সংবিধানের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মূল কমিটির আলোচনা সভা আগামীকাল

Ecare Solutions

৩০ লক্ষ শহীদের আত্মদান এবং প্রায় ৫ লক্ষ মা-বোনের চরম ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী তাঁর সহযোগীরা জাতিকে যে সংবিধান উপহার দিয়েছেন সেটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত।

এই সংবিধানে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি  হিসেবে গৃহীত হয়েছে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ; যা ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূর্ত রূপ। এই চার নীতি অন্য অনেক আধুনিক রাষ্ট্রের সংবিধানে থাকলেও ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা ১৯৭২-এর ৪ নবেম্বর গৃহীত বাংলাদেশের মূল সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে নিশ্চিত করার জন্য ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কারণ মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে যাবতীয় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল ধর্মের দোহাই দিয়ে।

শুধু ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে নয়, বর্তমানে বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বে ইসলামের নামে যে ভয়াবহ সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হচ্ছে তার আদর্শিক প্রণোদনা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর ‘মওদুদিবাদ’, তথা ‘ধর্মের নামে রাজনীতি’। জামায়াত ’৭১-এ যেভাবে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ সহ মানবতাবিরোধী যাবতীয় অপরাধকে ইসলামের নামে বৈধতা দিয়েছিল তারা এবং তাদের দেশী-বিদেশী সহযোগীরা এখনও তাই করছে, যে কারণে জামায়াত তথা ধর্মের নামে সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের কোনও বিকল্প নেই।

আমরা গত ৩১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর সংবিধান পুনঃপ্রবর্তনের জন্য আন্দোলন করছি। ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ প্রতি বছর ৪ নবেম্বর ‘সংবিধান দিবস’ পালন করে। এই ঐতিহাসিক দিনটি সরকারিভাবে পালনের জন্য আমরা দীর্ঘকাল যাবৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাজোট সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি।

এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা আগামীকাল ০৪ নবেম্বর (২০২২), শুক্রবার, বিকেল ৩টায় বাংলাদেশের সংবিধানের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে (৩য় তলা) এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এমপি।

উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করবেন ১৯৭২-এর সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসংগ্রামী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী সমাজকর্মী আরমা দত্ত এমপি, নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ১৯৭১: গণহত্যা- নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মানবাধিকার নেতা কাজী রিয়াজুল হক এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মোঃ মোখলেসুর রহমান বাদল।

Ecare Solutions
শর্টলিংকঃ