে একের পর এক ধুলিস্যাৎ হতে দেখে নিরাপত্তাহীনতায় জীবন যাপন করছে। এরপর আমরা দেখলাম ২১ শে আগস্ট এর বোমা হামলা। এই বোমা হামলার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু একুশে আগস্টে নয়, অসংখ্যবার বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছ। খুনি জল্লাদরা বুঝে গেছে, শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে বাংলার মানুষেরা নিরাপদ মনে করে, তার অস্তিত্বই কোটি কোটি মানুষের কাছে জীবনের নিরাপত্তা। আমরা বিশ্বাস করি, জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত হবে, বাংলার মানুষ ধর্ম বর্ণ জাতি নির্বিশেষে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে, একে অপরের কাঁধে হাত রেখে পথ চলতে পারবে একসাথে।’

নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল বলেন , ‘যে মানসিকতা ৭৫ এর পটপরিবর্তনের চারা গজিয়েছিল তা আজ বিষবৃক্ষে রূপান্তরিত হয়েছে- যেমন মৌলবাদ, ধর্মীয় স্পর্শকতারতা, অসহিষ্ণুতা এবং ধর্মকে রাজনীতিকরণ। শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থায় ধর্মের প্রভাব প্রতিফলিত। আজ পর্যন্ত মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে না পারায় দেশের বর্তমান এই অবস্থা। অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধরে রাখতে হলে আইনের ভূমিকা, গণতন্ত্রের চর্চা, বহুসংস্কৃতির সমাজ ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে হবে। দেশ জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের।’

ব্লগার এ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা বলেন, ‘জামাত শিবিরের সাথে জোটবদ্ধ বিএনপি দেশের সমৃদ্ধ চিত্র দেখতে চায় না। এরা বঙ্গবন্ধুর পরে শেখ হাসিনাকেও নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ও বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য বানাতে বারবার চেষ্টা করেছে এবং এখনও করছে। আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টায় পেট্রোল বোমা মেরে পুড়িয়ে হত্যা করেছে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত বহু সাধারণ মানুষকে। এসব হত্যার দায়ে দল হিসেবে তাদের বিচার হয়নি। সংগঠন হিসেবে হরকাতুল জিহাদ নিষিদ্ধ হয়েছে কিন্তু একই অপরাধ করেও বিএনপি বা জামাত শিবিরের বিচার হচ্ছে না, এরা নিষিদ্ধ হচ্ছে না। দল হিসেবে বিচার না হলে এরা বারবার হত্যা করবে, হত্যা চেষ্টা করবে, শুধু সহযোগী বদলাবে। শেখ হাসিনা বা বাংলাদেশের অস্তিত্ব, কোনোটাই এদের হাতে নিরাপদ নয়। আজ এই আগস্ট মাসে দাবি করছি, দল হিসেবে বিএনপি-জামায়াতের বিচার হোক।’

নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর যুগ্ম সম্পাদক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লেখক মারুফ রসুল বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশ আজ যেমন একটি শক্ত অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে মনে করি। সাইবার জগত এখন জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যেমন কার্যকর, তেমনি নিরাপত্তা বিঘ্নের জন্য দায়ী। এ জন্য এ বিষয়ে নজর দানের জন্য আমি সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভিন বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক প্রতিটা হামলার আগেই অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মোকাবিলা করতে হবে যাতে করে সাধারণ মানুষ বোঝে যে, দেশে একটি মহল ধর্মীয় উগ্রবাদকে উস্কে দিতে চাইছে আর সরকার সাধারণ মানুষের জানমাল ও মানবিক অধিকারকে সুরক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দেশের সমৃদ্ধির জন্য আমাদেরকে অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা বাড়াতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প সামনে আসেনি। শেখ হাসিনাকে রক্ষা করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করা যায়নি কিন্তু তাঁর সুযোগ্য কন্যা দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের মাঝে নিরাপদ রাখতে চাই। তিনি নিরাপদ থাকলেই বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে।’

নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় আইন সহায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট নাসির মিয়া বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ধর্মীয় নিরপেক্ষতা নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে স্বাধীনতাবিরোধীরা। তারই অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও বারবার হত্যাচেষ্টা করেছে এই অপশক্তি। তাদের হাতে দেশ ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিরাপদ নয়। যার একটি উদাহরণ রসরাজ। পিবিআই ও সিআইডি কর্তৃক ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টে রসরাজ দাসের মোবাইল, ফেইসবুক আইডি, মেমোরীকার্ডে কথিত ধর্ম অবমাননার ছবি পোস্ট করার কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তথাপি তদন্তকারী কর্মকর্তা যেনতেন ভাবে রসরাজ দাসকে অভিযুক্ত করে পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। অশুভ শক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি এভাবে অপকর্ম করছে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড বোমা হামলার উপর নির্মত শাহরিয়ার কবিরের প্রামাণ্যচিত্র ‘জিহাদের প্রতিকৃতি’র সংক্ষিপ্ত ভাষ্য প্রদর্শিত হয়।

Ecare Solutions
শর্টলিংকঃ