বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে অস্ট্রেলিয়া নির্মূল কমিটির আলোচনা সভা

Ecare Solutions

আজ (২৭ আগস্ট ২০২২) বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিডনির লাকেম্বায় ফোরাম ফর সেক্যুলার বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া চ্যাপ্টার (একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, অস্ট্রেলিয়া শাখা) ‘বঙ্গবন্ধু ও ধর্মনিরপেক্ষতা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৌলবাদ প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সংগঠনের সভাপতি ডাঃ একরাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে অনলাইনে যুক্ত হোন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা জব্বার। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।

অস্ট্রেলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রিতু, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহমান বেলাল, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী চট্টগ্রাম ইসলামিয়া কলেজের সাবেক ভিপি ইফতেখার ইফতু, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অস্ট্রেলিয়া শাখার সাবেক সভাপতি মুহিতুল ইসলাম সুজন এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের প্রাক্তন ছাত্র নেতা শফিকুল আলম।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনূর রশীদ, নির্মূল কমিটি অস্ট্রেলিয়া শাখার সহসভাপতি হাসান শিমুল ফারুক রবিন, সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ সিদ্দিকী, সংস্কৃতি সম্পাদক কাজী আশফাক রাহমান, সংগঠনের অস্ট্রেলিয়া শাখার সদস্য তানভীর কেনেডী ও ডেভিড বালা।

অন্যান্যদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ত্রাণ উপকমিটির সদস্য ডাঃ মির্জা খালেদ আল আব্বাস, মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শুভজিৎ ভৌমিক, শহীদ সন্তান সাদের উদ্দিন, অস্ট্রেলিয়া মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাশফী আলম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের জুমসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার রহমান।

প্রধান অতিথির ভাষণে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে বলেন, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বাংলাদেশে যেভাবে শেকড় গেঁড়েছে তা উপড়ে ফেলা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি দীর্ঘদিন যাবত সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করছে উল্ল্খ্যে করে মন্ত্রী  তাদেরকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘বিটিআরসি’র মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের আপত্তিকর পোস্ট ও কমেন্ট মুছে ফেলার জন্য একটি অ্যাপস তৈরির পরিকল্পনা করছি।ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট রিপোর্ট করে তা মুছে ফেলার ক্ষেত্রে আগে আমাদের সফলতার হার ছিল ৫ ভাগ, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ ভাগে। মৌলবাদী সন্ত্রাস নির্মূলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অগ্রণী। আমরা  সন্ত্রাস নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এ বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছি।শহীদজননী জাহানারা ইমামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী  বলেন, তিনি যে পথ দেখিয়ে গেছেন সেই পথেই  আমরা চলছি। স্বাধীনতা বিরোধী মুক্ত অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে তাঁর কর্মজীবন আমাদের কাছে পাথেয়। ইসলামিক রিপালিক পাকিস্তানকে পরাস্ত করে জাতির পিতা।

তিনি আরও বলেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব  ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিসহ দেশের শান্তি , অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী শুধু ফেসবুক ব্যবহার করছে না, ওরা ইনস্ট্রাগ্রাম, ইউটিউব, লিংকেডিনসহ আরো অনেক মাধ্যম ব্যবহার করছে, ফলে আমাদের শুধু ফেসবুকের দিকে খেয়াল রাখলে চলবেনা। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর দিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রী একটি কমন ডাটাবেজ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে অশুভ শক্তির বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান।

নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক বাংলাদেশ গড়ার বয়ান কীভাবে আরো সঙ্গবদ্ধভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায় সেটি ভাবতে হবে। একটি কমন ডাটাবেজ আমাদের থাকতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী শুধু ফেসবুক ব্যবহার করছে না, ওরা ইনস্টগ্রাম, লিংকেডিন সহ আরো অনেক মাধ্যম ব্যবহার করছে, ফলে আমাদের শুধু ফেসবুকের দিকে খেয়াল রাখলে হবে না। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর দিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’

আলোচনা সভায় অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রিতু বলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ১৯৭১ সালের এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল দেশ স্বাধীনের জন্য, ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণাকারী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহিম বেলাল বলেন, ‘৯০% এর বেশি মুসলমানদের দেশে কোনো ধর্মীয় জেহাদের প্রয়োজন নেই। মৌলবাদ ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে অস্থির করে তোলা। ডিজিটাল আইনের প্রয়োজন আছে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য। তবে এই আইনের ব্যাপক অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে।’

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনূর রশীদ বলেন, ‘মৌলবাদী চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ সামাজিক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীতে হিংসা এবং বিভাজনের রাজনীতির জন্ম দিচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। প্রগতিশীল সকলকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে না তোলা গেলে এদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব না।’

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘সাইবার ক্ষেত্র জিহাদ আকৃষ্ট করার নতুন একটি প্লাটফর্ম। জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাইবার কাউন্টার জিহাদ কেমন করে করতে হবে তার একটি রূপরেখা আমাদের তৈরি করতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমাদের সামনে এগোতে হবে। জঙ্গি গোষ্ঠীরা অনলাইনে একের পর এক জিহাদের মোটিভেশন দিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে প্রতিহত করতে হলে সরকার এবং আমাদের মধ্যে একটি সমন্বয় থাকা দরকার।’

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাবেক ছাত্রনেতা ইফতেখার উদ্দিন ইফতু বলেন, ‘সরকারের জঙ্গি দমন কার্যক্রম যত জোরালো ছিল মৌলবাদের ডিজিটাল আগ্রাসন রুখতে তেমন কোনো জোরালো কর্মসূচি দৃশ্যমান নয়। ধর্মের দোহাই দিয়ে একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প সামাজিক মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে। এ অশুভ চর্চা আর চলতে দেয়া যায় না।’

অস্ট্রেলিয়া ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি মুহিদুল ইসলাম সূজন বলেন, ‘মৌলবাদীরা ইতোমধ্যে সাংস্কৃতিক জগত ও নারীরা তাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ওদের প্রতিরোধ করতে তাই সাংস্কৃতিক কর্মী ও নারীদের বিশেষভাবে সক্রিয় হতে হবে। অনলাইনে মৌলবাদীদের জিহাদ প্রতিরোধে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’

সেক্যুলার বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার বিস্তারকে জঙ্গিবাদের মতোই শূন্য সহিষ্ণুতায় দেখতে হবে। রামু, নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জসহ গত এক দশকে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসগুলো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ, যাদের ভিকটিম বানানো হয়েছে, তারা বিনা কারণে জেল খেটেছেন, অনেকে বাড়িঘর ছেড়েছেন, এমনকি দেশ ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন।’

সেক্যুলার বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার সহসভাপতি হাসান শিমূল ফারুক রবিন বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক গুণাবলীর অধিকারী হওয়া, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মতামতকে সম্মান দেখানো। গোটা বিশ্বেই আজ এমন একটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে যা কিনা মানবসভ্যতার জন্য হুমকি স্বরূপ। এই সকল অপতৎপরতা থেকে সমাজ ও সমাজের মানুষকে রক্ষা করতে সমাজের সুশীল মানুষগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে কঠোরভাবে অতিদ্রুত মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

নির্মূল কমিটির সংষ্কৃতি সম্পাদক কাজী আশফাক রহমান বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সরকার যদিও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছে প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তার প্রতি প্রধান হুমকি হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, যারা এই আইনের সুযোগ নিয়ে ভিন্ন ধর্ম ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্মূল করে বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের আফগানিস্তান বানাতে চাইছে।’

সেক্যুলার বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর কেনেডী বলেন, ‘বর্তমানে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সুসংগঠিত এবং বিস্তৃত। সেই তুলনায় অসাম্প্রদায়িক শক্তির পাল্টা জবাব এই মাধ্যমে সুসংগঠিত নয়। সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদ উস্কানীমূলক অপতৎপরতার জন্য শাস্তির বিধান ও প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং পৃষ্ঠপোষকতার বিধান থাকতে হবে।’

সভাপতির ভাষণে সংগঠনের সভাপতি ডাঃ একরাম চৌধুরী বলেন, ‘তিন দশকেরও অধিককাল পূর্বে আমরা শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যে অভূতপূর্ব নাগরিক আন্দোলনের সূচনা করেছিলাম তার দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, ’৭১-এর গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং স্বাধীনতাবিরোধী গণহত্যাকারীদের ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্মনিরপেক্ষ কল্যাণ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলা। স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে ইসলামের দোহাই দিয়ে ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন মত এবং ভিন্ন জীবনধারার অনুসারী নাগরিকদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অমুসলিম ও মুক্তচিন্তকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার প্রতি তারা ক্রমাগত বিষোদগার করছে। একটি কথা পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে যে ধর্মনিরপেক্ষতা না থাকলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।’

নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ধর্মীয় মৌলবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নানারকম মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের দালাল, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলে মুসলমান থাকবে না ইত্যাদি অপপ্রচার করেছিল। একইভাবে বর্তমানে আফগানিস্তানে অবৈধভাবে ক্ষমতাদখল করে ধর্মের নামে তালেবান জঙ্গিরা নানারকম মিথ্যাচার ও গুজবের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছে। আজকে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ প্রত্যেক অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে তালেবানের পক্ষে নানারকম মিথ্যাচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এ সকল ভ্রান্ত প্রচারের বিষয়ে আশেপাশের মানুষসহ সবাইকে সচেতন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ যোগদান করেন। অনুষ্ঠানটি জুম এবং ফেসবুকে লাইভ এর মাধ্যমে প্রচারিত হয়।   

Ecare Solutions
শর্টলিংকঃ