নোবিপ্রবিতে ষোলো বছরেও স্থাপিত হয়নি মুক্তমঞ্চ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

Ecare Solutions

মো.রিয়াদুল ইসলাম, নোবিপ্রবি

প্রতিষ্ঠার ষোলো বছর পেরিয়ে গেলেও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মুক্তমঞ্চ’ স্থাপন করা হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। সেই সাথে অতিসত্বর ক্যাম্পাসে একটি মুক্তমঞ্চ স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছে তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় যুগেও কোন মুক্তমঞ্চ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি স্থাপনের দাবী জানিয়েছে নোবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন গ্রুপ এবং শিক্ষার্থীরা নিজেদের টাইমলাইনে দাবী জানালে এর সমর্থন করে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বর্তমান অনেক শিক্ষার্থী।

তাদের দাবি, একটি মুক্তমঞ্চ বা সাংস্কৃতিক চর্চার সুনির্দিষ্ট প্লাটফর্ম না থাকায় সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা। দেশের ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির ধারা বজায় রাখতে দ্রুততম সময়ে মুক্তমঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবী এসব শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি প্রেমি বেশ কিছু শিক্ষার্থী বাংলা প্রবাহকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলো অলাভজনক হওয়ায় বড় কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আর্থিক সাহায্যের জন্য তাদের প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। রয়েছে সুনির্দিষ্ট জায়গার সংকট। একই সাথে কোনো বিভাগ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে গেলেও স্থান নিয়ে সমস্যা পোহাতে হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষ্ঠানের জন্য অডিটোরিয়ামে নির্ভর থাকায় এর উপরও চাপ বাড়ছে। সপ্তাহের প্রায় দিনইগুলোতে আলোচনা সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান লেগেই থাকে একমাত্র অডিটোরিয়ামে।

শিক্ষার্থীরা আরোও বলেন,অনুষ্ঠান আয়োজনে বাঁশের একটি মঞ্চ তৈরি করতে গেলেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। বিভিন্ন সময় এসব মঞ্চে অনুষ্ঠান চলাকালীন দুর্ঘটনা ঘটে আহত হওয়ারও শঙ্কা থাকে। অন্যদিকে স্থায়ীভাবে একটা মুক্তমঞ্চ করা হলে মঞ্চ তৈরির ব্যয় যেমন কমে যাবে, তেমনি দুর্ঘটনার শঙ্কাও অনেকাংশে কমে যাবে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আশেকুর রহমান বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে আমাদের পর্যাপ্ত জায়গার অভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো মুক্তমঞ্চ নেই। বর্তমানে অডিটোরিয়ামই আমাদের ভরসা। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মুক্তমঞ্চ স্থাপন খুব প্রয়োজন। আশা রাখছি অচিরেই শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে এদিকে নজর দিবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আক্তারুজ্জামান সবুজ বলেন, মুক্তমঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক দর্পন হিসেবে কাজ করে। মুক্তমঞ্চ মত প্রকাশের উন্মুক্ত স্থান চার দেয়ালের গন্ডির বাইরে খোলা আকাশের নিচে একটি প্লাটফর্ম রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক চর্চাসহ বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো অনুষ্ঠানগুলো করতে পারবে। মুক্তমঞ্চ স্থাপন অডিটোরিয়ামের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বাংলা প্রবাহকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মুক্তমঞ্চ স্থাপনের দাবির বিষয়ে ছুটির পর ক্যাম্পাস খুললে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করব। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে স্থান ঠিক করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

Ecare Solutions
,
শর্টলিংকঃ