
‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১০১ জন বরেণ্য নাগরিক কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক ঘোষণার মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অভিযাত্রা। বহু বাধাবিঘ জেল-জুলুম-হত্যা মোকাবেলা করে গত তিন দশকে নির্মূল কমিটি ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের বৃহত্তম নাগরিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে এবং বিস্তার লাভ করেছে পাঁচটি মহাদেশে।
এই আন্দোলন ও সংগ্রামের তিন দশকে বহু সাফল্য রয়েছে এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের কারণে ’৭১-এর শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে, বিচারকার্য চলমান রয়েছে। তবে আমাদের প্রধান দাবি-জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন, ৩০ লক্ষ শহীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য এখনও আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, বিএনপির মদদে ’৭১-এর গণহত্যাকারী, মৌলবাদী সা¤প্রদায়িক জামায়াত-শিবির চক্র এখনও মহাদর্পে রাজনীতির অঙ্গণে বিচরণ করছে এবং ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য, বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানাবার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর বার বার আঘাত করছে। বিশেষভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাদীপ্ত বাঙালির আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি তান্ডব ও হামলায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে।’
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিপ্রায়ে প্রতিষ্ঠিত শহীদজননী জাহানারা ইমামের হাতে গড়া সংগঠন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে ২০ জানুয়ারি, শুক্রবার, বিকেল ৪টায় ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন খোলা মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপর্যুক্ত কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি, চট্টগ্রামের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, নারীনেত্রী নূরজাহান খান। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের অষ্টম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি।
সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অলিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় ২০ জানুয়ারি, বিকেল ৪টায় নগরীর জামাল খানে ডা. খাস্তগীর স্কুলের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যো আলোচনায় অংশ নেন-জেলা নির্মূল কমিটি নেতা দীপংকর চৌধুরী কাজল, শৈবাল চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন যুব, হাবিবুল্লাহ চৌধুরী ভাস্কর, প্রফেসর ড. মোজাহেরুল আলম, আহমেদ কুতুব, জাবেদুল আলম সুমন, আবু সাদাত মোঃ সায়েম, আবদুল মান্নান শিমুল, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, মিথুন মল্লিক, রোখসানা পারভিন রুবা, রুবেল আহমেদ বাবু, সুচিত্রা গুহ টুম্পা, রাজীব চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোঃ সাহাব উদ্দীন, অসিত বরণ বিশ্বাস, জিয়া উদ্দিন, আবু তৈয়ব সোহেল, মোঃ সাহাব উদ্দিন আঙ্গুর, কাজী রোকনুজ্জামান, মোঃ হায়দর আলী, হুমায়ুন ছগীর মোহন, সুমন দাশ, জাহাঙ্গীর বেগ, এম. শাহজাহান সাজু, আবদুল কাদির সুজন, মাতাব্বর সোহাগ, তারণ দাশ প্রলয়, কানিজ ফাতেমা লিমা, জয়া সিংহ, কামরুন্নাহার, জয় দে, রুবেল চৌধুরী বাবুল, শৈবাল দাশ, রিদুয়ান চৌধুরী, সাফায়েত, সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, জামশেদুল ইসলাম চৌধুরী, উৎসব মল্লিক, জয়ন্ত দে, অর্ক দ্বীপ দাশ, সঞ্জয় বিশ্বাস, সুজয় চৌধুরী, জান্নাতুল রুবি, শাহনাজ, শারমিন প্রমুখ।
সাংস্কৃতিক আয়োজনে গণসংগীত পরিবেশন করে উদীচী, চট্টগ্রাম এবং আবৃত্তিতে অংশ নেয় উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জ ও স্বপ্নযাত্রী’র সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী উমেসিং মারমা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নির্মূল কমিটির সাংস্কৃতিক স্কোয়াড জাগরণ-এর আত্মপ্রকাশকে অভিনন্দন জানিয়ে ড. অনুপম সেন বলেন, ’৭৫ পরবর্তী ভয়ঙ্কর দুঃসময়ে শহীদ জননী জাহানার ইমাম ভুলে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধকে উজ্জীবিত করেছিলেন। জাগরণকে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর উপর দাঁড় করানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রসারে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
