বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানীর মৃত্যুতে নির্মূল কমিটির শোক প্রকাশ

Ecare Solutions

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা বিচারক এবং মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনের পুরোগামী নেতা বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানীর (৮৫) মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’।

আজ সংগঠনের এক শোক বিবৃতিতে বলা হয়- ‘সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা বিচারক, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে আমাদের পুরোগামী নেতা বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানীর আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা অত্যন্ত শোকাহত।

‘১৯৯২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০০১ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। ২০০২ সালের ১০ জানুয়ারি অবসর গ্রহণের পরও আপিল বিভাগে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন তিনি। আইন ও সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের ওপর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি।

‘মুসলিম ব্যক্তিক আইনের বেশ কিছু সময়োপযোগী ব্যাখ্যা এসেছে বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানীর রায়ে। ফতোয়া- সংক্রান্ত তাঁর দেওয়া রায়টি জনস্বার্থে অনেক বড় অর্জন। রায়টিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত দেন যে, আদালত ছাড়া কোনো ব্যক্তি মুসলিম আইনের ব্যাখ্যা কিংবা সিদ্ধান্ত- যা ফতোয়া নামে পরিচিত দেয়ার অধিকারী নন।’

‘অবসর গ্রহণের পর থেকে আমৃত্যু বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী ছিলেন নির্মূল কমিটির পুরোগামী নেতা। ২০১০ সালে ৬ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি নির্মূল কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৭ সালে সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হন। ’৭১- এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ এবং ’৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রবর্তনের দাবিতে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশে নির্মূল কমিটির সভা, সমাবেশ, জনসভা এবং মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছেন, বিভিন্ন সভায় সভাপতিত্ব করেছেনÑ যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে তিনি ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধসমূহ (ট্রাইবুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সহজপাঠ রচনা করেন।

‘২০০৮ সালে শহীদজননী জাহানারা ইমামের চতুর্দশ মৃত্যুবার্ষিকীতে বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী ‘ধর্ম বনাম অধর্মের বিচার- প্রেক্ষিত: বাংলাদেশ’ শীর্ষক ‘জাহানারা ইমাম স্মারক বক্তৃতা’ প্রদান করেন।

‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বাংলাদেশের মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনে আমাদের পুরোগামী নেতা বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানীর মৃত্যুতে আমাদের নেতৃত্বে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবে না।

আমাদের আন্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করবার পাশাপাশি আমরা তাঁর পরিবারের শোকসন্তপ্ত সকল সদস্য ও অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।’

 

শোক বিবৃতিতে সাক্ষর করেন- বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অধ্যাপক অনুপম সেন, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, সমাজকর্মী মালেকা খান, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুননবী, অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, জননেতা ঊষাতন তালুকদার, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, চলচ্চিত্রনির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ, অধ্যাপক ডাঃ কাজী কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অবঃ) আলমগীর সাত্তার বীরপ্রতীক, ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাহাবউদ্দিন আহমেদ বীরউত্তম, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুর রশীদ (অবঃ), অধ্যাপক ডাঃ আমজাদ হোসেন, ড. নূরন নবী, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদজায়া সালমা হক, কলামিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, অধ্যাপক শিল্পী আবুল বারক আলভী, সমাজকর্মী কাজী মুকুল, কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক আয়েশ উদ্দিন, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ডাঃ ইকবাল কবীর, সমাজকর্মী সুব্রত চক্রবর্ত্তী, ভূতত্ত্ববিদ মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী, সমাজকর্মী শফিকুর রহমান শহীদ, এডভোকেট আবদুস সালাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক আবদুল গাফ্ফার, কবি জয়দুল হোসেন, সমাজকর্মী কাজী লুৎফর রহমান, সাবেক জাতীয় ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু, সমাজকর্মী কামরুননেসা মান্নান, এডভোকেট আজাহার উল্লাহ্ ভূঁইয়া, অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া, সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই ফেরদৌসী লাকী, অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব, সাংবাদিক শওকত বাঙালি, উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ নুজহাত চৌধুরী শম্পা, লেখক আলী আকবর টাবী, এডভোকেট কাজী মানছুরুল হক খসরু, এডভোকেট দীপক ঘোষ, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, শহীদসন্তান তৌহিদ রেজা নূর, শহীদসন্তান শমী কায়সার, শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, শহীদসন্তান তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, মানবাধিকারকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, মানবাধিকারকর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, মানবাধিকারকর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া, এডভোকেট আবদুল মালেক, লেখক কলামিস্ট মিথুশিলাক মুর্মু, কলামিস্ট অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভীন, মানবাধিকারকর্মী রহমান খলিলুর, সমাজকর্মী হারুণ অর রশীদ, এডভোকেট মালেক শেখ, সহকারী অধ্যাপক তপন পালিত, সাংবাদিক দিলীপ মজুমদার, সমাজকর্মী রাশেদুল ইসলাম, সমাজকর্মী ইস্রাফিল খান বাপ্পি, সমাজকর্মী শিমন বাস্কে, সমাজকর্মী শেখ আলী শাহনেওয়াজ পরাগ, সমাজকর্মী সাইফ উদ্দিন রুবেল, লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি, সমাজকর্মী ফয়সাল হাসান তানভীর প্রমুখ।

Ecare Solutions
শর্টলিংকঃ