বিচারকের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নির্মূল কমিটি

Ecare Solutions

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি একজন বিচারকের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে।

আজ সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়-‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচারিত এক খবরে আমরা মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন। নওগা জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জনাব হাসান মাহমুদুল ইসলাম তার ফেইসবুক একাউন্ট থেকে একটি পোস্টে ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ভারতের পরাজয়ের পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে লিখেছেন “খুব শান্তি পেলাম, মালাউনরা হারলে আনন্দ পাই।” উল্লেখিত পোস্টটি এসেছিল এমরান নামক এক ব্যক্তির ফেইসবুক একাউন্ট থেকে। সেখানে লেখা ছিল “ইন্ডিয়া বলছে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। ১০ উইকেট এ হার হা হা হা” উক্ত পোস্টে মন্তব্যের ঘরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জনাব হাসান মাহমুদুল ইসলাম মন্তব্যটি করেছেন বলে সংবাদে অভিযোগ করা হয়েছে।

‘উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাই করার ক্ষমতা আমাদের নেই বটে কিন্তু খবরটি দেশব্যাপী চাউর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ফেইসবুক একাউন্টটি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সেখানে উপরোক্ত জজ সাহেবের বিভিন্ন জেলায় থাকাকালীন অগণিত অনুষ্ঠানের, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ছবি রয়েছে এবং তার বহু ঘনিষ্টজনের মন্তব্যও রয়েছে বিধায় অভিযোগটি অনুসন্ধানের দাবিদার। খবরটি দেশব্যাপী বহুলভাবে প্রচারিত হবার বেশ কয়েকদিন অতিক্রান্ত হলেও উক্ত জজ সাহেব বা তার সেরেস্তা থেকে কোন প্রতিবাদ না আসায় এবং পুলিশে অভিযোগ না করায় জনমনে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে।

‘অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদটি এক অর্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তাঁর এবং পূর্ণ জেলা ও দায়রা জজের বিচারিক ক্ষমতায় কোন পার্থক্য নেই। ফৌজদারি বিষয়ে তিনি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার ক্ষমতাবান এবং দেওয়ানি বিষয়ে তার ক্ষমতা অসীম। তাই এ পদের ধারককে হতে হয় ধোয়াতুলসী পাতার মতোই পবিত্র এবং সাম্প্রদায়িকতা সহ সকল রিপুর উর্ধ্বে। এমতাবস্থায় অভিযোগটি সম্পর্কে তদন্ত অপরিহার্য। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি জনাব হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় আইনমন্ত্রী এডভোকেট জনাব আনিসুল হক এমপি মহোদয়ের নিকট আমাদের আবেদন এই যে, তাঁরা বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দেবেন এবং উক্ত বিচারক যদি ফেইসবুকে এ ধরনের কদর্য সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেবেন।’

বিবৃতিতে সাক্ষর করেন, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অধ্যাপক অনুপম সেন, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, সমাজকর্মী মালেকা খান, শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী রফিকুননবী, অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, অধ্যাপিকা মাহফুজা খানম, জননেতা ঊষাতন তালুকদার, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, চলচ্চিত্রনির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ, অধ্যাপক ডাঃ কাজী কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অবঃ) আলমগীর সাত্তার বীরপ্রতীক, ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাহাবউদ্দিন আহমেদ বীরউত্তম, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুর রশীদ (অবঃ), অধ্যাপক ডাঃ আমজাদ হোসেন, ড. নূরন নবী, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহীদজায়া সালমা হক, কলামিস্ট সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, শিক্ষাবিদ মমতাজ লতিফ, অধ্যাপক শিল্পী আবুল বারক আলভী, সমাজকর্মী কাজী মুকুল, কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক আয়েশ উদ্দিন, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ডাঃ ইকবাল কবীর, সমাজকর্মী সুব্রত চক্রবর্ত্তী, ভূতত্ত্ববিদ মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী, সমাজকর্মী শফিকুর রহমান শহীদ, এডভোকেট আবদুস সালাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক আবদুল গাফ্ফার, কবি জয়দুল হোসেন, সমাজকর্মী কাজী লুৎফর রহমান, সাবেক জাতীয় ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু, সমাজকর্মী কামরুননেসা মান্নান, এডভোকেট আজাহার উল্লাহ্ ভূঁইয়া, অধ্যাপক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া, সঙ্গীতশিল্পী জান্নাত-ই ফেরদৌসী লাকী, অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব, সাংবাদিক শওকত বাঙালি, উপাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ নুজহাত চৌধুরী শম্পা, লেখক আলী আকবর টাবী, এডভোকেট কাজী মানছুরুল হক খসরু, এডভোকেট দীপক ঘোষ, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, শহীদসন্তান তৌহিদ রেজা নূর, শহীদসন্তান শমী কায়সার, শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, শহীদসন্তান তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, মানবাধিকারকর্মী তরুণ কান্তি চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক সাব্বির খান, মানবাধিকারকর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, মানবাধিকারকর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া, এডভোকেট আবদুল মালেক, লেখক কলামিস্ট মিথুশিলাক মুর্মু, কলামিস্ট অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভীন, মানবাধিকারকর্মী রহমান খলিলুর, সমাজকর্মী হারুণ অর রশীদ, এডভোকেট মালেক শেখ, সহকারী অধ্যাপক তপন পালিত, সাংবাদিক দিলীপ মজুমদার, সমাজকর্মী রাশেদুল ইসলাম, সমাজকর্মী ইস্রাফিল খান বাপ্পি, সমাজকর্মী শিমন বাস্কে, সমাজকর্মী শেখ আলী শাহনেওয়াজ পরাগ, সমাজকর্মী সাইফ উদ্দিন রুবেল, লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি, সমাজকর্মী ফয়সাল হাসান তানভীর প্রমুখ।

Ecare Solutions
শর্টলিংকঃ